Fri, 17 Nov, 2017
 
logo
 

নূর হোসেন থেকে বন্দুক শাহীন, এরপর কে !

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট: আগে থেকেই লোকমুখে ছড়িয়ে পড়েছিলো সিদ্ধিরগঞ্জের এরশাদ সিকদার খ্যাত নূর হোসেনের মাদক বিক্রির কথা। তবে সাত খুন ঘটনার আগে তার সা¤্রাজ্যে হানা দেয়নি কেউই। নূর হোসেন পতনের পর মাদকে আরো বেশী উত্থান ঘটে মনিরুজ্জামান শাহীন ওরফে বন্দুক শাহীনের।

দিনে দিনে নিজেকে মাদক সম্রাটে পরিণত করে সে। ১৩ অক্টোবর ডিবি পুলিশের সাথে ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত তার কিছু করা যাবে এমন ভাবনাই ছিলো না কারো। তবে ভয়ংকর এই মাদক বিক্রেতার জীবনাসান হলেও প্রশ্ন উঠেছে এরপর কে ?

এমন না ভাবার কারণ সম্বন্ধে অনেকে বলেন, একাধিকবার পুলিশ, ডিবি ও র‌্যাবের অভিযানে উল্টো প্রশাসনের সদস্যদের উপর হামলা করে বন্দুক শাহীন তার শক্তি প্রদর্শন করতো। এসব অভিযানের পর আরো জোরালোভাবে সে মাদক বিক্রি শুরু করতো বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বন্দুক শাহীনের পৈত্রিক বাড়ি মুন্সিগঞ্জে। মাসদাইর বাজার এলাকায় তার নানীর বাড়ি। তার বাবা জলিল মিয়া সাবেক সংসদ সদস্য কায়সার হাসনাতদের সোনারগাঁও গার্মেন্টে সুপারভাইজারের চাকুরী করতো। গলাচিপার আউয়াল চেয়ারম্যানের ছেলে ভুট্রোর হাত ধরে প্রথম পরিচিতি এলেও ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির সাথে যুক্ত হয় সে। ১৯৯৬ সালে পুলিশের বন্দুক লুট করে তার নামের সাথে বন্দুক যোগ হয়। এরপর ২০০১ সালে বিএনপির তৎকালীন প্রভাবশালী সাংসদের শেল্টারে তার সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চলে। ক্লীনহার্ট অপারেশনের সময়ে পালিয়ে গেলেও পরে এলাকায় ফিরে ২০০৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ব্যবসায়ী নেতা সাব্বির আলম খন্দকার হত্যাকান্ডে অংশ নেয় সে। এ মামলার চার্জশীটভুক্ত আসামী ছিলো বন্দুক শাহীন।
তার মাদক বিক্রি জীবনের শুরু নিয়ে দু’রকম বক্তব্য পাওয়া যায়। কেউ বলেন, বন্দুক শাহীনের বোন জামাই রূপগঞ্জে রাসেল ভুইয়ার হত্যা মামলার আসামী শীর্ষ সন্ত্রাসী আসলামের হাত ধরেই তার মাদক বিক্রি শুরু হয়। আবার কেউ বলেন, পলাতক সন্ত্রাসী জাকির খানের ভাই মামুন খানের মাধ্যমে মাদক বিক্রি শুরু করে বন্দুক শাহীন। তবে শুরু যেভাবেই হউক দিনে দিনে এক বেপরোয়া মাদক বিক্রতা রূপে চিহ্নিত হয় সে। তার বাহিনীর সদস্যরা একাধিকবার আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপর হামলা করেছে। ডজনের উপর মামলা ছিলো তার বিরুদ্ধে। এরপরেও অনেকটা নির্বিঘ্নে তার মাদক বিক্রিতে সব সময় প্রশ্ন থাকতো সমাজের সচেতন মহলের কাছে।
নিজেকে বিএনপি নেতা পরিচয় দিলেও শেষদিকে তাকে কেউই দলে টানতে চায়নি শীর্ষ বিএনপি নেতারা। একজন বিএনপি নেতা জানান, শেষদিকে নিজেকে জিসাস নেতা বলে পরিচয় দিতো বন্দুক শাহীন। তবে তার কোন পদ পদবী ছিলো না। স্থানীয় সূত্র জানায়, সাবেক এমপি গিয়াস, আবুল কালামের বড় বড় ছবি তার বাড়ির সামনে দেয়ালে আঁকিয়েও আলোচিত হয়েছিলো বন্দুক শাহীন। এদিকে একটি অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে, ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির এক শীর্ষ নেতার কাছে গিয়েছিলো বন্দুক শাহীন।
সাত খুন মামলার আসামী নূর হোসেন সা¤্রাজ্যের পতনের পর জেলার অন্যতম মাদক বিক্রেতা রূপে নিজেকে তৈরী করে বন্দুক শাহীন। ১৩ অক্টোবর ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ার পর এই সাম্ররাজ্যের পতন হলেও নতুন কোন মাদক স¤্রাট আসবে না এমনটা ভাবতে পারছে না সচেতন সমাজ। তাদের মতে, প্রশাসন, রাজনীতিকসহ সমাজের সর্বমহল এক হয়ে মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমূখর না হলে সমাজ মাদকমুক্ত হবে না। আর তা না হলে একজন নূর হোসেন যাবে তো একজন বন্দুক শাহীন আসবে। আবার এক বন্দুক শাহীনের পতন হবে তো------- নতুন কোন মাদক সম্ররাটের আবির্ভাব হবে।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম