Mon, 26 Jun, 2017
 
logo
 

জেলার মহাসড়কের ৫ বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী ছাউনি নেই, দূর্ভোগে যাত্রী সাধারণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের ব্যস্ততম ৫ বাসস্ট্যান্ডের একটিতেও নেই যাত্রী ছাউনি। যাত্রীছাউনি না থাকায় ভোগান্তিরও শেষ নেই। যাত্রীদের রোদে পুড়তে হয়, না হলে বৃষ্টিতে ভিজতে হয়। বয়স্ক নারী পুরুষ ও শিশুদের নিয়ে রোদ-বৃষ্টিতে ঘন্টার পর ঘন্টা বাসের অপেক্ষায় থাকতে হয়।

এসময় অনেকেই পকেট মার ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে খোয়াচ্ছে মোবাইল টাকা ও লাগেজ। যাত্রীছাউনির অভাবে এভাবেই প্রতিদিন বহু মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উদাসিনতা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের দখল বানিজ্যে অস্থায়ী যাত্রী ছাউনি করা হলেও রাতের আধারে তা সড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। পরে তারাই যাত্রী ছাউনি চুরি হয়ে গেছে বলে খোশগল্প নিয়ে মাতোয়ারা থাকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকা থেকে সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনা ঘাট পর্যন্ত দূরত্ব ২৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রধান বাসস্ট্যান্ড সাইনবোর্ড, শিমরাইল, কাঁচপুর, সোনারগাঁ মোগরাপাড়া চৌরাস্তা ও মেঘনা ঘাট বাসস্ট্যান্ড ব্যবহার করে মানুষ বিভিন্ন গন্তব্যে যায়। এ বাসস্ট্যান্ডগুলোতে প্রতিদিন কয়েক লক্ষাধিক যাত্রী জমায়েত হয়। এসব বাসস্ট্যান্ডে কোনো যাত্রী ছাউনি না থাকায় দুভোর্গে সময় পার করছে যাত্রীরা। যাত্রী ছাউনি সংকট ছাড়া সংকট রয়েছে গন শৌচাগারের। বাসস্ট্যান্ডগুলোকে ঘিরে চতুপার্শে¦ গজে উঠেছে অস্থায়ী দোকান পাট।  এতে যাত্রী সাধারনরা বাস স্ট্যান্ডের একটি নির্দিষ্ট জায়গাতে দাড়াতে পারেনা দোকানদারদের প্রভাবে। আবার এসব দোকান থেকে কেনাকাটা করলেও নির্দিষ্ট মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্য আদায় করছে দোকানিরা। নির্ধারিত বাসস্ট্যান্ড না থাকায় দুরপাল্লা গামী গাড়িগুলো যত্রতত্র স্ট্যান্ড করছে। এসুযোগ নিয়ে কাউন্টার ব্যবসার নামে গড়ে উঠেছে এক শ্রেনীর প্রতারক চক্র।

এছাড়া যাত্রীদের কাছ থেকে চেয়ার কোচ বাসে উঠিয়ে দিবে বলে ভাড়া নিয়ে তুলে দিচ্ছে লোকাল বাসে। এর প্রতিবাদ করার কারনে  প্রায় সময়ই যাত্রীদের শারিরিকভাবেও লাহ্নিত হতে দেখা যায়।  দখল ও অপরাধ বানিজ্যে এসব বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা আইনশৃংখলাবাহিনীর দূর্নীতিগ্রস্থ কর্মকর্তা ও গনমাধ্যমের কতিপয় সাংবাদিকদের  নির্দিষ্ট মাসোহারা দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এ মহাসড়কে লায়ণ মোজাম্মেল মৌচাক এলাকায় একটি অস্থায়ী যাত্রী ছাউনি স্থাপন করলেও সম্প্রতি দখলদাররা এটি রাতার আধারে সড়িয়ে ফেলে ওই স্থানে দোকান তুলে ভাড়া দিয়ে দেয়।

এদিকে, যাত্রাবাড়ীতে ফ্লাইওভার চালু হওয়ার পর অনেকেই এখন নিজ বাড়ি থেকে ঢাকা অফিস করছেন। তা ছাড়া নারায়ণগঞ্জে উল্লেখযোগ্য কোন উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় অনেক শিক্ষার্থীও প্রতিদিন এই বিড়ম্বনার দূর্ভোগ নিয়ে বাড়ি থেকে রাজধানীতে যাতায়াত করছেন।

অন্যদিকে, সোনরগাঁয়ে দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য  বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন অবস্থিত। এখানে নিয়মিত পর্যটকদের যাতায়াত রয়েছে। শুধুমাত্র পরিবহনের অব্যবস্থাপনার কারনে স্থানীয়রা সোনরগাঁয়ের পর্যটন বিমুখ হয়ে পড়ছে। ফলে আজকের শিশুরা ইতিহাস-ঐতিহ্য থেকে পিছিয়ে পাশ্চাত্য সংস্কৃতিতে জড়িয়ে পড়ছে।  

ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ, মহাসড়কে রয়েছে বাসের স্বল্পতা । বাসের অপক্ষোয় যাত্রীদের বাসস্ট্যান্ডগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীছাউনি ও গণশৌচাগারের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু সাইনবোর্ড, চিটাগাংরোড, কাঁচপুর, সোনারগাঁ মোগরাপাড়া চৌরাস্তা ও মেঘনা ঘাট বাসস্ট্যান্ডে কোনো যাত্রীছাউনি ও শৌচাগার নেই। প্রায় সময়ই বিভিন্ন দূর্ভোগে পড়তে হয়। এ জন্য বিভিন্ন সময় প্রশাাসন ও জন প্রতিনিধিদের কাছে দেনদরবার করেও কোনো ফল মেলেনি।

বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালক রবীন্দ্র গোপ বলেন, বাসস্ট্যান্ডগুলোতে শৌচাগার ও যাত্রীছাউনি না থাকায় পর্যটকেরা দুর্ভোগে পড়ছেন। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নসহ সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু নাছের ভূঁঞা বলেন, যাত্রীছাউনি ও গণশৌচাগারের সংকটই এই পথে যাতায়াতকারী যাত্রী ও পর্যটকদের প্রধান সমস্যা। এ বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসা দরকার। বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হবে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী আলী উল হোসেন বলেন, এই মহাসড়কটি আমাদের আওতাধীন। যাত্রী ছাউনি ও গন শৌচাগারের বিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ না করায় বিষয়টি নিয়ে আমাদের কোন পরিকল্পনা নেই।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম ২৪