Fri, 28 Apr, 2017
 
logo
 

নির্মাণের পথে ‘শীতলক্ষ্যা সেতু’, উচ্ছ্বসিত দুই পাড়ের মানুষ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ : একটিমাত্র সেতু, যার অভাবে নগরীর ভেতরে থেকেও যুগযুগ ধরেই নাগরিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলো বন্দরবাসী।

বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নেতা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা আলোর মুখ দেখেনি পরে। যার ফলে সদর ও বন্দরের মানুষের সাথে দূরত্বটা থেকেই গিয়েছে যুগযুগ ধরে।

‘শীতলক্ষ্যা সেতু’ দু’পাড়ের বাসিন্দাদের প্রাণের দাবী, ছিলো একমাত্র স্বপ্ন। এবার সেই স্বপ্ন পুরণ হতে চলেছে। একটু দেরীতে হলেও দু’পাড়ের মানুষ এবার পেতে যাচ্ছে তাদের স্বপ্নের ‘শীতলক্ষ্যা সেতু’। এরমধ্যেই এ সেতুটির জন্য ৪৪৮ কোটি টাকা নির্মাণ ব্যয় ধার্য করে তা অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রীসভা। এ খবরে শীতলক্ষ্যার দু’ পাড়ের মানুষের মাঝেই এখন উচ্ছ্বাস আর আনন্দ বিরাজ করছে।  

সূত্র বলছে, বুধবার (২৮ ডিসেম্বার) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে এক বৈঠক শেষে অনুমোদিত প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর রহমান।

মন্ত্রনালয় সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে তাৎক্ষণিকভাবে নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর উপর একটি ব্রিজ নির্মাণ সংক্রান্ত ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। সৌদি ফান্ডে ব্রিজটি নির্মাণে মোট ব্যয় হবে ৪৪৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

শীতলক্ষ্যা সেতু’ নির্মাণ হওয়ার সংবাদের বেশ উচ্ছ্বিসিত নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও ‘দৈনিক খবরের পাতা’র সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মাসুম। তিনি তার ভালোলাগা ব্যক্ত করে বলেন, ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী প্রধানমন্ত্রীর কাছে ‘শীতলক্ষ্যা সেতু’ নির্মানের দাবী করেছেন। তারই প্রেক্ষিতে সাপ্তাহ খানেক না যেতেই এ সেতু নির্মানের ব্যয়ে প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন সরকার।

এবার শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মানে আর কোন বাধা থাকবে না আশা করে মাসুম বলেন, ৫নং ঘাট এলাকায় সেতুটি নির্মান হলে লক্ষ্যা পড়ের মানুষের বেশি কাজে আসবে।

‘দৈনিক ডান্ডিবার্তা’র সম্পাদক হাবিবুর রহামান বাদল ‘লাইভ নারায়ণগঞ্জ’কে বলেন, বিগত দিনে ‘শীতলক্ষ্যা সেতু’ নির্মানের নিয়ে বিভিন্ন ধরণের ষড়যন্ত্র হয়েছে। তবে, এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই হস্তক্ষেপ করায় আমি আশাবাধী ‘শীতলক্ষ্যা সেতু’ নির্মান হবে।

নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বে রফিউর রাব্বি বলেন, দেড় বছর পূর্বে শীতলক্ষ্যা নদীর উপর সেতু নির্মানের প্রস্তাব মন্ত্রনালয়ে পাঠিয়ে ছিলো নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন। এরমধ্যে ২২ ডিসেম্বর দ্বিতীয় বারের মতো মেয়ার নির্বাচিত হওয়ায় পর সেলিনা হায়াত আইভী প্রধানমন্ত্রীর কাছে ‘শীতলক্ষ্যা সেতু’ নির্মানের দাবী জানান। তার প্রেক্ষিতেই মন্ত্রীসভা এ সেতু নির্মানে ৪৪৮কোটি টাকা ব্যয়ে প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছেন। এখন আমাদের প্রত্যাশা ‘শীতলক্ষ্যা সেতু’ নির্মাণ কাজ যেন দ্রুত বাস্তবায়ন কারে সরকার।

নারায়ণগঞ্জ নাগরীক কমিটির সভাপতি এড. এ বি সিদ্দিক বলেন, ‘দই ভেবে চুন খেয়েছি, তাই এখন দই দেখলেও ভয় করে’ বাংলা এ প্রবাদের মতই নারায়ণগঞ্জবাসীর অবস্থা। কারণ, বিগত দিন ‘শীতলক্ষ্যা সেতু’ নির্মানের যে সকল প্রতিশ্রুতী দেয়া হয়েছে। তা বাস্তবায়নে তেমন কোন অগ্রযাত্রা দেখা যায়নি। তবে সেতু নির্মান হলে নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য ভালো হবে।

প্রসঙ্গত, নির্বাচন আসলেই মূলা হয়েছেন সদর-বন্দরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত শীতলক্ষ্যা সেতু। সর্বশেষ ২০১৬ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র মনোনীত মেয়র প্রার্থী শীতলক্ষ্যা নির্মানের প্রতিশ্রুতী দিয়েছেলেন।

যদিও বিগত ২০০৮ সালের নির্বাচনে মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বন্দরে নির্বাচনী প্রচারণায় এসে ওয়াদা করেন শীতলক্ষ্যা সেতু অবশ্যই হবে। তখন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন্দরের একটি জনসভায় ‘শীতলক্ষ্যা সেতু’ নির্মাণের ব্যাপারে আশ্বাস দেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী গণভবন থেকে ভিডিও কন্ফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা ৩৭৭ কোটি ব্যায়ে নির্মিতব্য এই শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মানের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করেন।

অপরদিকে ১৯৯১ সালে শীতলক্ষ্যা নদীর উপর নারায়ণগঞ্জবাসীর (সদর-বন্দর) দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বন্দর ও নারায়ণগঞ্জবাসীর ভোট নিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়েছেন চারদলীয় জোট। ৯৬’ সালে একই কায়দায় নির্বাচনী বৈতরনী পার করে আওয়ামীলীগ।

এরপর, ২০০৬ সালের নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শহরের নবীগঞ্জ ঘাট এলাকায় একটি ‘শীতলক্ষ্যা সেতু’র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার প্রচেষ্টা চালায়। কিন্তু, সেই স্থানে সেতু নির্মাণ হওয়ার সরকারিভাবে কোনো প্রস্তাবনা ছিল না।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম ২৪