Mon, 28 May, 2018
 
logo
 

শামীম আইভী মুখোমুখি, উদ্বিগ্ন নগরবাসী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাতে হকাদের বসতে দেয়া হবে না বলে বরাবরই জানিয়ে আসছেন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। অন্যদিকে গত ১৫ জানুয়ারী বিকালে হকারদের সমাবেশে ১৬ জানুয়ারী বিকাল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত হকার বসার ঘোষনা দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান।

এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জের সবস্থরের মানুষের মাঝে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। দুই জনের এমন মুখোমুখি অবস্থানে শঙ্কায় আছে নগরবাসী। অনেকেরই প্রশ্ন কি হবে আজ?

জানা গেছে, হকার সমস্যা সমাধানে ১৯৮০ সালে সাবেক পৌর চেয়ারম্যান আলী আহম্মেদ চুনকা সোনার বাংলা মার্কেট গড়ে হকারদের পুনর্বাসন করেছিলেন। একই ভাবে ২০০৭ সালে চাষাড়া হকার্স মার্কেটেও হকাদের পুনর্বাসন করেছেন বর্তমান মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তারপরেও হকার মুক্ত করা সম্ভব হয়নি ফুটপাত। গত ১ দশক ধরে  জনগণের চলাচনের রাস্তা ফুটপাত দখল করে  করে এসেছে তারা!

এখন সিটি করপোরেশন ও প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা হওয়ায় রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন, সংগ্রাম ও সমাবেশ করে চলেছে। এরই মধ্যে স্থানীয় সাংসদ ঘোষণা দিয়ে বিকাল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ফুটপাতে হকার বসার অনুমতি দিয়েছেন।

আল মামুন নামের এক পথচারি বলেন, কয়েকটা দিন ধরে আমরা খুব সহজে চলাচল করতে পেরেছি।  নগরীতে যানজট যেমন কম ছিলো, তেমনি ফুটপাতের জনজটও ছিলো না। শহরের মধ্যে যে কোন গন্তব্যে পৌছানো যেতো পায়ে হেঁটে।  আমি মনে করি জনগণের চলাচলের রাস্তা ফুটপাত। তা দখল করে ব্যবসা করতে দেয়া কোন ভাবেই উচিৎ নয়।

আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীর সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিনের মন্টু বলেন, যারা মহল্লায় মহল্লায় ফেরি করে ব্যবসা করে তাদেরকে আমরা হকার বলি। কিন্তু এখন যারা জনগণের চলাচলের জায়গা দখল করে ব্যবসা করার চেষ্টা করছে তাদের হকার বলা যাবে না। কারণ তারা  এক স্থানে বসে ব্যবসা করছে। কোথাও কোথাও স্থায়ী হয়েও ব্যবসা করেছেন। তাই এই ফুটপাত দখল মুক্ত করার জন্য মেয়র যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাই সঠিক।

নারায়ণগঞ্জ নাগরীক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, উন্নত দেশ গুলোতে ফুটপাতে হকার বসতে দেয়া হয় না। সেখানে হকারদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা আছে। সাপ্তাহে দুই দিন হকাররা বসে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেমনের মেয়রও সেই রকমই প্রদক্ষেপ নিয়েছেন। কিন্তু হকাররা এই সিদ্ধান্ত মানছে না। এরই মধ্যে হকারদের সমাবেশ থেকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ যে ঘোষণা দিয়েছে, সেই ঘোষণা একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে কোন যুক্তিতে দিয়েছে, তা আমি এখনো বুঝতে পারিনি। আমরা আন্দোলনে যাবো কি না, এ বিষয়ে বিকালে নাগরীক কমিটির পক্ষ থেকে বসা হবে।

বাংলাদেশ দন্ডবিধি ১৪১ ধারা অনুযায়ী, কোন সমাবেশের মাধ্যমে সরাকারি কর্মচারীকে অনুরূপ কর্মচারীর আইনসম্মত ক্ষমতা প্রয়োগের সময় অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ অথবা অপরাধমূলক হুমকি দিয়ে ভীতি প্রদর্শন করা, কিংবা আইনগত ব্যবস্থার কার্যকরীকরণে বাধা সৃষ্টি করা অথবা কোন ব্যক্তিকে পথের অধিকার ভোগ থেকে বঞ্চিত করা হলে সেই সভা সমাবেশ বেআইনী বলে গণ্য করা হবে।

আইনজীবী সমিতির সাবেক এক নেতা নাম প্রকাশে অচ্ছিুক সাবেক এক নেতা বলেন, ১৪১ ধারা অনুযায়ী হকারদের এই সমাবেশ ও আন্দোলন বেআইনী। ১৪৩ ধারায়  এই বেআইনী সমাবেশে যোগদান করার অপরাধে ছয় মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদে সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধি দণ্ডেই দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম