Mon, 27 Feb, 2017
 
logo
 

সিদ্ধিরগঞ্জে কংস নদীর অস্তিত্ব বিলীন, কাগজ কলমে থাকলেও বাস্তবে চিহ্ন নেই

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ : এক সময় পাল তুলে নৌকা চলতো যে কংস নদীতে আজ তার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে। কাগজ কলমে নদীর নাম থাকলেও বাস্তবে এর চিহ্ন খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কালের আবর্তে নদীটি আজ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

এই নদী দিয়ে পাল তোলা নৌকা, ট্রলার ও জাহাজ চলাচল করতো। সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক থাকায় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ফতুল্লা, ডেমরা, রুপগঞ্জ, সোনারগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ এই কংস নদী ব্যবহার করতেন।

সিদ্ধিরগঞ্জে কংস নদীর অস্তিত্ব বিলীন, কাগজ কলমে থাকলেও বাস্তবে চিহ্ন নেই

মানুষজন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বেড়াতে গেলেও নৌকায় করে এই নদী দিয়েই পালতোলা নৌকায় পরিবার পরিজন নিয়ে স্বাচ্ছন্দে যাতায়াত করতেন। খরস্রোতা এই নদীটির বেশী বড় না হলেও এর গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। শীতলক্ষ্যা নদীর সিদ্ধিরগঞ্জের আজিবপুর থেকে নদীটি বয়ে চলে ডিএনডির মধ্যভাগ সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজির প্রধান সড়কের উত্তরপাশ দিয়ে ফতুল্লা হয়ে বুড়িগঙ্গায় মিশেছে।

দীর্ঘ ৮০ বছর পূবের্র কথা জানালেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কৃষকলীগের সভাপতি আব্দুল আলী। এই নদীটি ছিল ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য চলাচলের একমাত্র নদী। ফতুল্লা, জিঞ্জিরা, পুরান ঢাকা, নারায়ণগঞ্জের বন্দরের কুড়িঁপাড়া, ডেমরা ও নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ীরা এই নদী পথে নৌকা ও ট্রলারযোগে মালপত্র নিয়ে এক হাট থেকে অন্য হাটে যেতেন। তখন সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল নাজুক। নৌপথই ছিল ব্যবসায়ীসহ সবার চলাচলের প্রধান মাধ্যম।

সিদ্ধিরগঞ্জে কংস নদীর অস্তিত্ব বিলীন, কাগজ কলমে থাকলেও বাস্তবে চিহ্ন নেই

স্থানীয় এবং ডিএনডির সার্ভেয়ার সূত্রমতে এই নদীটি প্রশস্ত ছিল কোথাও ৭০ ফিট আবার কোথাও ছিল ৫০ ফিট। কিন্তু কালের আবর্তে ডিএনডির ইরিগেশন প্রজেক্ট  ১৯৬৮ সালে চালু হওয়ার পর থেকে প্রভাবশালীরা কংস নদী দখল ও ভরাট করার কাজ শুরু করে। তখন থেকেই কেউ নদী রক্ষায় এগিয়ে না আসায় ক্রমে ক্রমে সবাই নদীটি দখল ও ভরাট করতে করতে আজ নদীর অস্তিত্ব নেই অনেক জায়গায়। নদী দখল ও ভরাট করে বাড়িঘর, কলকারখানা, রাস্তাঘাট তৈরি করা হয়েছে।

সিদ্ধিরগঞ্জের পুল এলাকায় নদীটির ১০-১৫ ফুট প্রশস্ত দেখা যায় তাও ময়লা আবর্জনায় ভরাট হয়ে আছে। গত বছর  পাউবোর ডিএনডির পক্ষ থেকে নাম মাত্র কংস নদীর কয়েকশত ফুট ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করা হলেও নদী খনন ও অবৈধ দখলদারমুক্ত করা হয়নি। ডিএনডির পাউবোর কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব কর্তব্য অবহেলার কারণে  ও এলাকা ভিত্তিক প্রভাবশালীদের  খাম খেয়ালীপনা ও পেশী শক্তির কারণে নদীর অস্তিত্ব আজ বিলীন হয়ে গেছে। নদীর জায়গা গড়ে উঠেছে বিশাল অট্রালিকা, বহুতল ভবন, বাড়িঘর, কলকারখানা, রাস্তাঘাট ও মার্কেট।

এসব জায়গা বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, মার্কেট এমনভাবে গড়ে উঠেছে যে কোনভাবেই কেউ ভাবতেও পারেনা যে এখানে কংস নদী ছিল। কাগজ কলম ও মনচিত্রে এখনো কংস নদী থাকলেও বাস্তবে এর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে। কংস নদী আজ জীবিত থাকলে ৩২.৮ বর্গ কিলোমিটার ঘেরা  এই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ- ডেমরা ( ডিএনডি) বাধঁ অভ্যন্তরে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধ পানি কংস নদী দিয়ে শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গায় মিশে যেতো সৃষ্টি হতো না ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। কংস নদী মরে যাওয়ায় এখন প্রতিবছরই ডিএনডি অভ্যন্তরে এর প্রভাব পড়ছে। বর্ষামৌসুমে ২০ লক্ষাধিক লোক প্রতিবছরই মাসের পর মাস পানিবন্দী হয়ে দূর্বিষহ জীবন যাপন করে।

সিদ্ধিরগঞ্জে কংস নদীর অস্তিত্ব বিলীন, কাগজ কলমে থাকলেও বাস্তবে চিহ্ন নেই

বৃদ্ধ আব্দুল হাকিম বলেন, তিনি পিতার সাথে সিদ্ধিরগঞ্জ বাজার থেকে নৌকাযোগে কংস নদীর স্বচ্ছ পানি বেয়ে ডেমরা, ফতুল্লা ও ঢাকায় বিভিন্ন হাটবাজারে যেতেন। শত শত নৌকা ও পাল তোলা নৌকায় মানুষ চলাচল করতো। ব্যবসায়ীদের প্রধান বাহন ছিল নৌকা। তিনি বলেন, কালের আবর্তে নদী দখল ও ভরাট করে প্রভাবশালীরা নদী আজ গিলে ফেলেছে।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী  আউয়াল মিয়া বলেন, শুধু কংস নদীই নয়, গোটা ডিএনডি প্রজেক্ট এলাকার সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছদ, ও অবৈধ দখলে থাকা ও ভরাটকৃত নদী ও খাল পুনঃখনন করার জন্য পরিকল্পনা কমিশনে এ সংক্রান্ত বাজেট পাশ হয়েছে। অতি শ্রীঘ্রই তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে।

এটি বাস্তবায়ন হলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা ( ডিএনডি) বাধঁ অভ্যন্তরে প্রতিবছরের জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব হবে।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম ২৪