Tue, 12 Dec, 2017
 
logo
 

আল মোস্তফা গ্রুপের থাবায় বিলীন হচ্ছে মারীখালি নদ, কর্মসংস্থান হারানোর আশংকা ২০ হাজার পরিবার

সোনারগাঁ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: সোনারগাঁ উপজেলায় এবার আল মোস্তফা গ্রুপের থাবায় বিলীন হচ্ছে মারী খালি নদ। এতে ২০ হাজার পরিবার কর্মসংস্থান হারানোর আশংকা করছেন।

বৈদ্দেরবাজারের মাছ ঘাট এলাকায় স্থানীয়দের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি, সড়ক ও জনপদের অবৈধ দখলের পাশাপাশি মারী খালী নদের প্রবেশ মুখটিও বালু  ফেলে বন্ধ করে দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির লোকজন। আর এ সকল অবৈধ কাজে সহায়তার অভিযোগ উঠেছে করছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কতিপয় সুযোগ সন্ধানী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় ভুক্তভোগীদের সাথে বৈদ্দেরবাজার ঘাট এলাকায় গত এক সপ্তাহ ধরে এ অবৈধ বালু ভরাট নিয়ে চোর-পুলিশ খেলা চলছে বলে জানান স্থানীয়রা। এ নিয়ে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করলেও প্রশাসন নিরব দর্শকের ভুমিকায় আছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের জিয়ানগর, ভবনাথপুর, বিরেশেরগাঁও, রতনপুর, ভাটিবন্দর, মরিচাকান্দী, জৈনপুর, হাবিবপুর, পিরোজপুর, কাদিরনগর, দুধঘাটা,মঙ্গলেরগাঁও, শম্ভুপুরা ইউনিয়নের কাজিরগাঁও, দূর্গাপ্রসাদ, চৌধুরীগাঁও, ময়নাকান্দী, টেকপাড়া, মুগারচর, ও মোগরাপাড়া ইউনিয়নের কাবিলগঞ্জ, আলাবদী, নালআলাবদী, ভিন্নিপাড়া, ঋষিপাড়া, কাবিলগঞ্জ, দমদমা, খুলিয়াপাড়াসহ কমপক্ষে ত্রিশটি গ্রামের কয়েক হাজার পরিবার ও কৃষক এখনো নদের পানি দিয়ে তাদের পারিবারিক ও কৃষি কাজ করে থাকেন। তাছাড়া, শহরতলী হওয়ায় সোনারগাঁয়ে নগরায়ণ হচ্ছে দ্রুত। আর নগরায়ন হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় বালুসহ বিভিন্ন মালামাল পরিবহনে মারীখালী নদীর ভুমিকা অনস্বীকার্য।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, আল মোস্তফা গ্রুপের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হেরিটেজ পলিমার অ্যান্ড সেমি টিউবস লিমিটেড’ সাধারণ মানুষের জমি জোর পূর্বক দখল করে বালু ভরাটের পাশাপাশি মারীখালী নদটির প্রবেশ মুখও বালু দিয়ে বন্ধ করে দিচ্ছে। তাছাড়া, মারীখালী নদ বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে বন্ধ হয়ে যাবে অত্র অঞ্চলের কমপক্ষে ২০ হাজার মানুষের জীবিকার পথ। স্থানীয়রা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ করেও কোন সুরাহা না পাওয়ায় গত সোমবার ৮ গ্রামের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে নদী রক্ষায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ পরবর্তী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেওয়া প্রতিষ্ঠানের পক্ষের লোকজন মঙ্গলবার সকাল থেকে বৈদ্দ্যেরবাজার এলাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজের) জায়গায় থাকা কয়েকশ ব্যবসায়ীর দোকান বন্ধ করে অবৈধভাবে সীমনা প্রাচীর নির্মাণ করে। স্থানীয় এলাকাবাসী এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণে বাঁধা দেয় এবং নির্মানাধীন প্রাচীর ভেঙ্গে দেয়।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কেন্দ্রীয় যুবলীগের এককর্মীকে স্থানীয়দের উস্কানী দেওয়ার অভিযোগে এবং অবৈধভাবে বালু ফেলায় প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজ করার একজনকে আটক করে। পরে অবশ্য মুচলেকা দিয়ে দু’জনকেই ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় ভুক্তভোগী হাজী আজিজুল্লাহ জানান, তার ৭টি দাগে প্রায় ১ একর ১০ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিমের স্ত্রী সুরাইয়া করিম মুন্নীর সাথে আদালতে একটি মামলা চলমান। এ অবস্থায় সুরাইয়া করিম মুন্নী ওই জমিটি ‘হেরিটেজ পলিমার এন্ড সেমি টিউবস লিমিটেডের’ ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল মোস্তাফার নিকট বিক্রি করেন। বর্তমানে ওই সম্পত্তিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারি থাকলেও প্রতিষ্ঠান আদালতের নিষেধ অমান্য করে বালু ভরাট করছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আজিজুল্লাহ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার, সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তর ও থানায় অভিযোগ করেন।
স্থানীয় এলাকার প্রবাসী সাখাওয়াত হোসেন, মজিবুর রহমান, শাহজালাল, হাজী গোলাম মোস্তফাসহ আরো বেশ কয়েকজন জানান, আল মোস্তফা তাদের জমি ক্রয় না করেই স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ব্যবহার করে অবৈধ ভাবে বালু ভরাটের কাজ করছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভূমি অফিসের কর্মকর্তরা গিয়ে নদীর সীমানা নির্ধারণ করে লাল নিশানা টাঙ্গিয়ে দেওয়ার পরও ওই সীমানা অতিক্রম করে বালু ভরাট কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ওই সিন্ডিকেট। ফলে মারিখালি নদটি ভরাট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
ভুক্তভোগী মুজিবুর রহমানের দাবি, তিনি সোনারগাঁও থানা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বালু ভরাট কাজ বন্ধ করার জন্য অভিযোগ নিয়ে গিয়েছিলেন কিন্তু তাদের কথাবার্তা ও আচরণ তার কাছে রহস্যজনক মনে হয়েছে। তাই তার আশঙ্কা তিনি তাদের কোন সহযোগিতা পাবেননা।
সাহাপুর এলাকার ব্যবসায়ী তারেক হাসান বলেন, মারিখালী নদী বালু ভরাটের ফলে দখল হয়ে যাচ্ছে। ফলে এ অঞ্চলের মানুষের নদী পথে মেঘনা নদীতে চলাচল বন্ধসহ নদী পথে সকল প্রকার কর্মকান্ড বন্ধ হয়ে যাবে। অনতিবিলম্বে এ নদী দখলদারের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।
নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত অফিস প্রধান মো. নয়ন মিয়া বলেন, নদী দখলের অভিযোগ পাওয়া গেলে দখলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীনূর ইসলাম বলেন, বালু দিয়ে কোন ভাবেই নদী দখল করতে দেওয়া হবেনা। এ বিষয়ে সোনারগাঁও উপজেলা সহকারী কমিশানার ভূমিকে ব্যবস্থা নেওয়া জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম