Fri, 17 Nov, 2017
 
logo
 

না.গঞ্জে ২০ লাখ মানুষের খাদ্য ঘাটতি

গোলাম রাব্বি, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ মানুষের খাদ্য ঘাটতি রয়েছে নারায়ণগঞ্জে। তবে এর মধ্যে অন্তত সাড়ে ৩ লাখ মানুষের খাদ্য ঘাটতি পূরণের সম্ভাবনা  রয়েছে। যদিও তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারীর অভাবে কৃষকদের মাঝে সংশয়ের দানা বেধেঁছে। কেননা, প্রতিবছরই কলকারখানার কালো পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় হুমকির মুখে জেলার কৃষিখাত।


সূত্রমতে, যদি জেলার ১০ হাজার হেক্টর পতিত জমি আবাদের আওতায় আনা যায় তবে, আরো ৩ লাখ ৩৩ হাজার মানুষের খাদ্য চাহিদা পুরন করা সম্ভব হতো। কিন্তু স্থানিয় প্রশাসনের উদ্যোগ ও সরকারের বিভিন্ন সুবিধা কৃষক না পাওয়ায় এ জমিগুলোতে উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না।

জেলা খাদ্র নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলায় মোট খাদ্য চাহিদা ৫ লাখ ৮হাজার ২‘শ ৯৮ মেট্রিক টন। বোরো, গম, আমন, আউশ ও খাদ্যশস্য মিলিয়ে উৎপাদন হয় ১ লাখ ৮২ হাজার ৮৭ মেট্রিক টন। আর খাদ্য ঘাটতি রয়েছে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৪‘শ ১১ মেট্রিক টন।

অন্যদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র বলছে, প্রতি হেক্টর জমিতে সাড়ে ৫ টন খাদ্য উৎপাদন হয়। সেই হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলায় ১০ হাজার হেক্টর পতিত জমিতে আরো ৫৫ হাজার  টন খাদ্য উৎপাদন সম্ভব হতো।

সূত্রে জানা যায়, একজন মানুষ প্রতিদিন গড় খাদ্য চাহিদা ৪‘শ ৫৩ গ্রাম। বছরে প্রতিজনের প্রয়োজন ১৬৫ কেজি খাদ্য। সেই হিসেবে জেলার ১০ হাজার হেক্টর পতিত জমিতে উৎপাদিত ৫৫ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য দিয়ে জেলার ৩ লাখ ৩৩ হাজার মানুষের খাদ্য চাহিদা পুরন করা সম্ভব হতো।

জালকুড়ি পশ্চিমপাড়া এলাকার কৃষক দ্বীন ইসলামের ভাষ্য মতে, ‘অনেক বছর হয় ধান আবাদ করি, প্রতিবছর মিল, কারখানার পানির উচ্চতা বাড়ছে। কয়েক বছর পরে মনে অয় না আর ধান আবাদ করন যাই বো।’

কৃষক মো. শাহীন মিয়া লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ময়লা পানি প্রবেশ করে বছরের পর বছর ধরে জালকুড়ির এলাকার শত শত হেক্টর জমি নষ্ট হয়ে পতিত অবস্থায় পরে আছে। ওই জমি গুলোতে আগে বোরো, গম, আমন ও আউশসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা হতো, এখন কালকারখানা মালিক, পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টির অভাবে আবাদ বন্ধ হয়ে গেছে।

নারায়ণগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালন লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, জেলায় যে ১০ হাজার হেক্টর পতিত জমি রয়েছে। সেখানে ধান আবাদ করা সম্ভব নয়। তবে তার কিছু কিছু জমিতে সবজি ও ফলের চাষ করা যেতে পারে। আমরা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছি, জমিগুলোকে সবজি চাষের আওতায় আনতে। তার ধারাবাহীকতায় এখন সবজি চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি আরো বলেন, জালকুড়ির যে এলাকা গুলোতে ধান চাষ করা সম্ভব হচ্ছে না সে জমি গুলো আবাদের আওতায় আনতে হলে পানি নিস্কাশন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। তাহলে ওই জমিগুলো চাষের আওতায় আনা সম্ভব। তবে এই ধরনের সিদ্ধান্ত জেলা প্রশাসন নিতে পারে।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম