Sun, 30 Apr, 2017
 
logo
 

ওয়াকয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করে পাথর বালুর ব্যবসা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: শীতলক্ষ্যা নদী দখল ও দূষন মুক্ত রাখতে ওয়াকয়ে নির্মাণ করেও কোন লাভ হচ্ছেনা। নারায়ণগঞ্জ বিআইডব্লিউটিএ‘র অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে স্থানীয় প্রভাবশালী দখলদাররা মালামাল উঠা-নামা ও ব্যবসার সুবিধার্থে ওয়ার্ক-ওয়ে ভেঙ্গে জেটি ও সিঁড়ি নির্মাণ করে নিশ্চিন্তে মালামাল লুড-আনলোড করছে।

বনায়নের জন্য নির্ধারিত খালি জায়গায় পাথর বালু স্তুপ করে রাখা হয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল থেকে শুকুরসী পর্যন্ত ১ কিলোমিটার শীতলক্ষ্যা নদীর তীর দখল করে অবৈধ ভাবে কমপক্ষে অর্ধশতাধিক পাথর বালুর গদি গড়ে উঠেছে। মাঝে মাঝে নদী ভরাট করে ফেলছে দখলদাররা।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের নিয়ন্ত্রনাধীন ডেমরা থানার সারুলিয়া শুক্ল আদায় ও লেবার হ্যান্ডলিং পয়েন্ট‘টি ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের জন্য ২৫ লাখ ২৫ হাজার ৫২৫ টাকায় কর্তৃপক্ষ ইজারা প্রদান করেছে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকার আবদুল আজিজের ছেলে মোঃ ইউসুফ আলীর কাছে। যার দাপ্তরিক স্বারক নং-১৮.১১.৬৭৫৮.০৬৭.০২.০২৯.১৬(সারুলিয়া শু:আ:)/৬৭৩ তারিখ : ১৮-০৫-২০১৬ খ্রিঃ। শিমরাইলের বেঙ্গল ইলেকট্রিক এর দক্ষিণ সীমানা থেকে উত্তরে ডেমরা সারুলিয়ার করিম জুটমিল সীমানা পর্যন্ত ইজারা প্রদানকৃত নদীর ঘাটটি গত ৩০-০৬-২০১৬ তারিখ ৪৬ টি শর্তের বিনিময়ে নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ন-পরিচালক এ,কে,এম আরিফ উদ্দিন স্বাক্ষরিত কার্যাদেশ প্রদান করে ইজারাদ ইউসুফ আলীকে। কিন্তু কার্যাদেশ প্রদান করা হলেও অবৈধ দখলদারদের কারণে ইজারাদার ইউসুফ অদ্যাবধি পর্যন্ত কাজ শুরু করতে পারেনি। কারণ,ইজারা প্রদানকৃত সীমানায় নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের অসাধু কর্মকর্তারা ২০ হাজার টাকা মাসোহারা আদায় করে ২০ ফুট করে কমপক্ষে ৫০ জন ব্যক্তিকে নদীর তীর দখল করে পাথর বালুর ব্যবসা করার সুযোগ করে দিয়েছে। নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে এসব অবৈধ দখলদাররা নদী রক্ষার্থে নির্মিত ওয়াকয়ে ভেঙ্গে মালামাল উঠানামার রাস্তা তৈরি করে বনায়নের জন্য নির্ধারিত খালি জায়গায় পাথর বালরু স্তুপ দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে অনুসন্ধান করে জানা গেছে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইজারা প্রাপ্ত মোঃ ইউসুফ আলী ব্যতিত শীতলক্ষ্যা নদীর তীর ও ওয়ার্ক-ওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করে মেসার্স জব্বার এন্টারপ্রাইজ, ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ, বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ, সুমায়া এন্টারপ্রাইজ, বকর এন্টারপ্রাইজ, সাইফুল এন্টারপ্রাইজ, বাকিল এন্টারপ্রাইজ, নাজির এন্টারপ্রাইজ, হালিম এন্টারপ্রাইজ, এনায়েত এন্টারপ্রাইজ, হিমালয় এন্টারপ্রাইজ, এম,এন এন্টারপ্রাইজ, বি,সি এন্টারপ্রাইজ, এফ,এম মাসুম এন্টারপ্রাইজ, মোঃ আলী এন্টারপ্রাইজ, শরিফ এন্টারপ্রাইজ, আল মদিনা এন্টারপ্রাইজ, সুরুজ এন্টারপ্রাইজ, মান্নান ভূঁইয়া এন্টারপ্রাইজ, এ,রব এন্টারপ্রাইজ, একতা এন্টারপ্রাইজ, আলিফ এন্টারপ্রাইজ, বোরহান এন্টারপ্রাইজ, সৌদিয়া এন্টারপ্রাইজ, মতলব এন্টারপ্রাইজ, ভূঁইয়া এন্টারপ্রাইজ, তকদির এন্টারপ্রাইজ, মোঃ রস্তুম এন্টারপ্রাইজ, আমিন এন্টারপ্রাইজ ও শাপলা এন্টারপ্রাইজসহ কমপক্ষে অর্ধশতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলা হয়েছে যার কোন বৈধতা নেই। কাঁচপুর সেতুর উত্তরে দেড় কিলোমিটার সীমানায় ৫০ টি ঘাট ও অন্তত ১‘শ টি পাথর বালুর গদি গড়ে তুলা হয়েছে। ওই এলাকায় নজরুল ও ইউসুফ নামে দু’জন ইজারাদার রয়েছে। আর বাকীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উৎকোচ দিয়ে অবৈধ ভাবে ব্যবসা করছে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ ও সরকারি সিদ্ধান্তে নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ শীতলক্ষ্যা নদী দখল ও দূষণ মুক্ত রাখতে অভিযান চালিয়ে বহু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে। দখল মুক্ত করা হয়েছে সরকারি হাজার হাজার একর জমি। নদীর তীরে ওয়াকয়ে নির্মাণ করে খালি জায়গায় সবুজ বনায়ন গড়ে তুলার উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ। কাঁচপুর সেতুর উত্তর ও দক্ষিণে কিছু অংশে বনায়ন গড়ে তুলা হয়। তবে তা সরকারি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রীকে দেখানোর জন্য মাত্র। বনায়ন গড়ে তুলার উদ্যোগ মন্ত্রী পরিদর্শন করে চলে যাওয়ার পর আর তা রক্ষনা বেক্ষণ করছেনা নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের কর্মকর্তারা। ফলে এসব বনায়ন অধিকাংশই নষ্ট হয়ে পড়েছে। নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের অধিনস্থ ৫৫ কিলোমিটার ওয়াকয়ে নির্মাণের পাশাপাশি উচ্ছেদকৃত খালি জায়গায় বনায়ন গড়ে তুলার কথা থাকলেও কাঁচপুর সেতুর উত্তরে ২ আড়াইশ গজ বনায়ন করে বাকী খালি জায়গায় আবার পাথর বালুর ব্যবসা চালু করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের কয়েকজন উর্ধ্বতন কর্তকর্তাকে ম্যানেজ করেই নদীর তীর দখল করা হয়েছে বলে ওই সূত্রটির দাবি।

শিমরাইল থেকে সারুলিয়ার শুকুরসী সান্দুরা ঘাট পর্যন্ত ওয়াকয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করে পাথর বালুর ব্যবসা করা বিষয়ে ইজারাদার ইউসুফ আলীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমার কাছে ইজারা ও কার্যাদেশ প্রদান করা হলেও আমি এখন পর্যন্ত কোন কাজ করতে পারছিনা। ওয়াকয়ের ক্ষতি ও বনায়নের জায়গা দখলের জন্য আমি দায়ি নই। কারণ,আমার কাছে ইজারা প্রদানকৃত সীমানায় ২০ ফুট করে আরো অর্ধশতাধিক লোক জোর করে অবৈধ ভাবে ব্যবসা করছে। এসব ব্যবসায়ীরা দাবি করছে তারা নারায়ণগঞ্জ বিআইডব্লিউটিএ‘র কর্মকর্তাদের মাসে ২০ হাজার টাকা করে মাসোহারা দিয়ে ব্যবসা করছে। বিষয়টি নিয়ে আমি কর্তৃপক্ষের সাথে বহু বার কথা বলে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন ও আমার ইজারা প্রাপ্ত সীমানা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করলেও কর্তৃপক্ষ আমলে নিচ্ছেন না। ইজারাদার হিসেবে ওয়াকয়ে ক্ষতির জন্য আমাকে দায়ি করা যুক্তিসঙ্গত হলেও প্রকৃতপক্ষে অবৈধ দখলদারদের কাছে আমি জিম্মি হয়ে পড়েছি।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ন-পরিচালক এ,কে,এম আরিফ উদ্দিনের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, শিমরাইলে নজরুল ও শুকুরসী এলাকায় মোঃ ইউসুফ আলীর কাছে নদীর তীর ইজারা প্রদান করা হয়েছে। ইজারা প্রদানকৃত এলাকায় অন্য কোন ব্যবসায়ীর দায় নিচ্ছেন না তিনি।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম ২৪