Wed, 28 Jun, 2017
 
logo
 

না.গঞ্জে বাড়িওয়ালাদের ভাড়া বৃদ্ধি ভাড়াটিয়াদের ‘বিষ ফোঁড়া’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: বছর ঘুরছে আর বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। তার সাথেই নানা অজুহাতে আবার বৃদ্ধি করা হচ্ছে বাড়ি ভাড়া। এ যেন স্বল্প আয়ের মানুষের দৈনন্দিন জীবনে রিতীমতো ‘বিষ ফোঁড়া’।

ইতিমধ্যে ভাড়া বৃদ্ধির মৌখিক নোটিশ অনেক ভাড়াটিয়াকে জানিয়ে দিয়েছে বাড়িওয়ালা। আর এ নিয়ে হতাশায় ভাড়াটিয়ারা।

তবে বাড়িওয়ালারা বলছেন, নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া, গৃহনির্মাণ ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি, দফায় দফায় বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এসব কারণেই বাড়িভাড়া বাড়াতে হচ্ছে।

অপরদিকে ভাড়াটেরা বলছেন, বাড়িওয়ালাদের ৮০ শতাংশই বাড়িভাড়ার আয় দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। এ কারণে কোনো কিছুর দাম সামান্য বাড়লেই ভাড়া বাড়ান মালিকেরা।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বারবার বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি যে দন্ডযোগ্য অপরাধ তা জানেন না বহু ভাড়াটে, তথা বাড়িওয়ালাও। যদিও কেউ জানে তারা এই আইনের তোয়াক্কাও করে না। এছাড়া এ বিষয়ে ভাড়াটিয়াদের অনেক অভিযোগ থাকলেও বাড়ি ভাড়া আইন সঠিকভাবে মানা হচ্ছে কিনা তা দেখারও কেউ নেই। ফলে একশ্রেণীর বাড়িওয়ালা দ্রব্যমূল্য, হোল্ডিং ট্যাক্স, পানির মূল্যবৃদ্ধি ইত্যাদির কথা বলে দফায় দফায় বাড়ি ভাড়া বাড়াচ্ছেন।

৩০লাখ মানুষের নারায়ণগঞ্জ জেলায় বাড়ি ভাড়া দিন দিন বাড়ছে। বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণের জন্য আইন থাকলেও তা কার্যকর নয়। নগরীতে গত ১০ বছরের বাড়ি ভাড়া বেড়েছে প্রায় তিন গুন। বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রন কঠোর আইন- অধ্যাদেশ থাকলেও তা কেবল কাগজ-কলমে।

ফতুল্লার তক্কারমাঠ এলাকায় ভাড়া বাড়িতে বসবাসরত শান্ত আহম্মেদ বলেন, ভাড়া বাড়িতে থাকতে ভালো লাগেনা, কিছুদিন পরপর নানা অজুহাতে মনমত বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি করছেন বাড়িওয়ালা। কিছু বলা যায় না।

অপর দিকে ঐবাড়ির মালিক লুৎফর রহমান বলেন, গৃহনির্মাণ ঋণের সুদের হার, বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি পাওয়াতে বাড়িভাড়াও বৃদ্ধি করতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ নাগরীক কমিটির সভাপতি এ বি সিদ্দিক বলেন, ভাড়া বৃদ্ধির কোন দোষের কিছু নয়। তবে অতিরিক্ত ভাড়া বৃদ্ধি করা দোষ। কোন কোন স্থানে ভাড়া বৃদ্ধি করেন দুই বছর পরপর, আবার কোথাও ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়, প্রতিবছরই। কয়েকদিন পূর্বে আমি শুনেছি, জামতলা এলাকার একটি বাসায় ২ হাজার টাকা ভাড়া বৃদ্ধি করেছেন বাড়িওয়ালা। এটা নিশ্চই দোষের বিষয়।

উল্লেখ্য, বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১ কার্যকর করতে ২০১০ সালে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিল। রিট আবেদনের পক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ গণমাধ্যমকে বলেন, আইনটি বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। আদালতের মাধ্যমে ভাড়া-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির কথা আইনে বলা আছে।

হাইকোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়িত হয়নি
এইচআরপিবির রিট আবেদনটির পরিপ্রেক্ষিতে রুল ও চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ১ জুলাই আদালত রায় দেন। রায়ে বলা হয়, বিদ্যমান আইনটি কার্যকর না হওয়ায় ভাড়াটেকে সুরক্ষা দেওয়া যাচ্ছে না। আইনটি কার্যকরে রাষ্ট্রকে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে; অন্যথায় সাধারণ মানুষ এ থেকে পরিত্রাণ পাবে না।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম ২৪