Thu, 13 Dec, 2018
 
logo
 

অগ্নিকান্ড : নিয়ম না মানা ও অসচেতনতাই মূল কারণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণণগঞ্জ: বছরের এই সময়টা এলেই বেড়ে যায় অগ্নিকান্ডের ঘটনা। বিভিন্ন স্থানে আগুন লাগে আর ফায়ার সার্ভিসের টিম গিয়ে আগুন নেভায়। বছরের পর বছর এভাবে চলে আসলেও এখন তা থামানোর সময় এসেছে বলে মনে করেন সচেতন মহল। তাদের মতে, ভবন নির্মাণের সময় নিয়ম না মানা, ভবনে আগুন নিভানোর সরঞ্জাম না রাখা ও বৈদ্যুতিক ত্রুটির জন্য যেমন অগ্নিকান্ড ঘটে তেমনি অসচেতনতাও অন্যতম কারণ।


নারায়ণগঞ্জের সর্বত্র এখন আকাশচুম্বি অট্রালিকা বানানোর প্রতিযোগীতা চলছে। শহরে ছেয়ে গেছে বহুতল ভবনে। তবে অভিযোগ রয়েছে, অধিকাংশ ভবনেই অগ্নিনির্বাপণে নেই কোন ব্যবস্থা। নগর পরিকল্পনাবিদদের দাবি, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মোট আয়তনের ১১.৭৪ ভাগের উপর বাণিজ্যিক, ১৪ ভাগ জুড়েই শিল্প ও ৪০.৭০ ভাগ আবাসিক এলাকা ধরা হলেও সিটি করপোরেশনের সকল এলাকা অপরিকল্পিত ভাবে গড়ে উঠেছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্মাণ বিধিমালা মেনে ভবন তৈরি হয়নি। আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প কারখানাগুলোতে থাকে না অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম। আবার সরঞ্জাম থাকলেও দক্ষ ও প্রশিক্ষিত লোক নেই। এছাড়া শহর অঞ্চলে জলাশয়, পুকুর বা পানির ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। ফলে দাহ্য বস্তুর দোকানের ভিড়েই গড়ে উঠছে আবাসিক এলাকাও।
এদিকে শহরের কালীরবাজার এলাকায় এক সপ্তাহের কম সময়ের ব্যবধানে ৩ দিন অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। ৭ মার্চ ভোরে কালীরবাজার টিনের দোকানের অগ্নিকা-ে ৭টি দোকান পুড়ে যায়। ব্যবসায়ীদের দাবি সেদিন প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনার ২৪ ঘন্টা না যেতেই ৯ মার্চ দুপুরে ফের ওই মার্কেটের সামনে তিন তলার ভবনের দ্বিতীয় তলায় অগ্নিকান্ডে ৩টি দোকান পুড়ে। এতেও ক্ষতি হয় কয়েক লাখ টাকা। সর্বশেষ ১০ মার্চ দুইতলা টিনের ঘরে অগ্নিকান্ডে একটি আগরবাতির গোডাউন ও একটি কাপড়ের দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এসকল অগ্নিকান্ড বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে হতে পারে বলে মনে করছেন ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তারা।
এদিকে আগুন লাগলেই এ নিয়ে তৎপর হয় সংশ্লিষ্টরা। তবে এর আগে থেকে অগ্নি নির্বাপণে ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়না। শহরের অনেক মার্কেটে নেই আগুন নেভানোর সরঞ্জাম। এ নিয়ে সচেতনতার অভাবও রয়েছে মানুষের মাঝে। বিশেষ করে বছরের এ মৌসুমে অগ্নিকান্ডের ঘটনা বেশী ঘটে জানা থাকার পরেও সতর্কমূলক ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না কাউকেই।
তবে নগর পরিকল্পনাবিদ মো. মঈনুল ইসলাম লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নারায়ণগঞ্জে অপরিকল্পিতভাবে আবাসিক ও বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে বাড়ছে অগ্নিকান্ডের ঝুঁকি।
পরিবেশ আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি অ্যাড. এবি সিদ্দিক লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, কারণ উদ্ঘাটন হলেই কোনো বিষয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কিন্তু অনেক সময় অগ্নিকা-ের প্রকৃত কারণ জানা যায় না। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে যে কারণগুলো বলা হয় তা কয়েকটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং সেগুলো ‘টেকনিক্যাল’। এছাড়া কারণ উৎঘাটনের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের মাঝে সততার অভাব রয়েছে বলেও মনে করছেন তিনি।
তবে এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ পরিচালক মামুনুর রশিদ বলেন, ১০ মার্চ কালিরবাজারে অগ্নিকা-ের সময় পানি খুঁজতে গিয়ে অনেক সময় ব্যয় হলেও পানি পাচ্ছিলাম না। ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান বেশি হয়েছে। তিনি মনে করেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেরই ফায়ার ফাইটিং ব্যবস্থা থাকা জরুরি। কিন্তু বেশির ভাগ মার্কেটেই এ গুলোনেই। আমি মার্কেট মালিক কর্তৃপক্ষকে ইতোমধ্যেই চিঠি দিয়ে ফায়ার ফাইটিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলেছি।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তার এ বক্তব্য সমর্থন করেন সচেতন মহল। তাদের মতে, অগ্নিকান্ডের জন্য আমাদের আগে থেকেই সচেতন থাকতে হবে। ফায়ার ফাইটিংয়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে যেমন এ ব্যবস্থা তেমনি নিজের জান-মাল বাঁচাতে তা করতে হবে বলে মনে করেন তারা।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম