Wed, 13 Dec, 2017
 
logo
 

না.গঞ্জে ৩০ দিনে ৩১ লাশ!

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: হঠাৎই নারায়ণগঞ্জে হত্যাকা-সহ বিভিন্ন ভাবে লাশের সংখ্যা বৃদ্ধি  পাওয়ায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি বলে দাবি করেছে নাগরীক কমিটি। আর পুলিশ বলছেন, হত্যাকাণ্ডে ঘটতেই পারে। তাছাড়া এ সকল হত্যাকাণ্ডের রহস্য উৎঘাটন হওয়ায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি বলা যাবে না।


অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ কর্মক্ষেত্রে দূর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে শ্রমিক লীগ। আর আইনজীবীরা বলছেন, অনিরাপদ কর্মক্ষেত্রে গিয়ে মৃত্যু বরণ করলে সেটা দূর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ডের শামিল।

গত একমাসের (অক্টোবরের) বিভিন্ন পত্রিকায় আসা খবরের প্রেক্ষিতে করা পরিসংখ্যানে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জে নানা ঘটনায় ৩১ জন লাশ হয়েছে। এর মাঝে সবার্ধীক লাশের সংখ্যা ফতুল্লায় ১২টি। সবচেয়ে কম বন্দরে ১টি। এছাড়া রূপগঞ্জে ৭টি, আড়াইহাজারে ৫টি, সোনারগাঁ, সিদ্ধিরগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ সদরে ২টি করে। এর মাঝে উল্লেখযোগ্য ফতুল্লার জোরা খুন, সেপটিক ট্যাঙ্কের গ্যাসে তিন শ্রমিক ও দেয়াল চাপায় ৩ বোনসহ ৪ জনের মৃত্যুর ঘটনা। এছাড়া শিশু সন্তুান নিয়ে মায়ের ট্রেনের নিচে ঝাঁপের ঘটনাও ছিলো আলোচিত।
 
২৯ জনের লাশ হওয়ার ঘটনায় ৮ জন লাশ হয়েছে ঝুঁকিপূন কর্মক্ষেত্রে দূর্ঘটনায়, সাধারণ দূর্ঘটনায় লাশ হয়েছে ৯ জন, হত্যাকা- ঘটেছে ১০ টি ও আত্মহত্যা, সড়ক দূর্ঘটনা, পারিবারিক কলহ ও বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয় ১ জন করে।
 
এবিষয়ে বিশিষ্ট সাংবাদিক মো. আনোয়ার হোসেন লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, চলতি মাসে যত গুলো লাশে হয়েছে তার অধিকাংশই সচেতনতার অভাবে। এর মাঝে উল্লেখ যোগ্য হলো ফতুল্লায় সেপটিক ট্যাঙ্কের গ্যাসে তিন শ্রমিক ও দেয়াল চাপায় ৩ বোনসহ ৪ জনের মৃত্যুর ঘটনা। আমি মনে করে পরিবার থেকে সচেতনতা বৃদ্ধি ও কাজের আইন মেনে চললে এ ধরনের ঘটনা কমে আসবে।

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ নাগরীক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, পুলিশের সাথে অপরাধীদের একটি সু-সর্ম্পক রয়েছে। পুলিশ নিরপেক্ষ না হওয়ায় দিন দিন আইন শৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে। তাই আমি দাবি করবো পুলিশ সুপার বিষয়টিতে নজর রাখবেন। পাশাপাশি জেলার গোয়েন্দা বিভাগকে আরো ভালো করে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের শ্রম ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহম্মেদ পলাশ লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, কর্মক্ষেত্রে দূর্ঘটনায় মৃত্যু এটা আর নতুন কিছু নয়। আমরা এই বিষয়ে বিগত সময়ে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, আগামীতেও করবো। তবে এই বিষয়ে মালিকদের সচেতন হতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আরএমজি নামের একটি সেক্টোর ছিল। এর মাধ্যমে শ্রমিক, মালিক ও মন্ত্রণালয়ের মাঝে ত্রি-পাক্ষিক প্রতিনিধি নিয়ে পরির্দশন হতো। কিন্তু এটা ১ বছর আগে বন্ধ হয়ে গেছে। এটা আবার চালু হলে শ্রমিকরা সুফল পাবে।
নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খান  লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, আইন অনুযায়ী শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কাজ করানো উচিৎ। যদি সেই আইন না মেনে কাজ করানো হয়, আর সেই কর্মক্ষেত্রে গিয়ে শ্রমিকের মৃত্যু হয়, তাহলে সেটা দূর্ঘটনা না বলে হত্যাকা- বলা উচিৎ। তাই আমি বলবো, এই ধরণের কর্মকাণ্ডের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। তা না হলে এ ধরণের দূর্ঘটনা কমবে না।

এবিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোহাম্মদ মতিয়ার রহমান লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, জেলায় চলতি মাসে যে কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে তার বেশির ভাগ ঘটনার রহস্য উৎঘাটন করেছি। তবে কয়েকটি লাশের পরিচায় না পাওয়ার কারণে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি পূর্বেও চাইতে অনেক ভালো পরিস্থিতি, হত্যাকান্ড ঘটতে পারে, যেহেতু আমরা সাথে সাথেই ব্যবস্থা নিয়েছি এবং নিচ্ছি তাই আইনশৃংঙ্খলার অবনতি বলা যাবে না।’

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম