Mon, 17 Dec, 2018
 
logo
 

কনষ্টেবল নিয়োগে ৮০ লাখ টাকা ঘুষ : সেই ইউপি চেয়ারম্যান প্রকাশ্যে

লাইভ নারায়ণগঞ্জ:
পুলিশ কনষ্টেবল নিয়োগে ৮০ লাখ টাকা ঘুষ কেলেংকারীর কথিত মূল নায়ক ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধানকে প্রকাশ্যে দেখা গেছে। প্রায় ২০ দিন আত্মগোপনে থাকার পর শনিবার (১৭ মার্চ) বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে বন্দর সমরক্ষেত্র মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসে উপস্থিত হন তিনি। ঐ অনুষ্ঠানে প্রধাণ অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান।

এরআগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারী  সকাল থেকে বিকেল অবধি ফতুল্লার পুলিশ লাইনসের মাঠে প্রথম ধাপে শারীরিক ফিটনেসের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ঐদিনই প্রকাশ পায় বন্দরের কলাগাছিয়া ইউনিয়নে কোচিং সেন্টার খুলে পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে চাকরি দেয়ার কথা বলে স্বদেশ, সিয়াম, মোস্তাকিম, রায়হান, তৌহিদ, মারুফা আক্তার মলি, রুবেলসহ ২০ জন সদস্যদের কাছ থেকে চার লাখ করে সর্বমোট ৮০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন বাদশা ও ঢাকা এসবির সহকারী উপ-পরিদর্শক শাহাবুদ্দিন। এটাকা লেনদেনের নেতৃত্বে ছিলেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধাণ।
২৪ ফেব্রুয়ারি শারীরিক পরীক্ষায় অর্থ প্রদানকারী যুবকদের অনেকেই বাদ পড়লে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়। এ ঘটনার পরদিন ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে ১৪ জনকে আটক করা হয়। তারা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান, এএসআই শাহাবুদ্দিন ও বাদশা তাদেরকে পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগের কথা বলে প্রথমে কোচিংয়ে ভর্তি করায়। এরপর পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগের শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে জনপ্রতি চার লাখ টাকা করে নেয়। তবে প্রথম ধাপে অর্থাৎ শারীরিক ফিটনেস পরীক্ষায় অনেকেই বাদ পড়ে যান। আর এতেই তাদের প্রতারণার বিষয়টি এলাকায় ফাঁস হয়ে যায়। দেলোয়ার প্রধানই এদেরকে ৪ লাখ করে টাকা দিতে প্ররোচিত করেন চাকুরীপ্রার্থীদের। পরে সাংবাদিকদের কাছে স্বীকারও করেন যে, কোচিং সেন্টার খুলতে সহযোগীতা এবং ৪ লাখ করে টাকা দিতে বলেছেন দেলোয়ার প্রধাণ নিজেই।
২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে বন্দর থানায় ঘুষ প্রদানকারী স্বদেশ ভূইয়া বাদী হয়ে দুইজনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। আসামিরা হলেন- ঢাকা রেঞ্জের পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) এবং বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের নিশং এলাকার শাহাবুদ্দিন ও একই এলাকার মোশারফের ছেলে বাদশা। মামলায় রহস্যজনক কারনে আসামী করা হয়নি ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার প্রধানকে। তবে ঘটনার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। মোবাইল ফোনও বন্ধ করে রাখেন।
এদিকে ওই মামলা দায়েরের পর গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা রেঞ্জের পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শাহাবুদ্দিন ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে আসার পথে ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকা থেকে গ্রেফতার হন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ রাশেদ মোবারক তাকে গ্রেফতার করেন। শাহাবুদ্দিন ঢাকা পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুরুষ হাইকেয়ার ইউনিটের ৩য় তলার ১১নং বেডে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসা দেয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই বাদী পক্ষের সাথে সমঝোতায় জামিন পান এএসআই শাহাবুদ্দিন।
উল্লেখ্য যে,, বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের বাইতুল্লাহ মসজিদের পূর্বপাশে গালাক্সি স্কুলের ভেতরে প্রত্যাশা নামে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষার জন্য কোচিং সেন্টার খুলেন পুলিশের ঢাকার বিশেষ শাখার (এসবি) সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শাহাবুদ্দিন। পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে চাকরি দেয়ার কথা বলে স্বদেশ, সিয়াম, মোস্তাকিম, রায়হান, তৌহিদ, মারুফা আক্তার মলি, রুবেলসহ ২০ জন সদস্যদের কাছ থেকে ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধাণের সহযোগীতায় চার লাখ করে সর্বমোট ৮০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন বাদশা ও ঢাকা এসবির সহকারী উপ-পরিদর্শক শাহাবুদ্দিন।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম