Sun, 30 Apr, 2017
 
logo
 

নির্বাচনে হেরে গিয়েও সাখাওয়াতের প্রাপ্তি অনেক

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ : সারা বাংলাদেশের জন্যই এক অনন্য দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে শেষ হয়েছে বহুল আলোচিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন। নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী বিজয়ী হলেও এ নির্বাচনে সাখাওয়াতের-ও অনেক অর্জন রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।


এবারের সিটি নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির তৈমুর আলম খন্দকার, সাবেক সাংসদ আবুল কালাম এবং গিয়াসউদ্দিনের মত নেতাকে ছাপিয়ে বিএনপির প্রার্থী হতে পারা সাখাওয়াতের জন্য ভবিষ্যতে বিএনপির রাজনীতিতে মসৃন পথ তৈরী হবে বলে বিশ্বাস করেন বিশ্লেষকরা।

সাখাওয়াতের সাথে আইভীর ৭৭ হাজার ভোট ব্যবধান। নির্বাচনে সাখাওয়াতে ৯৬ হাজার ভোটকেই তার জন্য অনেক বড় অর্জন বলে দেখছেন সবাই। এর মধ্যে দিয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে ভবিষ্যত নেতার আগম ঘটলো বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

নির্বাচনে বিএনপির একদম নতুন প্রার্থী হিসেবে প্রচার করা হলেও অদূর ভবিষ্যতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি কখনোই সাখাওয়াত হোসেন খাঁনকে খাটো করে দেখতে পারবে না। এ নির্বাচনের মাধ্যমে সারা নারায়ণগঞ্জ তথা জাতীয় পর্যায়ে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য এক বিলবোর্ড হিসেবে কাজ করবে বলে ভাবছেন সাধারণ মানুষ।

এ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় বিএপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সমীহ আদায় করা ইতিমধ্যে হয়ে গেছে সাখাওয়াত হোসেন খাঁনের। একই সাথে বিএনপির চেয়ারপার্সেন বেগম খালেদা জিয়া নারায়ণগঞ্জে বিএনপির একজন তুখোড় নেতা পেয়েছেন বলে ভাবছেন অনেকে।

অনেক বছর নির্বাচনী মাঠ থেকে বিচ্ছিন্ন বিএনপি সাখাওয়াতের কারণেই জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচন নিয়ে সরব থাকার সুযোগ পেয়েছে। আওয়ামীলীগের ঘাঁটি হিসেবেখ্যাত নারায়ণগঞ্জে বিএনপির একদম নতুন প্রার্থী হিসেবে সাখাওয়াত এক লাখের মতো ভোট আদায় করাকে অনেক বড় অর্জন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

এ নির্বাচনের আগে এবং পরে সাখাওয়াত হোসেন খাঁেনর ব্যবহারে এবং দৃষ্টিভঙ্গিতে সাধারণ মানুষ তাকে আইনজীবীর বাইরে একজন ক্লিন ইমেজের রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে সবার কাছে পরিচিত করেছে বলেই ভাবছেন বিশ্লেষকরা। আর এ নির্বাচনে তার পক্ষে ৩৭ শতাংশ ভোট তাই প্রমাণ করে।

সেলিনা হায়াৎ আইভির মতো একজন হেভিওয়েট প্রার্থীর সাথে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নেমে তিনি একই কাতারে নিজেকে অধিষ্ঠিত করতে পেরেছেন বলেই মনে করেন বিশ্লেষকরা। আইভীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সাখাওয়াতের বাসায় মিষ্টি নিয়ে যাওয়া এবং নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে তার পরামর্শ গ্রহণের মতো এক বিরল দৃষ্টান্তেও নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পেরেছেন সাখাওয়াত হোসেন খান। যা তার জন্য ইতিবাচক।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় সাখাওয়াত একাধিকবার বলেছিলেন, নির্বাচনে যে ফলাফল-ই হোক তিনি তা মেনে নেবেন। কথা অনুযায়ী তিনিও তার কথা রেখেছেন। নির্বাচনী ফলাফল মেনে নিয়ে তার ব্যক্তি ইমেজের জন্যও এক অনন্য নজির বলে মনে করেন সবাই। তার এ রকম ব্যবহারে নারায়ণগঞ্জের ভাবমূর্তি সারা বাংলাদেশের কাছে একটি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। যা তার ব্যক্তি ইমেজকে সমৃদ্ধ করেছে।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম ২৪