Tue, 17 Jan, 2017
 
logo
 

রূপগঞ্জে স্বপ্নের এশিয়ান হাইওয়ে পরিণত হয়েছে মরণ ফাঁদে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: রূপগঞ্জের এশিয়ান হাইওয়ে ( বাইপাস ) সড়ক  মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে চরম ভোগান্তির আর এক নাম এ জনপথ। শুধু মানুষই নয়,সড়কের বেহাল দশার কারণে প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

একসময় স্থানীয় বাসিন্দাদের চোখে এ সড়কটি ছিলো স্বপ্নের বিশ্বরোড।

রূপগঞ্জ, কালীগঞ্জ, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জবাসীর জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধিকারী এক জনপদ। সড়কটিকে ঘিরে আশপাশ এলাকার জমির দাম শতগুণ বেড়ে গেছে। শুধু স্থানীয় বাসিন্দাদের কল্যাণেই নয়, দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং সাভার ও গাজীপুর শিল্প এলাকার সঙ্গে সিলেট ও বন্দরনগরী চট্রগ্রামের সহজ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে এ সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছিলো।

এটি চালু করা হয়েছে ঢাকা শহরের উপর যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ  কমার জন্য। কিন্তু কোনটাই হচ্ছে না। সড়কটির  রূপগঞ্জ অংশের বিভিন্ন জায়গায় খানাখন্দে ভরা। শুধু বাইপাস নয়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও রূপগঞ্জের প্রধান প্রধান রাস্তা ভয়ঙ্করে পরিণত হয়েছে। বাইপাস সড়কের সংযোগ শীতলক্ষ্যা নদের উপর কাঞ্চন সেতুও ঝূকির মুখে। সেতুর পিচ উঠে খানাখন্দে ভরে গেছে। সড়ক-মহাসড়কের বেহাল দশার কারণে প্রতিনিয়ন ঘটছে দূর্ঘটনা। বাড়ছে মানুষের ভোগান্তি।

রূপগঞ্জে স্বপ্নের এশিয়ান হাইওয়ে পরিণত হয়েছে মরণ ফাঁদে

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, লাখ লাখ মানুষের স্বপ্নের বাইপাস সড়কটির আজ বেহাল দশা। ২৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সড়কটি এখন শ্রীহীন। খানাখন্দে ভরপুর। কোথাও দেবে গেছে। কোথাও ভাঙ্গা। কোথাও গর্ত। সড়টির ৪৯ কিলোমিটারের মধ্যে ৮/৯ কিলোমিটার ছাড়া পুরো রাস্তার কোথাও না কোথাও গর্ত।

সড়টির রূপগঞ্জ অংশে পিচঢালা কালো রাস্তার বদলে সড়ক যেনো এক ভংয়কর রাক্ষুসে রাস্তা। পিচ ভেঙ্গে পুরো রাস্তাটি যেনো একটি ধ্বংসস্তূপ। যেনো খাবলে খাবে যানবাহন, আর পথচারী। যেনো মৃত্যুগুহা। স্থানীয়দের মতে, একটু বৃষ্টি হলেই বেহাল চিত্র সৃষ্টি হয় রাস্তাজুড়ে। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা ভুলতা থেকে  উলুখোলা পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার রাস্তা। বৃষ্টি হলে এ রাস্তায় কাদা জমে হাটু পানি। মাঝে মাঝে ট্রাকের চাকা ডুবে বন্ধ হয়ে যায় যানবাহন চলাচল। ভারি মালবাহী যানবাহন দূরের কথা, রিকসা-সিএনজি নিয়ে যেতেও দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয় চালকদের।

স্থানীয়রা জানান, সড়কটি কয়েকদিন পরপর মেরামত করা হয়। মেরামতের কয়েকদিন পরই আবার পুরনো চেহারায় ফিরে যায়। সরেজমিনে দেখা যায়, উলুখোলা বাজার থেকে কুচিলাবাড়ি, গলান, নীচুতলা, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড, হিরনাল, মাঝিপাড়া, কাঞ্চন সেতু হয়ে কেন্দুয়া, ভুলতা পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশা। পুরো রাস্তার অধিকাংশ স্থানে ভাঙ্গা ও খানাখন্দে ভরা। ট্রাক চালক রজ্জব আলী বলেন, রাস্তার অবস্থা এতই খারাপ ভাই, অনেক সময় ট্রাকের চাকা দেবে যায়।

রূপগঞ্জে স্বপ্নের এশিয়ান হাইওয়ে পরিণত হয়েছে মরণ ফাঁদে

কাঞ্চন সেতুর টোল আদায়কারী সওজের কর্মীরা জানান, রাস্তা যখন ভালো ছিলো, তখন দৈনিক গড়ে ৬/ ৭ শ’ যানবাহন চলাচল করতো। কিন্তু রাস্তা খারাপ হয়ে যাওয়ায় এখন সারাদিনে ২/৩ শ’ যানবাহন চলে।

ট্রাক চালক মমিন আলী বলেন, প্রতিদিন জ্জ টি ট্রাক এ রাস্তায় উল্টে যাচ্ছে। গাড়ি চলতে চলতে দেখা গেছে, রাস্তার একপাশ দেবে গেছে।

টেম্পো চালক মনির হোসেন বলেন, উলুখোলা থেকে কাঞ্চন সেতু পর্যন্ত যেতে সময় লাগতো ২০ মিনিট। ভাঙ্গা হওয়ার কারণে এখন সময় লাগে প্রায় এক ঘন্টা। প্রতিদিন কোনো গাড়ি যদি দু’বার এ রাস্তায় আসা-যাওয়া করে তাহলে ওই গাড়ির আর অস্তিত্ব থাকবে না।

এশিয়ান বাইপাসের মতো ঢাকা-সিলেট মহাসড়কেরও ভাঙাচোরা অবস্থা। এ মহাসড়কের রূপগঞ্জ অংশের কাচপুর থেকে আধুরিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে খানাখন্দে ভরা। গত এক মাসের টানা বৃষ্টিতে মহাসড়কের এই অংশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও মহাসড়ক ফেটে গেছে। কোথাও পিচ উঠে গেছে। আবার কোথাও দেবে গেছে।

এতে মহাসড়কজুড়ে প্রায়ই দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। জনদূর্ভোগ মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। গতকাল শনিবার মহাসড়কের এ অংশে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বরপা, ভুলতা, গোলাকান্দাইল, বরাবো, তারাবো বিশ্বরোড এলাকায় খানাখন্দে ভরা। কথা হয় নরসিংদীগামী বাস চালক কুদ্দুস মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, খানাখন্দে ভরে গেছে এ মহাসড়ক। কি-যে চালাতে হয় গাড়ি তা আমরাই বুঝি। টানা বৃষ্টির কারণে আরো বেশি খারাপ অবস্থা হচ্ছে।

এছাড়া রূপগঞ্জের প্রধান প্রধান সড়কগুলোর অবস্থাও বেহাল। রূপসী থেকে কাঞ্চন পর্যন্ত রাস্তার বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙাচোরা। রাস্তাটির মুড়াপাড়া থেকে কাঞ্চন কেন্দুয়া পর্যন্ত কয়েক জায়গায় বড় বড় গর্ত। ডেমরা-কালীগঞ্জ সড়কেরও খারাপ অবস্থা। এ রাস্তার কয়েক জায়গায় খানাখন্দ। নগরপাড়া-ইছাখালী সড়কের পিচ উঠে ইট-সুরকিও উঠে গেছে।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী  নাসিরউদ্দিন মিয়া বলেন, ডেমরা-কালীগঞ্জ ও রূপসী-কাঞ্চন সড়কের দু’এক জায়গায় গর্ত রয়েছে। বৃষ্টি শেষ হলে এগুলো মেরামত করা হবে

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ লোকমান হোসেন বলেন, ব্যক্তিভাবে সড়ক পরিদর্শন করেছি। পরে সড়ক ও জনপথের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা বলেছেন, বৃষ্টি গেলে পুরোপুরি মেরামত করে দিবে। আপাতত ইট-সুরকি ফেলে মেরামত করার কথা রয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম ২৪