Fri, 22 Sep, 2017
 
logo
 

রূপগঞ্জে ঢাকা-সিলেট ও এশিয়ান হাইয়ে মহাসড়কে নিত্যদিনের যানজট, যাত্রী ভোগান্তি চরমে

দুলাল ভুইয়া, রূপগঞ্জ করেসপন্ডেন্ট: রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা-গোলাকান্দাইল এলাকার ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) নামে দুটি মহাসড়কে এখন নিত্যদিনই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই উভয় সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হওয়ার কারনে ঘন্টার ঘন্টা আটকা পড়েছে শত শত যানবাহন।

ভোগান্তির শিকার হয়েছেন যাত্রীসাধারনসহ বিভিন্ন মালবাহী যানবাহনের চালকরা।

রূপগঞ্জে ঢাকা-সিলেট ও এশিয়ান হাইয়ে মহাসড়কে নিত্যদিনের যানজট, যাত্রী ভোগান্তি চরমে
কাগজপত্র দেখার নামে পরিবহন থেকে চাঁদা আদায়, অহেতুক যানবাহনে রেকার লাগানো, সড়কে বড় বড় গর্ত, ফুটপাত ও ভুলতা ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজের মালামাল আনা-নেয়ার কারনে এ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় পরিবহন শ্রমিকদের। এছাড়া ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজে সারা দিন-রাত ধুলাবালিতে পুরো এলাকা অন্ধকার হয়ে যায়। ধুলাবালির কারনে স্থানীয় জনগন দিন দিন অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে সোমবার-মঙ্গলবার বৃহত্তর গাউছিয়া পাইকারী কাপড়ের বাজার ও বৃহস্পতিবার গোলাকান্দাইল গরুর হাটের জন্য এখন প্রায় সময়ই ওই দুই মহাসড়কে যানজটের ভয়াবহতা বেড়ে যাচ্ছে।


তবে পুলিশ জানায়, দুটি মহাসড়কের যানজট নিয়ন্ত্রণ রাখতে ট্রাফিক পুলিশের এক জন সার্জেন্টসহ তিন জন পুলিশ সদস্য ও কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের একজন এসআইসহ তিন জন পুলিশ সদস্য দেয়া হয়েছে। আর এদের নিয়ন্ত্রন করছেন ট্রাফিক পুলিশের এক জন ইন্সপেক্টর। অল্প কিছু সংখ্যক পুলিশ সদস্যর কারনে যানজট নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।


পরিবহন চালক, যাত্রী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার গোলাকান্দাইল চৌরাস্তা এলাকা দিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) সড়ক ক্রস করেছে। এছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হলে এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) সড়কে যানাবাহন চলাচল বন্ধ রাখতে হয়। আবার এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) সড়কে যানাবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখতে হয়। দুটি সড়কেই যানবাহনের চাপ অনেক বেশি। তাই দুটি সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে গিয়ে পুলিশ প্রশাসনকে হিমশিম খেতে হয় এবং যানজট সৃষ্টি হয়ে যায়। এছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক মোটামুটি প্রসস্থ্য হলেও এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) সড়কটি প্রসস্থ্য অনেকটা কম। যার ফলে এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) সড়কে কোন প্রকার যানবাহন বিকল হয়ে পড়লেই তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

রূপগঞ্জে ঢাকা-সিলেট ও এশিয়ান হাইয়ে মহাসড়কে নিত্যদিনের যানজট, যাত্রী ভোগান্তি চরমে
অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে গোলাকান্দাইল-কাঞ্চন, কুড়িল বিশ^রোড ও কালিগঞ্জ সড়কে লক্কর-ঝক্কর ও ফিটনেসবিহীন প্রাইভেটকার ও লেগুনা চলাচল করছে। আর ফিটনেসবিহীন লক্কর-ঝক্কর যানবাহন যোগে অতিরিক্ত ভাড়ায় চলাচল করছে যাত্রীসাধারন। এসব লক্কর-ঝক্কর যানবাহন গুলো প্রায় সময়ই সড়কে বিকল হয়ে পড়ছে। এতে করে যানজট সৃষ্টি হয়ে যাচ্ছে। মাসিক মাসোহারার কারনে অনুমোদনবিহীন এসব যানবাহনে রেকার লাগানো হয়না।


বুধবার সকালে বেশ কয়েকজন যানবাহন চালকের সঙ্গে কথা হয়। ট্রাক চালক ইব্রাহীম বলেন, ভুলতা-গোলাকান্দাইল এলাকায় আসা মাত্রই কমিউনিটি পুলিশ লেখা পোশাকধারী একদল চাঁদা নিতে আসে। ৩শ থেকে ৫শ টাকার নিচে হলেই বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করে থাকে। এ কারনে ভিক্ষা হিসেবে দিয়ে দেই।


মাদবদী এলাকার ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী ইমান আলী বলেন, পুলিশের জন্য রোড খরচ হিসেবে আলাদা ২ থেকে ৩ হাজার টাকা রাখতে হয়। আর নয়তো মাল অবৈধ বলে রেকার লাগিয়ে দেয়। তাই টাকা দিয়েই ভাঙ্গারী মালামাল আনা-নেয়া করে থাকি।


কিশোরগঞ্জ গামী বাস চালক আয়াত আলী বলেন, যাত্রী  উঠানোর  জন্য ভুলতা-গোলাকান্দাইল থামানোর জন্য দিতে হয় ৫০ থেকে ১শ টাকা। না দিলেই বাসের লাইট বা গ্লাস ভেঙ্গে দেয় পুলিশের নিয়োজিত লোকজন। এ কারনে আগে থেকেই দিয়ে দেই। এ ধরনের অভিযোগের শেষ নেই।


ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মাহাবুব আলম বলেন, কাগজপত্র দেখার নামে পরিবহন থেকে চাঁদা আদায় ও অহেতুক রেকার লাগানোর বিষয়টি সঠিক নয়। নিয়ম অনুযায়ীই পরিবহন গুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়ে থাকে। এছাড়া যানজট নিরসন করতে সব সময় পুলিশ প্রশাসন অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে।


ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও ইন্সপেক্টর শহিদুল হক বলেন, ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি রূপগঞ্জ থানা পুলিশও যানজট নিরসনে কাজ করে যাচ্ছে। তবে ট্রাফিক আইন না মেনে যানবাহন গুলো চলাচলের কারনে বেশির ভাগ যানজট সৃষ্টি হয়ে থাকে।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম ২৪