Tue, 27 Jun, 2017
 
logo
 

সুন্দরবন রক্ষার দাবীতে কবি শাহেদ কায়েসের নেতৃত্বে কোরিয়ায় মানববন্ধন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ‘গ্লোবাল ডে অব প্রোটেস্ট ফর সুন্দরবন’ উপলক্ষে মানব-বন্ধন করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়াংজু’তে অবস্থানরত ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। 

রবিবার (৭ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় ইউনিভার্সিটির ‘গ্লোবাল রিসার্চ এন্ড হাব সেন্টার’-এর সামনে মানব-বন্ধন, র‌্যালি এবং পরে ইউনিভার্সিটি ক্যাফেটেরিয়ায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মানব বন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশ সরকারকে সুন্দরবনের কাছে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প ‘রামপাল প্রজেক্ট’ বন্ধ করার আহ্বান জানান। মানব বন্ধনে বাংলাদেশি ছাড়াও থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের দু’জন শিক্ষার্থীও অংশগ্রহণ করেন।

সুন্দরবন রক্ষার দাবীতে কবি শাহেদ কায়েসের নেতৃত্বে কোরিয়ায় মানববন্ধন

কবি শাহেদ কায়েস-এর সঞ্চালনায় আলোচনায় বক্তব্য রাখেন নারায়ন চন্দ্র পাল, মো. মুশফিকুর রহমান, সৌমিত্র কুমার কুন্ডু, চন্দন কুন্ডু, রাকিব হাসান অপু, আসাদুজ্জামান এবং ওমর ফারুক প্রমুখ।
নারায়ন চন্দ্র পাল তার বক্তব্যে বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন কৃত্রিমতার কারণে ধ্বংস বা ক্ষতি হোক আমরা তা চাই না। তাই রামপাল প্রজেক্টের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান।
মুশফিকুর রহমান বলেন ‘আমরা বিদ্যুৎ চাই, তবে সুন্দরবন ধ্বংস করে নয়। কারণ আমরা অনেক পাওয়ার প্লান্ট তৈরি করতে পারব, কিন্তু একটা সুন্দরবন ধ্বংস হলে সেটা কৃত্রিমভাবে তৈরি করা সম্ভব না।
সৌমিত্র কুমার কুন্ডু তার বক্তব্যে বলেন, প্রকৃতিকে ধ্বংস করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা আর মায়ের সাথে বেঈমানি করা একই কথা। তাই সরকারের উচিৎ এই বিষয়ে সঠিক পদক্ষেপ নেয়া, আমাদের অবস্থান সরকারের বিরুদ্ধে নয়, আমরা চাই সরকার সুন্দরবন ছেড়ে এসে অন্য কোথাও বিদ্যুৎ প্রকল্প করুক।

সুন্দরবন রক্ষার দাবীতে কবি শাহেদ কায়েসের নেতৃত্বে কোরিয়ায় মানববন্ধন
চন্দন কুন্ডু বলেন, সুন্দরবন একটি অন্যতম বিশ্ব ঐতিহ্য। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা বিবেচনা করে, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের মঙ্গলের কথা ভেবে আমি প্রত্যাশা করছি সরকার এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে।
শিল্পী রাকিব হাসান অপু তার বক্তব্যে বলেন,  যে কোন প্রযুক্তি যা প্রকৃতির জন্য হুমকি, তা ব্যবহার করা সমগ্র পৃথিবী, বিভিন্ন প্রজাতির জন্য আত্মহত্যার শামিল। জগতে সমস্ত প্রজাতির বেঁচে থাকার সমান অধিকার আছে। বিভিন্ন প্রজাতির বিরুদ্ধে হুমকি স্বরূপ এই ধরণের স্পেসিজমও হচ্ছে রেসিজমের মতই অন্য প্রাণের উপর খবরদারিত্ব এবং ধ্বংসাত্মক একটি ভাবনা।
আসাদুজ্জামান বলেন, ‘সুন্দরবন ধ্বংস করা মানে হল দেশের সবাইকে নিয়ে আত্মহত্যা করা। আমরা সরকারকে অনুরোধ করব সুন্দরবন ধ্বংসকারী এই রামপাল প্রকল্প থেকে সরে আসতে।
ওমর ফারুক তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ একটি উন্নয়ণশীল দেশ। বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করা আমাদের দেশের স্বার্থে জরুরি। কিন্তু সেটা সুন্দরবন ধ্বংস করে নয়। সরকার চাইলে অন্য স্থানে পাওয়ার প্ল্যান্ট করতে পারে, কিন্তু সুন্দরবনে কেন? আমরা সরকারের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানাই।

ক্যাফেটেরিয়ায় আলোচনা অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্যে শাহেদ কায়েস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আজকে সুন্দরবন রক্ষার জন্য যে বৈশ্বিক প্রতিবাদ হচ্ছে তাকে সাধুবাদ জানান এবং দেশ, মানুষ, পরিবেশ, সমস্ত প্রজাতি ও প্রাণ-প্রকৃতির স্বার্থে বাংলাদেশ সরকারকে যে কোন মূল্যে রামপাল প্রজেক্ট বন্ধ করার আহ্বান জানান। 

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম ২৪