Thu, 24 Jan, 2019
 
logo
 

মহসীন ক্লাবকে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুললো সিরাজউদ্ধৌলা ক্লাব

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: এতটা একপেশে হয়ে যাবে লীগের শেষ ম্যাচ এটা কেউ ভাবেনি। দু’দলের খেলোয়াড়,কোচ,সমর্থক এমনকি নিরপেক্ষ দর্শকরাও ভাবেনি। একেবারে নাস্তানাবুদ করে ম্যাচ জিতে শিরোপা ঘরে তুলেছে বন্দরের সিরাজউদ্ধৌলা ক্লাব।

খেলা শুরুর আগেই গ্রালারী ভরে যায়। সেখানে জায়গা না পেয়ে মাঠের যেখানে জায়গা বাকি ছিল সেখানেই দর্শকরা ভীড় করে। কিন্তু তারা খেলা দেখে সন্তুষ্ট হতে পেরেছে এটা বলা যাবে না। ফাইনাল খেলায় এক দলের খেলোয়াড় যদি হ্যাটট্রিক করে। অবার গোলের ব্যবধান যদি হয় ৪-০। তবে প্রতিদ্বন্ধিতাটা জমে উঠেছে এটা প্রমাণিত হয় না। কিন্তু শুরুটা করেছিল খানপুরের মহসিন ক্লাব। শুরুতেই তাদের জোরালো শর্ট সিরাজউদ্দৌলার গোল বারে লেগে ফিরে। বারে লাগলে কুফা লাগে এমন প্রবাদ বাক্য বা কুসংস্কার হয়ত মহসিন ক্লাবের ললাটে লেখা ছিল। আবারও নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হয় তারা।

 

শনিবার  (৮ই ডিসেম্বর) ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামে নাসিম ওসমান স্মৃতি ১ম বিভাগ ফুটবল লীগ এর শেষ খেলায় বন্দরের সিরাজউদ্দৌলা ৪-০ গোলে মহসিন ক্লাবকে পরাজিত করে শিরোপা ঘরে তোলে। তারা শিরোপা ঘরে তুলবে এমন ভাব শুরুতেই দেখিয়েছে। মহসিন ক্লাবও কম যায়নি। কিন্তু সব ভাল তার শেষ ভাল যার। সেটা হয়েছে সিরাজউদ্দৌলা ক্লাবের।

খেলার ১০ মিনিটে সিরাজউদ্দৌলার নম্বর টেন বিশাল একক প্রচেষ্টায় মহসিনের সীমানায় ঢুকে গোল করেন ১-০। লীড নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাতœক হয়ে উঠে সিরাজউদ্দৌলা। মাঝমাঠ দখলে নিয়ে বারবার আক্রমণে নাস্তানাবুদ করেছে মহসিনের ডিফেন্সকে। ক্লান্ত পরিশ্রান্ত মনে হয়েছে মহসিনের খেলোয়াড়দের। সুযোগ নষ্ট করতে চায়নি। গোল বাড়ানোর দিকে নজর দেয়। ৬৪ মিনিটে আবার গোল করেন বিশাল ২-০। বদলী নেমে নয়ন তার গতিতে কাবু করেন মহসিনের ডিফেন্সকে। ৯০ মিনিটে গোল করেন নয়ন ৩-০। হ্যাটট্রিক করার সুযোগ পেয়ে তা কাজে লাগায় বিশাল। ফাইনাল কেলায হ্যাটট্রিক! যোগ করা সময়ে ৯২ মিনিটে তার আশা পূর্ণ করেন ৪-০। খেলার রেফারীর শেষ বাঁশির সাথে সাথে মাঠে নেমে নৃত্য করতে থাকে চ্যাম্পিয়ন সিরাজউদ্দৌলার খেলোয়াড়,কোচ,কর্মকর্তা ও সমর্থকেরা।

খেলা শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে বিভিন্ন পুরস্কার তুলে দেন জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়া। জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি তানভীর আহমেদ টিটুর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া সংস্থার সহ সভাপতি কে.ইউ আকসির,এজেডএম ইসমাইল বাবুল,ফুটবল এসোসিয়েশনের সহসভাপতি শহীদ হোসেন স্বপন,কোষাধ্যক্ষ মোঃ রবিউল হোসেন,সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম নাসির,সদস্য গোলাম গাউছ,মোস্তফা কাওছার,নেয়ামত উল্লাহ মিয়া,জাকির হোসেন,জসিম উদ্দিন,মেহেবুব তালুকদার টগর,ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সম্পাদক জাকির হোসেন শাহিন প্রমুখ।

মহসিন ক্লাব ঃ শাওন,কাউসার হামিদ(রনি),রাহাত,প্রান্ত,পারভেজ,জিকন(বিপ্লব),রাজন,তপু,হাসান,।

সিরাজউদ্দৌলা ক্লাব: রানা,রাসেল, সালামত,জিগির মিয়া,আহসানুর,অনিক(নয়ন),বিশাল দাস,জুয়েল(আরাফাত),খোকন দাস(রোবেল),টিটু দাস,রিপন।

লীগে অংশ নেওয়া প্রতিটি দলকে ১ লাখ পঁচিশ হাজার টাকা এবং ৩টি করে ফুটবল প্রদান করা হয়।

রেফারী- জালাল উদ্দিন,ইমন,সুজন ও জোহার।

লীগ সেরা খেলোয়াড়-জুয়েল(সিরাজউদ্দৌলা),সর্বোচ্চ গোল-রোমান(ইসদাইর যুব সংসদ(এন.এফ.এ),ফাইনাল সেরা-বিশাল(সিরাজউদ্দৌলা)

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম