Fri, 17 Nov, 2017
 
logo
 

লক্ষ্য একাদশ সংসদ নির্বাচন: নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে খেলা শুরু!

এক সময় আওয়ামীলীগ করলেও মনোয়ন ছিনিয়ে নেয়ার বেদনা থেকেই বিএনপিতে যোগ দেন মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। এ দলের টিকেটে সংসদ সদস্য হয়ে ২০০১ থেকে পুরো ৫ বছর ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জে ( নারায়ণগঞ্জ-৪) নিয়ন্ত্রক ছিলেন তিনি। বিভিন্ন কারনে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে দূরে সরে দাঁড়ায় গিয়াস।

তবে একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়নের জন্য লড়বেন এমনটাই বলছেন তার অনুগত নেতাকর্মীরা। এই আসনে এ দলের আরেক দাবিদার শিল্পপতি মোহাম্মদ শাহ আলম। এজন্য ইতিমধ্যেই তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদের এনে নিজ ফ্যাক্টরিতে নানা অনুষ্ঠানও শুরু করে দিয়েছেন।
তবে রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, একই দলের এই দুই নেতার মনোনয়ন যুদ্ধ অনেকটাই নির্ভর করবে প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামীলীগের বর্তমান সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের অবস্থানের উপর। তাদের মতে, মনোনয়ন যেই পাক এরই মধ্যে এ আসনে খেলা জমে উঠেছে তিন দিক থেকেই।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে ’৯৬তে জিতলেও ২০০১ এ পরাজয় বরণ করতে হয় শামীম ওসমানকে। এরপর দীর্ঘ প্রবাসজীবন, ওয়ান ইলেভেন ও নানা কারনে নবম সংসদ নির্বাচনে দল তার পরিবর্তে চলচ্চিত্র অভিনেত্রী কবরীকে টিকেট দেয়। ৫ বছর পর দশম সংসদ নির্বাচনে আবার আওয়ামীলীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হন শামীম ওসমান। আগামীতেও তিনি এ দল থেকে মনোনয়ন কনফার্ম করতে ইতিমধ্যেই মাঠে নেমে গেছেন। সিদ্ধিরগঞ্জে কার্যালয় উদ্বোধন করার সময়ে তিনি বক্তব্যে বলেছেন, জনগন যাতে আমাকে সহজে পায়, তাদের যে কোন সমস্যা আমার কাছে বলতে পারে সেজন্যই এ কার্যালয়। রাজনীতি সচেতন মহলের মতে, আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন কনফার্ম ও ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষন করতেই তিন এ পথ অবলম্বন করেছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দলের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য তিনি ছাড়াও অনেকেই চেষ্টা করবে।
এদিকে কল্যাণ পার্টি থেকে বিএনপিতে যোগ দেয়া শাহ আলম পুরোদস্তর রাজনীতিক না হলেও দলের পদ পদবী এখন তার কব্জায় রয়েছে। তিনি ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি ছাড়াও জেলার সহ সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। এছাড়া জেলা কমিটির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির অনেক প্রভাবশালী নেতার আর্শীবাদ রয়েছে তার উপর। আর তাই মনোনয়নের বিষয়ে অনেকটাই নিশ্চিত তিনি ও তার অনুগত নেতাকর্মীরা। তবে এ জন্য তাকে লড়তে হবে বিএনপির সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিনকে। ঝানু পলিটিশিয়ান হিসেবে গিয়াসের যেমন নাম রয়েছে তেমনি কুটকৌশলেও তিনিই সেরা বলে মনে করেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, গিয়াসের মতো দক্ষ রাজনীতিককে হাতছাড়া করতে চাইবে না বিএনপি হাই কমান্ড। কেননা এখানে শামীম ওসমানকে ফ্যাক্টর মনে করে বিএনপি। তাকে আওয়ামীলীগ মনোনয়ন দিলে বিএনপি প্রার্থীর বিষয়ে সিরিয়াস চিন্তা করবে। এ ক্ষেত্রে শাহ আলমকে যোগ্য নাও মনে করতে পারে তারা। কেননা শামীম ওসমানের মতো ঝানু নেতার সাথে আরেকজন ঝানু নেতাকেই বেছে নিবে দল।
দুই দলে আপাতত তিনজন মনোনয়ন যুদ্ধে অবতীর্ন হলেও নির্বাচনে আগে এ সংখ্যা বাড়তে পারে বলে মনে করেন রাজনীতি বোদ্ধারা। তারা মনে করেন, যেই টিকেট পাক ইতিমধ্যে খেলা শুরু হয়ে গেছে এ আসনে। একই দলের একজন কেন্দ্রীয় নেতাদের হায়ার করে আনছেন অপরজন নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন। আবার এই দুই নেতাকে ঘায়েল করতে অপর দলের প্রভাবশালী প্রার্থীও ছক আঁকছেন। আর এ ছক থেকেই কাঁচপুরের ঘটনায় বিএনপির দুই নেতা গিয়াস ও শাহ আলম মামলার আসামী হয়েছেন বলে ধারনা তাদের। বিএনপি নেতাকর্মীরাও মনে করছেন, সরকারি দলের প্রভাবশালী নেতাই এ দুই নেতাকে ঘায়েল করতে এ মামলায় তাদের জড়িয়েছেন। আর এতে খেলা শুরুর একটা ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে খেলা শেষে কার জয় হবে তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম