Thu, 15 Nov, 2018
 
logo
 

কনস্টেবল নিয়োগ বাণিজ্য: জবানবন্দী পাল্টে গেছে অভিযোগকারীদের

লাইভ নারায়ণগঞ্জ:
পুলিশের কাছে দেয়া জবানবন্দী বেমালুম ভুলে গেছে কনস্টেবল পদে নিয়োগের জন্য কোচিংএ অংশগ্রহন এবং ঘুষ দেয়া সেই চাকুরী প্রার্থীরা। গত ২৪ ফেব্রুয়ারী কনষ্টেবল নিয়োগে ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ ওঠার পর পুলিশের কাছে দেয়া জবানবন্দীতে চাকুরীর জন্য ঘুষ প্রদানের কথা স্বীকার করে জবানবন্দী দিলেও এখন তারা বলছে, পুলিশ তাদের উপর নির্যাতন করে মিথ্যা জবানবন্দী নিয়েছে।

মূলত তারা কোন টাকাই দেয়নি অভিযুক্ত এএসআই শাহাবুদ্দিন বা অন্য কাউকে। সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এমন তথ্য জানা গেছে।
সূত্রটি আরও জানায়, নারায়ণগঞ্জে কনষ্টেবল নিয়োগের নামে কোচিং সেন্টার খুলে ২০ জন চাকরি প্রার্থীর কাছ থেকে ৮০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের বিভাগীয় তদন্ত কমিটির কাছেও ঘুষ প্রদানের বিষয়টি অস্বীকার করেছে চাকুরী প্রার্থীরা। তবে তদন্ত কার্যক্রমের বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগীয় তদন্ত কমিটির প্রধান সিনিয়র পুলিশ সুপার (এসবি) পঙ্কজ ভট্রাচার্য এখনি এবিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে কোন তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।
এরআগে রোববার(১৩মে) দুপুরে স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সিনিয়র পুলিশ সুপার পঙ্কজ ভর্ট্রাচার্যের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত টিম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এসময় পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে চাকরি দেয়ার কথা বলে অর্থ নেয়ার অভিযোগকারীদের মধ্যে স্বদেশ, সিয়াম, মোস্তাকিম, রায়হান, তৌহিদ, মারুফা আক্তার মলি, রুবেলসহ কয়েকজনকে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, এরআগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারী বন্দর থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশের কাছে দেয়া জবানবন্দীতে সংশ্লিষ্টরা কনষ্টেবল পদে চাকুরী দেয়ার জন্য জনপ্রতি ৪ লাখ টাকা করে ঘুষ প্রদানের কথা স্বীকার করেছিলেন। সেই জবানবন্দী পুলিশের কাছে রেকর্ড করা আছে। রোববার তদন্ত কমিটির কাছে জবাবন্দী দেয়ার সময় চাকুরী প্রার্থীরা সেই জবানবন্দী অস্বীকার করে উল্টো পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, তাদেরকে নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের বাইতুল্লাহ মসজিদের পূর্বপাশে গালাক্সি স্কুলের ভেতরে প্রত্যাশা নামে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষার জন্য কোচিং সেন্টার খুলেন পুলিশের ঢাকার বিশেষ শাখার (এসবি) সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শাহাবুদ্দিন। পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে চাকরি দেয়ার কথা বলে স্বদেশ, সিয়াম, মোস্তাকিম, রায়হান, তৌহিদ, মারুফা আক্তার মলি, রুবেলসহ ২০ জন সদস্যদের কাছ থেকে চার লাখ করে সর্বমোট ৮০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন বাদশা ও ঢাকা এসবির সহকারী উপ-পরিদর্শক শাহাবুদ্দিন। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে বিকেল অবধি ফতুল্লার পুলিশ লাইনসের মাঠে প্রথম ধাপে শারীরিক ফিটনেসের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সেই পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর প্রকাশ পায় কোচিং সেন্টার খুলে কনষ্টেবল পদে পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং অর্থ লেনদেনের বিষয়টি। এনিয়ে জাতীয় ও স্থাণীয় মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশ প্রশাসনসহ সর্বত্র তোলপাড় শুরু হয়।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম