Sat, 16 Dec, 2017
 
logo
 

মন্ত্রনালয়ের নির্দেশের এক বছরেও হয়নি খাস জমির তালিকা তৈরি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ভূমিহীনদের আবাস নির্মাণের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে খাস জমির তালিকা চেয়েছিল সরকার। কিন্তু সেই তালিকা চাওয়ার এক বছরেও এখন পর্যন্ত আলোর মূখ দেখেনি।


জানা গেছে, গত বছরের অক্টোবর মাসে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে এমন নির্দেশনা দেয়া হয়। ভূমি মন্ত্রনালয়ের কাউন্সিল ও অধিগ্রহন শাখা থেকে উপসচিব মোহাম্মদ মাহবুব শাহীন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এমন নির্দেশনা জারি করা হয়। নারায়ণগঞ্জ সহকারী  কমিশনার (ভূমি) ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার রাজস্ব সার্কেলকে নির্দেশনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয়।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা জানানো হয়, সারাদেশের ৫ হাজার একর খাস জমি ২১ হাজার ভুমিহীনদের আবাসনের জন্য দিতে সরকারী ভাবে সম্মত হয়। এছাড়া প্রতি উপজেলার ভূমিহীন ৪৫টি পরিবারের আবাসন  ব্যবস্থা করার জন্য সরকার সিদ্ধান্ত নেয়।

অন্যদিকে ভূমি মন্ত্রনালয়ের সূত্র অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫ উপজেলার ২২৫ ভুমিহীনকে প্রথম দফায় আবাসন ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়া রাজধানী এবং বিভিন্ন জেলার  ভুমিহীনদের নারায়ণগঞ্জে খাস জমি বরাদ্দ দেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়

খোজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫ টি উপজেলায় বিপুল পরিমান খাস জমি পড়ে আছে। এসব জমির বেশীর ভাগ অবৈধ দখলদারদের কবলে। দীর্ঘদিন ধরে তারা ভোগ দখলের পাশাাপাশি  জাল দলিল মাধ্যমে তা বেচা কেনা করে  আসছে। সরকারের তালিকায় খাস জমি থাকলে বাস্তবে তা দখল হয়ে আছে যুগের পর যুগ। অবস্থা এমন পর্যায়ে গেছে দেখলে বুঝার কোন উপায় নেই এটা সরকারী খাস জমি। তার অন্যতম কারন হলো খাস জমিতে গড়ে উঠেছে বসতবাড়ি।

সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার মধ্যে খাস জমির পরিমান বেশী। তার পর রয়েছে সোনারগায়ের অবস্থান। সদর উপজেলার সাইনবোর্ড, তুষারধারা, গিরিধারা, মাহমুদপুর, দেলপাড়া ভুইগড়, দেলপাড়া টাওয়াপার, নয়ামাটি, লালখাঁ, জালকুড়ি, নন্দলালপুরসহ আশেপাশে এলাকায় প্রচুর খাস জমি জাল দলিলের মাধ্যমে বিক্রি করে দিয়েছে প্রতারকরা। জেলা প্রশাসনের তদারকি না থাকার কারনে এসব জমিতে গড়ে উঠেছে দালান কোটা।  এসব দালান কোটা দেখে বুঝার কোন উপায় নেই এসব সরকারী সম্পত্তি।

কুতুবপুর এলাকার একাধিক জালিয়াত বিশেষ করে দেলপাড়া এলাকার জমি জালিয়াতচক্র জাল দলিলের মাধ্যমে  নিরীহ লোকজনের কাছে সরকারী জমি বিক্রি করে দেয়। সহজ সরল মানুষ ঘামের পয়সা দিয়ে জমি কিনে বিপাকে পড়েছে। এছাড়া একই এলাকায় শক্র সম্পত্তিও জাল দলিলের মাধ্যমে বিক্রি করে দিয়েছে জালিয়াতচক্র। তাই ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক নারায়ণগঞ্জ জেলাপ্রশাসন যদি জেলার খাস জমি উদ্ধারের পাশাপাশি শত্রু সম্পত্তি চিহ্নিত করেন এবং জালিয়াত চক্রের  বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান ভুক্তভোগীরা।

নারায়ণগঞ্জ জেলা রাজস্ব শাখার সূত্র বলছে, এমন কোন কর্মকাণ্ড হচ্ছে বলে আমাদের জানা নেই।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম