Mon, 17 Dec, 2018
 
logo
 

আবাহনী পাঁচে পাঁচ

সেঞ্চুরি করেছেন এনামুল হক বিজয়। দুর্দান্ত সব স্ট্রোক ছিল ইনিংসটিতে। কিন্তু দিন শেষে আলোচনায় থাকতে পারেননি এনামুল। সব আলো নিজের দিকে টেনে নেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। বয়স ৩৫ ছুঁই ছুঁই। অথচ দুর্দান্ত বোলিং করছেন এই বয়সে। বিকেএসপিতে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের বিপক্ষে বিধ্বংসী বোলিং করে আবাহনীকে ৪৭ রানের জয় উপহার দিয়েছেন টাইগার ওয়ানডে পেসার। ওয়ালটন প্রিমিয়ার লিগে এটা আবাহনীর টানা পঞ্চম জয়। একই দিন লিগে জয় পেয়েছে গাজী গ্রুপ ও লিজেন্ড অব রূপগঞ্জ। বিকেএসপিতে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে ২ উইকেটে হারিয়েছে গাজী এবং নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা স্টেডিয়ামে রূপগঞ্জ ৫৫ রানে হারিয়েছে প্রাইম দোলেশ্বরকে।

বিকেসএপিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামে শিরোপা প্রত্যাশী আবাহনী। জাতীয় দলের ওপেনার এনামুল হক বিজয়ের সেঞ্চুরিতে ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৭০ রান করে। এনামুল ১২২ বলে ১১৬ রানের ইনিংস খেলেন ৬ চার ও ৪ ছক্কায়। যদিও শুরুটা ভালো ছিল না আবাহনীর। ৭৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ে ধানমন্ডি পাড়ার দলটি। সেখান থেকে পঞ্চম উইকেট জুটিতে ১২১ রান যোগ করেন এনামুল ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। মোসাদ্দেক মাত্র ১ রানের জন্য বঞ্চিত হাফসেঞ্চুরি থেকে। ৪৯ রানে সাজঘরে ফিরেন তিনি। এনামুল রবিউল হকের বলে দ্বাদশ ক্রিকেটারের তালুবন্দী হয়ে ফিরেন সাজঘরে। শেখ জামালের সফল বোলার রবিউল ৪৭ রানের খরচে নেন ৩ উইকেট। ২৭১ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ১৭ রানে প্রথম উইকেট হারায় শেখ জামাল। সেখান থেকে সৈকত আলি, যতিন সাক্সেনা, অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান তিন জনে মিলে দলকে টেনে নিয়ে যেতে থাকেন। কিন্তু মাশরাফির বিধ্বংসী বোলিংয়ের সঙ্গে পেড়ে উঠতে পারেনি শেখ জামাল। দুই স্পেলে বোলিং করে মাশরাফি নেন ৫ উইকেট। যার চারটিই আবার বোল্ড। প্রথম স্পেলে নেন দুটি এবং দ্বিতীয় স্পেলে নেন ৩ উইকেট। ম্যাচ সেরা মাশরাফির বোলিং স্পেল ৮.৩-১-২৯-৫। এছাড়া ২ উইকেট নেন জাতীয় দলের অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। মাশরাফির বিধ্বংসী বোলিংয়ের মুখে একা লড়াই করেন সোহান ৮৩ রানের ইনিংস খেলে। ইনিংসটি খেলতে তিনি বল খরচ করেন ৬১। যাতে ছিল ১০টি চার ও ৪টি ছক্কা। এই জয়ে আবাহনীর পয়েন্ট ৫ ম্যাচে ১০। শেখ জামালের এটা ৫ ম্যাচে দ্বিতীয় হার।

বিকেএসপিতে আরেক ম্যাচে ৫ বল হাতে রেখে ব্রাদার্সকে ২ উইকেটে হারিয়েছে গাজী গ্রুপ। প্রথমে ব্যাট করে ভারতীয় ক্রিকেটার দেবাশীষ দাসের সেঞ্চুরিতে ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৭৩ রান করে। দেবাশীষ ১১২ রানের ইনিংস খেলেন ১০৯ বলে ৭ ছক্কা ও ৬ চারে। এছাড়া ইয়াসির আলি ৩৬ বলে ৫৪ রানের ইনিংস খেলেন। গাজীর পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন রুবেল ও নাঈম হাসান। ২৭৪ রানের টার্গেটে ৪৯.১ ওভারে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় গাজী গ্রুপ। গাজীর দ্বিতীয় জয় তুলতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন জাতীয় দলের ওপেনার ইমরুল কায়েস (৬৫), মুমিনুল হক (৫৬) ও ভারতীয় ক্রিকেটার গুরকিত সিং (৭১*)। ব্রাদার্সের পক্ষে খালেদ, নিহাদুজ্জমান ২টি করে উইকেট নেন।

ফতুল্লা স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৭২ রান করে লিজেন্ড অব রূপগঞ্জ। দলটির পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৮ রানের ইনিংস খেলেন অধিনায়ক নাঈম ইসলাম ৯৫ বলে ৮ চারে। এছাড়া মুশফিকুর রহিম ৬৭ বলে ৬৫ এবং আব্দুল মজিদ ৫৯ রান করেন। প্রাইম দোলেশ্বরের পক্ষে আরাফাত সানি নেন ৩ উইকেট। ২৭৩ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে মোশাররফ রুবেল ও আসিফ হোসেনের ঘূর্ণিতে দোলেশ্বরের ইনিংস থেমে যায় ৪৭.৫ ওভারে ২১৭ রানে। মোশাররফ ৪০ রানে ৪ এবং আসিফ ৪৬ রানে নেন ৩ উইকেট। দোলেশ্বরের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪১ রান করেন শরীফুল্লাহ। লিগে রূপগঞ্জের ৫ ম্যাচে তৃতীয় জয় এবং দোলেশ্বরের দ্বিতীয় হার।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম