Wed, 13 Dec, 2017
 
logo
 

ফতুল্লায় পুলিশের বিশেষ অভিযান: এরপরেও দাবড়ে বেড়াচ্ছে সন্ত্রাসী ও মাদক বিক্রেতা


লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ফতুল্লা পুলিশের বিশেষ অভিযান চললেও এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে অনেক সন্ত্রাসী ও মাদক বিক্রেতা। কেউ কেউ রাজনৈতিক দলের ব্যাণারে বুক ফুলিয়ে হাঁটছে। আবার কেউ বিশেষ মহল ম্যানেজ করে করছে অপকর্ম। হাতে গোণা কয়েকজন সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার হলেও তালিকাভুক্ত সব সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ার অভিযোগও আছে। একইভাবে অনেক মাদক বিক্রেতা এখনো পুলিশের নজর এড়িয়ে মাদক বিক্রি করছে প্রকাশ্যে।

১২ অক্টোবর রাতে কাশিপুর হোসাইনিনগর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এক পক্ষের হামলায় জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহত হয় তুহিন হাওলাদার মিল্টন ও পারভেজ আহমেদ। গত ১১ নভেম্বর ফতুল্লার নন্দলালপুরে মাদক ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মুন্না ও স্বাধীন গ্রুপের মধ্য সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ১৮ টি বাড়িঘর ভাংচুরসহ আহত হয় প্রায় ১০-১২ জন। গত বছরের শেষ দিকে পাগলায় মাদক বিক্রেতা বিল্লাল হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করে মোক্তার ওরফে কিলার মোক্তার। ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে ডিবি পুলিশের সাথে বন্ধুক যুদ্ধে সহযোগীসহ নিহত হলেও তার বাহিনীর অন্য সদস্যরা এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি পশ্চিম মাসদাইরের সৈনিকলীগ নেতা মোকলেছকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা একই এলাকার কথিত যুবলীগ নেতারা। এ ঘটনায় সিআইডি ১০জনকে  দায়ী করে অভিযোগপত্র দেয়। এরা হলো মিজান ওরফে বড় মিজান, জামান, জসীম, তুহিন, জুয়েল প্রধান, হাসেম, গাফফার, মন্টু , দেলু ও মাসুদ ওরফে মাসুম। প্রধান আসামীসহ অধিকাংশ এখনো জামিনে থেকে নানা অপকর্ম করছে। এই দশজনের সবাই মাদক সেবন করে, কেউ কেউ মাদক বিক্রি করে। কবরীর আমলে ফতুল্লায় সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা শ্যুাটার সোহেল খুন হয় দলীয় আধিপত্যের কোন্দলে। এ মামলার আসামীদের মধ্যে কেউ কৌশল করে করে চার্জসিট থেকে রেহাই পেয়েছে কারো নাম থাকলেও তারা বীরদর্পে এলাকা চষে বেড়াচ্ছে।
’৯৬ আমলে ফতুল্লায় প্রকাশ্যে গোলাগুলি করতো সৈয়দ মাসুদ ওরফে টুন্ডা মাসুদ। এখন সে ছ্যাচড়া, চেয়ে পেতে খায়। তবে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী হওয়ায় ৪ নভেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এছাড়া বোরহান, পিস্তল মিঠুসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের মতে, ফতুল্লার আরো অনেক সন্ত্রাসী রয়ে গেছে অধরা। অতীতে গ্রেপ্তার হওয়া ও তালিকাভুক্ত থাকার পরেও অনেক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার না করার অভিযোগ আছে।
  এসব সন্ত্রাসীরা এখনো দাবড়ে বেড়ায় যার যার এলাকায়। এ ছাড়াও ভূমি দস্যূতা, তেল চোর, ডাকাতি, ছিনতাই, ভাড়াটে খুনী ও মাদক বিক্রেতাদের অভয়স্থলে পরিণত হয়েছে ফতুল্লা। এদের মধ্যে ফতুল্লার ফরহাদ, বাঘা আরিফ, পোস্টঅফিস সরদার পাড়া এলাকায় ইয়াছিন, যুবদল ক্যাডার মুসলিম, দাপা এলাকার ডাকাত সেন্টু কাজী, জাকির, ডাকাত শহীদ, সেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি লিটনের ভাই মাসুম, রেলস্টেশন ব্যাংক কলোনী এলাকার পলাতক খেলাফত, ফেলা, বর্তমানে জেলে থাকা দিন ইসলাম ও লিপু,মাথা ফাটা জসীম, আলীগঞ্জের ডাকাত ফারুক কিলার মতি, ইবু, পাগলা শাহী মহল্লার মীর হোসেন মীরু, ভাগনে শাকিল, লালখার ডাকাত রতন, সাহাবুদ্দিন, তল্লা এলাকার আলী (মাস্টার দেলুর ভায়রা ), উত্তর মাসদাইর গাবতলীল নাডা শাহিন, রফিক, মাসদাইর এলাকার ছোট মিজান, জহির, নাডা ফারুক, নাদিম, পশ্চিম দেওভোগের পোড়া মামুন , শাসনগাওয়ের ফেন্সী রাসেল,মিন্টু, রুবেল, এনায়েতনগরের রহমান, সুমন, কাশিপুরের ইকবাল শেখ, খোকা মেম্বার, নরসিংপুরের ইয়াবা জামান, আরিফ, আওলাদ, মাসুদ, ভোলাইলের সুরুজ মিয়া, শামীম, সুমন নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকের নামে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। কেউ কেউ নানা লেবাস ধরে সমাজে ভদ্রলোকের মুখোশ পড়ে আছে। আর এই মুখোশধারীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে আরো বড় লেবাসধারীরা। যাদের মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রভাশালী নেতা, ব্যবসায়ী নেতা, শ্রমিক নেতাও রয়েছে। তবে প্রশাসনের কতিপয় সদস্যও সন্ত্রাসীদের সাথে আতাঁত করে বলে অভিযোগ রয়েছে। সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি মাদক বিক্রেতারাও সমাজ নষ্ট করছে। সম্প্রতি কিছু মাদক বিক্রেতা ধরা পড়লেও অনেকেই রয়ে গেছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। সচেতন মহলের মতে, পুলিশ ও সামাজিক নেতৃত্ব সব শক্তি নিয়ে মাঠে নামলে মাদক বিক্রেতারা পার পাবে না। তবে তাদের মধ্যে অল্প সংখ্যক রয়েছেন যারা মাদক বিক্রেতাদের শেল্টার দেয়। গত ২১ অক্টোব্র নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইন্সে একটি অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মঈনুল হক বলেন ‘ মাদক বিক্রেতাদের টাকা খায় যে পুলিশ, সে পুলিশ নামের কলঙ্ক’। সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, অপরাধ করেও পার পেয়ে যাওয়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠছে সন্ত্রাসীরা। অন্য জেলার থানার সাথে সংযোগ থাকায় বহিরাগত সন্ত্রাসীরাও এখানে এসে আশ্রয় নেয়। একই কারনে মাদক বিক্রির রুট হিসেবেও ব্যবহার হয় এ জেলা।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম