Sat, 18 Aug, 2018
 
logo
 

ডিএনডির নতুন সমস্যা: নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা, পানি নেই পাম্পের মুখে

গোলাম রাব্বি, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) বাঁধের ভেতরে গত বছরের সৃষ্ঠ জলাবদ্ধতার কথা মনে হলেই গা সিউরে উঠে ফতুল্লার শিয়াচর এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলামের। ৬ মাসেরও বেশি সময় তাদের থাকতে হয়েছিলো পানিবন্দী অবস্থায়। এসময় বিশুদ্ধ খাবার পানি টুকুও পায়নি তারা।

আসন্ন বর্ষায় জলাবদ্ধতার কথা ভাবতেই কপালে ভাঁজ দেখা যায় এই ব্যক্তির। চিন্তিত হয়ে নুরুল ইসলাম বলেন, ‘গতবছরের জলাবদ্ধতায় নর্দমা দিয়ে রাস্তাঘাট তলিয়ে গেয়েছিলো। এ নোংরা পানি পার হয়ে আমাদের চলাচল করতে হয়েছে দিনের পর দিন। আমরা দাবি করবো এখনই যাতে জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যবস্থা নেয়া হয়।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কয়েক দিনের বর্ষণের ফলে মিজমিজির পাইনাদী, সিআইখোলা, কালাহাতিয়ার পাড়, নতুন মহল্লা, মজিববাগ, রসুলবাগ, নয়াআটি, তুষার ধারা, হাজীগঞ্জ, গিরিধারা, জালকুড়ি, শহীদ নগর, ভূইঘর, দেলপাড়া, রামারবাগ, লালখাঁ, লালপুর, সস্তাপুরসহ বিভিন্ন নিচু এলাকার অনেক রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। অথচ, শিমরাইল এলাকার অবস্থিত পাম্প হাউজের খালে পানি নেই বললেই চলে। বর্তমানে ২.৭ এ অবস্থান করছে সেখানের পানির উচ্চতা।

শিমরাইল পাম্প হাউজের প্রকৌশলী আব্দুল জব্বার বলেন, কচুরী পানা, ময়লা আবর্জনা ফেলা ও দখলের কারণে ডিএনডির বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও পাম্প হাউজের সামনে পানি নেই। তাই বড় ৩টি পাম্প, মাঝে মধ্যে ছাড়া হলেও ছোট পাম্পগুলো এখনো ছাড়ার প্রয়োজন হয়নি। তাই পাম্পগুলো ছোট খাট সমস্যাগুলো সমাধান করছি। পাশাপাশি পাইপ লাইন শতভাগ সংস্কার করা হচ্ছে।

সূত্র বলছে, ডিএনডি বাঁধ সংস্কার এবং ভেতরের জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য ৫৫৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গত ২০১৬ সালের ৯ আগস্টে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) অনুমোদিত হয়েছিল। পরবর্তীতে কাজটি সেনাবাহিনীকে দিয়েছে সরকার।

ডিএনডির নতুন সমস্যা: নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা, পানি নেই পাম্পের মুখে

এদিকে ৩ বছর মেয়াদী এই প্রকল্পের আওতায় দুটি নতুন পাম্পহাউস করা হবে বলে জানিয়েছিল পাউবো। একটি পাম্পহাউস আদমজী নগরে এবং আরেকটি হবে শিমরাইলে পুরোনো পাম্পহাউসের পাশে। পাশাপাশি শিমরাইলে ৭টি, আদমজী নগরে ৬টি, শ্যামপুরে ২টি, পাগলায় ১০টি ও ফতুল্লায় ছোট-বড় ১২টি পাম্প বসানোর কথা রয়েছে। এসব পাম্পহাউস ও স্টেশন বসানোর আগেই শুরুর কথা রয়েছে বাঁধের ভেতরে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল সংস্কারের কাজ। এছাড়া ১২টি ব্রীজ, ৭৯টি আরসিসি কালবাড ও ৯৪ কিলোমিটার ড্রেনেজ ক্যানেল নির্মানের কাজ হবে এই প্রকল্পে। কিন্তু কাজটি হাতে নেওয়ার দীর্ঘ ৬ মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত খালগুলোই উদ্ধার করতে পারেনি প্রকল্প বাস্তবায়নে দায়িত্বরত কর্তৃপক্ষ।

এবিষয়ে সাংসদ একেএম শামীম ওসামান বলেন, বর্ষা শুরু হয় নাই। এরই মধ্যে ডিএনডির বিভিন্ন এলাকার জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আপনারা দেখে অবাক হবেন, মানুষ কতটা মানবেত জীবন যাপন করছে। কিছু মানুষের জন্য আজ দূর্ভোগে রয়েছে ডিএনডির লাখ লাখ মানুষ।

ডিএনডি প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মাসফিক বলেন, ডিএনডির খাল গুলো শুধু কাগজেই রয়েছে। বাস্তবে তা খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না। তাই এই মুহুতে আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূন হলো খালগুলো উদ্ধার করা। এটা যেহেতু দীর্ঘ মেয়াদী প্রকল্প, তাই আগামী ৩ - ৪ মাসের মধ্যে এর সুফল পাওয়া সম্ভব্য না। তবে জলাবদ্ধতা যাতে দীর্ঘ মেয়াদী না হয়, সে লক্ষে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ‘বর্ষায় পানি থাকবে না’ এ কথা দিতে পারবো না।

উল্লেখ্য, ১৯৬৫-১৯৬৮ সালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা অঞ্চলের ৬ হাজার হেক্টর জমি নিয়ে ইরিগেশনের জন্য গড়ে তোলা হয় ডিএনডি প্রজেক্ট। একের পর এক এখানে গড়ে উঠতে শুরু করে শিল্প-কারখানা ও বাড়িঘর। বর্তমানে প্রজেক্টটি আবাসিক ও শিল্পাঞ্চলে পরিণত হয়েছে। প্রায় ২০ লাখ মানুষ এখানে বসবাস করছেন।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম