Thu, 17 Aug, 2017
 
logo
 

বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রপ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি ॥ অত্যাচারে অতিষ্ঠ নগরবাসী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: জেলা ও শহরের বিভিন্ন হাটবাজার ও গ্রামেগঞ্জে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রপ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে পথচারী বিশেষ করে শিশু-কিশোর-কিশোরী, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ গবাদি পশু রাস্তায় চলাচল মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

এতে প্রতিনিয়ত কুকুরের কামড়ের শিকার হচ্ছে মানুষজন থেকে গবাধী পশু। আক্রন্ত হচ্ছে জলাতঙ্ক রোগের মত ভয়াবহ রোগে।

সমম্প্রতি কুকুরের কামড়ের শিকার হয়েছেন বেশকয়েক জন। এ ছাড়া গৃহপালিত গবাধী পশুর মধ্যে গরু, ছাগল ও ভেড়াকেও কামড়িয়ে বেড়াচ্ছে কুকুরের পাল। এ ঘটনার কারনে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় জুড়ে কুকুর আতংঙ্ক বিরাজ করছে। সোমবার সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকাবাসী দুটি কুকুর কে ধাওয়া করে পিটিয়ে মেরেছে।
ওই এলাকার বাসিন্দারা জানান, বেওয়ারিশ কুকুরের অত্যাচারে তাঁরা অতিষ্ঠ। দিনের বেশির ভাগ সময় গলিতে চার-পাঁচটি বেওয়ারিশ কুকুর ঘোরাফেরা করে। এ জন্য তাঁদের আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। বিশেষ করে শিশু-কিশোররা থাকে ঝুঁকির মধ্যে।
‘নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ও উপজেলা প্রশাসন কুকুর মারা বন্ধ রেখেছে। কিন্তু কুকুরের যন্ত্রণা তো আর বন্ধ হয়নি’, জানালেন উকিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা শিহাব উদ্দিন। তাঁর মতে, কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে শুধু বড় বড় কথা ও মানবিকতার দোহাই দিলে তো আর চলবে না।
জানা গেছে, এরশাদ সরকারের সময় ব্যাপকভাবে কুকুর নিধন কার্যক্রম চলে। সে সময় সাঁড়াশি দিয়ে কুকুর ধরে তাদের ইনজেকশন দিয়ে মারা হতো। পরে সারা বছরই স্বল্প মেয়াদে কুকুর নিধন চলত। কিন্তু ২০০৯ সালে পরিবেশবাদী এনজিও ‘অভয়ারণ্য’ কুকুর মারাকে প্রাণী হত্যা ও পরিবেশবিরোধী বলে প্রচারণা শুরু করে।
২০১০-১১ সালে সংস্থাটি কয়েক দফা কুকুর শুমারি করে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে জানায়। এছাড়া কুকুর নিধন বন্ধে উচ্চ আদালতেও একটি রিট করা হয় সংস্থাটির পক্ষ থেকে। একপর্যায়ে আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কুকুর মারা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ২০১২ সালের জানুয়ারিতে সিটি কর্পোরেশনকে কুকুর নিধন বন্ধ করতে নির্দেশ দেয়।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম ২৪