Sat, 21 Oct, 2017
 
logo
 

সরকারি সংস্থা পাওয়ারসেলের পর্যবেক্ষণ: অপরিকল্পিত শিল্পায়নে মেঘনাঘাটের তুলনায় সিদ্ধিরগঞ্জের বায়ুদূষণ বেশি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: অপরিকল্পিত শিল্পায়ন ও বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কারণে নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাট ও সিদ্ধিরগঞ্জে পরিবেশদূষণ বাড়ছে। শীতলক্ষ্যা ও মেঘনার পানি শিল্পেও ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

বেড়েছে বায়ু ও শব্দদূষণ। কৃষি জমি কমেছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে ডায়রিয়া ও চর্মরোগ বেড়ে গেছে। বিদ্যুৎ বিভাগ পরিচালিত এক পরিবেশগত সমীক্ষার ফল থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

 

সরকারি সংস্থা পাওয়ারসেলের পক্ষে ভারতের ইআরএম ও বাংলাদেশের ইকিউএমএস কনসাল্টিং নামে দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে এ সমীক্ষা চালিয়েছে। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত সমীক্ষা চালানো হয়। সমীক্ষায় বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করেছে।

 

দূষণের উৎস হিসেবে এলাকার শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে দায়ী করা হয়েছে। শীতলক্ষ্যা ও মেঘনা নদী বাণিজ্যিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হওয়ায় প্রচুর পণ্যবাহী নৌযান চলাচল করে, যা থেকে বর্জ্য ও তেল নিঃসরিত হয়ে পানিদূষণ করছে। এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট হাইওয়ের কারণে এ এলাকায় প্রচুর যান্ত্রিক পরিবহন চলাচল করছে। এতে বায়ু ও শব্দদূষণ বেড়েছে বলে সমীক্ষার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

 

সিদ্ধিরগঞ্জ শিল্প এলাকায় ১২টি সিমেন্ট কারখানা, ২৪টি স্টিল মিল ও এক হাজার ৮৬০ মেগাওয়াটের আটটি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এ ছাড়া টেক্সটাইল, পোশাক, খাদ্যপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, কেমিক্যাল, জাহাজ নির্মাণ কারখানা, ইটভাটা ইত্যাদি রয়েছে। আরও নতুন নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিমেন্ট ও স্টিল মিলের নির্মাণকাজ চলছে। মেঘনাঘাটে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াটের তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এ ছাড়া নিকট ভবিষ্যতে এখানে দেড় হাজার মেগাওয়াটের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র, মোট এক হাজার ৪৩৭ মেগাওয়েোটর কয়লাভিত্তিক তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং মেঘনা অর্থনৈতিক অঞ্চল, একাধিক পেপারমিল গড়ে উঠবে।
 

মেঘনাঘাটের তুলনায় সিদ্ধিরগঞ্জের বায়ুদূষণ বেশি। সমীক্ষা প্রতিবেদনে সিদ্ধিরগঞ্জের বায়ুকে অস্বাস্থ্যকর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানকার বায়ুতে নক্সসহ (নাইট্রোজেন অক্সাইড) অন্যান্য বিষাক্ত পদার্থের পরিমাণ স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি। এ দুই শিল্প এলাকায় শব্দদূষণ গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। ভূমির উপরিস্থ জলের অবস্থাও তেমন ভালো নয়। শীতলক্ষ্যা নদীর পানি এতই দূষিত যে খাওয়া তো দূরের কথা, শিল্পকারখানায় ব্যবহার করা যায় না। এখানকার শিল্পকারখানাগুলো ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল। এর ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নামছে। মেঘনা নদীর পানি তুলনামূলক কম দূষিত। শীতলক্ষ্যা নদী মাছ ও অন্যান্য প্রাণীর প্রাণ ধারণের মতো প্রতিবেশ নেই। মেঘনা নদীর অবস্থা তুলনামূলক ভালো। গত এক দশকে সিদ্ধিরগঞ্জে ৪০ শতাংশ কৃষি জমি ও ৬০ শতাংশ জলাধারে শিল্পকারখানা ও বাসাবাড়ি তৈরি হয়েছে। আর মেঘনাঘাটে ৬০ শতাংশ কৃষি জমি ও ৩০ শতাংশ জলাধারে শিল্পায়ন ও বসতি স্থাপন হয়েছে। অতিরিক্ত জনবসতির কারণে এ দুই এলকায় বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ, ডায়রিয়ার সংক্রমণ বেশি।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্র গুলো থেকে উচ্চ তাপমাত্রার পানি শীতলক্ষ্যায় ছাড়া হয়। এ জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কুলিং টাওয়ারের আধুনিকায়ন প্রয়োজন। সমীক্ষায় ভূমি পরিকল্পনা, নিয়মিত শিল্পকারখানার পরিবেশ পর্যবেক্ষণের ওপর জোর দিতে বলা হয়েছে।

 

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, শিল্পায়ন যখন একবার হয়ে গেছে, তা থেকে তো বেরিয়ে আসার উপায় নেই। তবে পরিবেশ যাতে কম দূষিত হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। নতুন শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে পরিবেশের বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। উন্নয়নের উপাদান ও উপকরণগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক-সামাজিক পরিবেশ-পরিস্থিতির সমন্বয় করতে হবে।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম