Thu, 20 Sep, 2018
 
logo
 

মহাটেনশনে প্রভাবশালী আইভী-শামীম

লাইভ নারায়ণগঞ্জ:
সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক ঘটনাবলীতে অন্তঃদ্ধন্ধে ভুগছেন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী দুই রাজনীতিক। পাওয়া না পাওয়ার হিসেব মিলাতে গিয়ে দুজনেই আছেন টেনশনে। একজন হলেন উপমন্ত্রীর মর্যাদাপ্রাপ্ত সিটি মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী অপরজন ৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান।

রাজনৈতিক সমিকরণে দুজনই আওয়ামীলীগ এবং সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে কেন্দ্রে কার প্রভাব বেশী-কম তা নিয়ে যেমন ব্যাপক আলোচনা রয়েছে নারায়ণগঞ্জে, তেমনি সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে মূল্যায়ন-অবমূল্যায়ন নিয়ে ভেতরে ভেতরে নাজুক পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে দুজনের মাঝেই। যার প্রতিফলন লক্ষ্য করা গেছে দুজনের মাঝেই।
ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, উপমন্ত্রীর মর্যাদাপ্রাপ্ত সিটি মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী কয়েকটি বিষয় নিয়েই গভীর টেনশনে রয়েছেন। যার একটি হলো ১৮ জানুয়ারী নারায়ণগঞ্জ শহরে হকার ইস্যু নিয়ে ঘটে যাওয়া তুমুল সংঘর্ষ  নিয়ে। সংঘর্ষে মেয়র আইভীর উপর ন্যাক্কারজনক হামলা এবং হত্যার চেষ্টার ঘটনা ঘটে। ঐ হামলায় মেয়র আইভীকে রক্ষা করতে গিয়ে ঢাল হয়ে অবস্থানকারী সমর্থকরা গুরুতর আহত হয়। এতো ঘটনার পরও থানায় মামলা পর্যন্ত নেয়া হলোনা। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে মেয়রকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা এবং অসংখ্য কর্মী সমর্থক আহতের ঘটনায় সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও তদন্তের বেড়াজালে আটকে গেছে। এতগুলো কর্মী-সমর্থক মার খেলো, হত্যা চেষ্টা করা হলো তারপরও মামলা না হওয়ায় মহা টেনশনে পড়েছেন খোদ মেয়র আইভী। অন্তরজ্বালায় ভুগছেন তিনি। তাহলে কি দল এবং সরকারের কাছে তার আগের অবস্থান নেই? যে প্রধাণমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) সকল সময়ে পাশে থেকে বুকে আগলে রেখেছেন মেয়র আইভীকে। শত বাধা বিপত্তি পেরিয়ে দলের মনোনয়ন দিয়ে মেয়র নির্বাচিত হতে সহায়তা করেছেন, উপমন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে গোটা নারায়ণগঞ্জকে সম্মাণিত করেছেন। সেই মেয়র আইভীকে হত্যার জন্য হামলা হলো, সকল মিডিয়ায় একযোগে ঘটনাচিত্র তুলে ধরলো। সারাদেশে আলোড়ন হলো। তারপরও কেন আইনগত ব্যবস্থা নিতে দেয়া হলোনা। এ প্রশ্ন মেয়র আইভীসহ কর্মী সমর্থকদের মাঝে বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে। ব্যাথিত করেছে সকলকে।
 এছাড়া আরো একটি ঘটনায় টেনশনে জনপ্রিয় এ মেয়র। মেধাবী শিক্ষার্থী তানভীর মোহাম্মদ ত্বকি হত্যাকান্ড। বার বার দাবি তোলা সত্বেও মেধাবী এই শিক্ষার্থী হত্যা মামলার কোন সুরাহা হলোনা। সরকার কেন এই মামলার দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করছে না তা নিয়েও টেনশনে মেয়র আইভী। জেলা আওয়ামীলীগের এক নেতা জানান, আমি নিজকানে শুনেছি প্রধাণমন্ত্রী নিজে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, ত্বকি কে তোমরা হত্যা করনি? তখন চুপসে গিয়েছিলেন এক সাংসদ। তারপরও চাঞ্চল্যকর ত্বকি হত্যার বিচার না হওয়ায় হতাশ মেয়র আইভীসহ গোটা নারায়ণগঞ্জবাসী। এসব বিষয় নিয়ে প্রচন্ড চাপে টেনশনে অনেকটাই ঘুম হারাম মেয়র আইভীর।
অপরদিকে নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী সাংসদ একেএম শামীম ওসমান। যার এক ডাকে লাখো লোকের সমাগম ঘটে। ৯৯’র বিএনপির লংমার্চ আটকে যিনি সারাদেশে পেয়েছেন গডফাদার উপাধী। যদিও শামীম ওসমান নিজে বলে থাকেন সেদিন তিনি লংমার্চ ঠেকাতে নয় বরং দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে লংমার্চকারীদের নিরাপদে নারায়ণগঞ্জ পাড় করে দিতে ভূমিকা রেখেছিলেন। তারপরও বিরোধী দল ও মিডিয়ার সুবাদে গডফাদার উপাধী পেয়েছেন তিনি। সেই শামীম ওসমানের কথায় আক্ষেপের সূর। যা করেছি দলের জন্য করেছি।  এখন দলে আমার প্রয়োজন কি ফুরিয়ে গেছে। অবমুল্যায়নের চরম পর্যায়ে এসে শামীম ওসমানের উক্তি ‘আমার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে বলে দিক, দল ছেড়ে দিবো, রাজনীতি ছেড়ে দিবো। আর ভালো লাগেনা। এখনকার রাজনীতি নোংড়া হয়ে গেছে।’ এসব আক্ষেপের কারণ হিসেবে ঘনিষ্ট সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, যে শামীম ওসমানের কথাই নারায়ণগঞ্জের জন্য দলের হাই কমান্ডের কাছে ছিলো শেষ কথা। ২০১১ সালে প্রথম সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়ন থেকে শুরু করে মহানগর আওয়ামীলীগের কমিটিসহ সর্ব বিষয়ে শামীম ওসমানকে প্রধান্য দিয়েছে কেন্দ্র। সেই শামীম ওসমান এখন দলের হাইকমান্ডের কাছে চরম অবমূল্যায়নের শিকার।
জেলা আওয়ামীলীগের কমিটি গঠনে শামীম ওসমান বলয়কে অবজ্ঞা, এর আগে সিটি নির্বাচনে চরম বিরোধিতার পরও আইভীকে নৌকার মনোনয়ন প্রদান, মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর আলাদা গেজেট করে আইভীকে উপমন্ত্রীর মর্যাদা প্রদান। আইভীর দেয়া তালিকায় জেলা কমিটি অনুমোদন, এসবকিছুই শামীম ওসমানকে অবমূল্যায়ন বলেই মনে করছেন তিনি ও তার সমর্থকরা।
শুধু তাই নয়, বর্তমান সরকারের আমলে নারায়ণগঞ্জ থেকে একজন মন্ত্রী করার জল্পনা-কল্পনা ছিলো পুরো সময় জুড়েই সেই আলোচনায় শামীম ওসমানের নাম ছিলো এক নম্বরে। মেয়র আইভীকে যখন উপমন্ত্রীর মর্যাদা দেয়া হয়, তখন ধরে নেয়া হয়েছিলো সর্বশেষ মন্ত্রী সভার রদবদলে শামীম ওসমান মন্ত্রীত্ব পাবেন। অন্তত দুই প্রভাবশালী রাজনীতিকের মাঝে ব্যালেন্স করার জন্য হলেও শামীম ওসমানকে মন্ত্রীত্ব দেয়া হবে। কিন্তু সকল জল্পনাই ধুলিস্যাৎ হয়েছে। বর্তমানে অনেক সিনিয়র রাজনীতিক এমপি শামীম ওসমানের চেয়ে উপমন্ত্রীর মর্যাদাপ্রাপ্ত মেয়র আইভী কয়েক ধাপ এগিয়ে। এছাড়া কেন্দ্র পদ পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাহ্যের শিকার শামীম ওসমান। এসব অন্তঃজ্বালায় এখন মহাটেনশনে আছেন তিনিও। সামনে জাতীয় নির্বাচন। দলের একটি পক্ষ চাচ্ছে শামীম ওসমানকে দলীয় মনোনয়ন থেকে ছিটকে ফেলতে। সেই তৎপরতাও মোকাবেলা করতে হচ্ছে শামীম ওসমানকে।
দল এবং সরকারের হাইকমান্ডের ভূমিকায় আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী আইভী-শামীম দুজনেই আছেন মহা টেনশনে।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম