Sun, 23 Sep, 2018
 
logo
 

ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকে ছুটছে সাধারণ যাত্রী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ : মহাসড়কগুলোতে বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচলকারী সিএনজি ও লেগুনা না পেয়ে নিত্যদিন এভাবেই সোনারগাঁও ও বন্দর থানার হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকে করে কর্মের জন্য বিভিন্ন শিল্প কারখানা ও গার্মেন্টসে যাচ্ছে। এতে
ঝুঁকি নিয়ে চলাচল বাড়ছে এবং নিত্যদিন গাড়ী না পেয়ে কর্মস্থলে দেরীতে পৌছার কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও তার কর্মকর্তা-কর্মচরাীদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়ে কর্মপরিবেশ নষ্ট হবার জোড় আশংকা দেখা দিয়েছে। এদিকে সরকার কর্তৃক ছোট যানগুলোকে নিষিদ্ধ করায় রাস্তা ফাঁকা পেয়ে বড় ও দূরপাল্লার গাড়ীগুলো বেপরোয়াভাবে চলার কারণে বড় বড় দূর্ঘটনা ঘটে বিপুল সংখ্যক যাত্রীদের প্রাণহানী ঘটছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে গরিব চালকদের উপার্জনের মূল উৎস ছোট ছোট যানবাহনকে কেটে ও ভেঙ্গে নর্দমায় ফেলে দেয়ার বেকারত্ব বেড়ে পারিবারিক
কলহের সৃষ্টি হচ্ছে। যা সরকারের বেকারমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয়কে প্রশ্নবিদ্ধ
করছে। নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও ও বন্দর থানার মূল কাঠামোই হচ্ছে মহাসড়ক নির্ভর। আর তাই মহাসড়কের সবগুলো ছোট ছোট স্ট্যান্ডে বাস না থামায় এবং ছোট ছোট যান চলাচল বন্ধ থাকায় বৃদ্ধ, শিশু সহ মহিলারা চলাচলে মারাত্মক অসুবিধার সম্মুখিন হচ্ছেন বলে জানা গেছে। সোনারগাঁও উপজেলার মোগড়াপাড়া থেকে কাঁচপুর ও কাঁচপুর থেকে গাউছিয়া রুটে লেগুনা না চলাচল করায় লেগুনা মালিক, চালক সহ যাত্রীরা ভোগান্তির সম্মুখিন হচ্ছেন। তাছাড়া বন্দরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্পটে এ সমস্যা হবার পাশাপাশি বিভিন্ন ছোট ছোট শাখা রোডগুলো বিশেষ করে কেওঢালা থেকে অলিপুরা রুটে ছোট যানগুলোকে মহাসড়কের পাশেও রাখতে দিচ্ছেনা পুলিশ

এমনটি জানিয়েছেন চালকরা। ভূক্তভোগী কয়েকজন যাত্রী জানান, সকালে অফিসে যাবার সময় মহাসড়কে বহু কষ্টে আসলেও আমরা ছোট যানের অভাবে কর্মস্থলে ঠিকভাবে যেতে পারছিনা। বিভিন্ন বড় স্ট্যান্ডগুলো থেকে যাত্রী ভরে আসায় বাসগুলো সব সময় ছোট স্ট্যান্ডগুলোতে থামেনা এবং থামলেও অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে সেসব বাসে আমাদের গমন করতে হয়। আবার প্রায় সময় আমরা ঝুকি নিয়ে ট্রাকে করে কর্মস্থলে যাচ্ছি। কেউ দূর্ঘটনায় আহত হলে বা কোন অসুস্থ রোগীকে নিয়ে ছোট যানের অভাবে কোন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যাচ্ছেনা। বয়স্ক, শিশু ও মহিলারাও যানের অভাবে কোথাও ভালভাবে যেতে পারছেনা। তাছাড়া বিপাকে পড়েছে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা। ঢাকা মহাসড়কের পাশে পৃথক লেনের কথা বলা হলেও আজ পর্যন্ত আমরা কোন দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাইনি। পৃথক লেন করে ছোট যান চলার ব্যবস্থা করা হলে আমাদের ভোগান্তি কমবে, এজন্য সরকারকে দৃষ্টি দেবার অনুরোধ জানাচ্ছি।অন্যদিকে সিএনজি ও লেগুনার সাথে সম্পৃক্ত কয়েকজন মালিক ও চালক জানান, সরকারেক প্রয়োজনীয় ভ্যাট ও ট্যাক্স দিয়েই গাড়িগুলো দেশে ঢুকেছে। তখন নিষেধ না করে কেন এখন এগুলো বন্ধ করা হচ্ছে। আমরা সম্পত্তি বিক্রি করে, টাকা ধারে নিয়ে ও কোম্পানী থেকে কিস্তিতে এগুলো কিনেছি। মাস শেষ হলে আমাদের কিস্তি পরিশোধ করতে হবে। প্রতিদিন পরিবারের খাবার, ভরণ পোষণ ও শিশুদের লেখাপড়া আমরা কিভাবে চালাব? মহাসড়কে না চালালেও সিএনজি নেবার জন্য সিএনজি পাম্পে যাবার সময়ও আমরা আতংকে থাকি কখন পুলিশ আমাদের গাড়িগুলোকে ধরে নিয়ে যায়। গাড়ীগুলোকে ধরে

নিয়ে ভেঙ্গে নর্দমায় ফেলে দেয়া হচ্ছে। আমাদের সম্পত্তিগুলোকে ভেঙ্গে আমাদের পথে
বসানো হচ্ছে। আমরা বাঁচব কিভাবে সে রাস্তা খুজে পাচ্ছিনা। আমরাও পৃথক লেন
করে মহাসড়কে ছোট যান চালানোর অনুমতি দেবার অনুরোধ জানাচ্ছি।

এদিকে এভাবে বেকারত্ব বাড়া সহ জনমনে আতংক ও উৎকন্ঠা বাড়তে থাকলে পেটের দায়ে
এ ছোট পেশাজীবীরা অপরাধমূলক কাজে পা বাড়াতে পারে বলেও আশংকা করেছেন
সচেতন মহল। গরিব ও খেটে খাওয়া মানুষদের কথা ভেবে এ বিষয়টি সরকার আরও
গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে সরকারের সুদুরপ্রসারী ভাবনার বহিঃপ্রকাশ করবেন বলে
প্রত্যশা সকলের।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম