Tue, 11 Dec, 2018
 
logo
 

আইয়ুব বাচ্চু না ফেরার দেশে: না.গঞ্জের সংগীত অঙ্গন শোকে মুহ্যমান

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: সংগীত তারকা আইয়ুব বাচ্চুকে হারিয়ে শোকে বিহ্বল দেশ। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জেও সংগীত অঙ্গন শোকে মুহ্যমান।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু ইন্তেকাল করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। আইযুব বাচ্চুর মৃত্যুতে অনেকেই শোক প্রকাশ করেছেন।

জানা গেছে, আজ সকালে শরীর খারাপ লাগলে আইয়ুব বাচ্চুর ব্যক্তিগত গাড়িচালক তাঁকে নিয়ে স্কয়ার হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন। গাড়িতে তোলার সময়ই তাঁর মুখ থেকে ফেনা বের হচ্ছিল। সকাল সোয়া নয়টার দিকে তাঁকে স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।

এই বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ ‘সমগীত সাংস্কৃতিক সংগঠন’র সংগীত শিল্পী অমল আকাশ বলেন, আমাদের ব্যান্ডের ইতিহাসে আইয়ুব বাচ্চু অবিস্বরণীয় হয়ে থাকবে। আইয়ুব বাচ্চু, জেমস আমাদের জেনারেশনের অর্থাৎ আমরা যারা আছি তাদের অনুপ্রেরণা এই ব্যান্ড করার জন্য আমাদেরকে অনুপ্রাণীত করেছে। তার মৃত্যুতে আমরা খুবিই মর্মাহত।

জলছবির সংগীত শিল্পী আরিফ বুলবুল বলেন, আইয়ুব বাচ্চু নতুন শিল্পীদের জন্য সবসময় একটা প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। তিনি যে সকল গান গেয়েছেন সেগুলোকে নিয়ে তো আর কোনো কথা বলার প্রয়োজন নেই। সেইগুলো থেকেই প্রমাণিত হয় তিনি একজন চমৎকার শিল্পী ছিলেন, ছিলেন ব্যাপক জনপ্রিয় শিল্পী। তিনি ছিলেন খোলা মনের। তিনি যে এতো দ্রুত চলে যাবেন তা আসলে কখনো কল্পনাও পারি নি। তার মতো ভূয়সী ব্যাক্তি হয়তো কেউ হবে না, নতুনদের মধ্যে অনেক গুণী শিল্পীর উদ্ভব হয়ত ঘটবে তবে তিনি তো আর আসবেন না। এর জন্য আমরা গভীরভাবে শোকাহত এবং তার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি।

শহুরে গায়েন‘র সংগীত শিল্পী আহম্মেদ বাবলু বলেন, আজকাল তো তারকার অভাব নেই কিন্তু সত্যিকার গায়ক বলতে যা বুঝায় তা অবশ্যই আইয়ুব বাচ্চু। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো যে বাংলাদেশ ৯০‘র দশকে হিন্দি গানের জোয়াড়ে যে ভেসে যাচ্ছিলো সেই সময়ে বাঙ্গালীকে বা বাংলাদেশের শ্রোতাকে বাংলা গানের দিকে নেওয়ায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা যারা পালন করছে তাদের মধ্যে আইয়ুব বাচ্চু একজন। হয়তো বেশিরভাগ শ্রোতারা জানেন না, আইয়ুব বাচ্চু শুধু একজন কন্ঠশিল্পীই নয় অসাধারণ সুরকারও ছিলেন। তার প্রথম এলবাম থেকে শুরু করে তার ‘এলার্জির’ অসংখ্য গানের সুরকার এবং জনপ্রিয় অনেক গানের গীতিকার তিনি ছিলেন। তাই নির্দ্বিধায় সংগীত জগতের একজন বড় মানুষকে আমরা হারিয়েছি।

শহুরে গায়েন‘র সংগীত শিল্পী শাহিন মাহমুদ বলেন, বাচ্চু ভাই সত্যিই একজন প্রতিভাবান ব্যাক্তিত্য ছিলেন সংগীত জগতের। তার মৃত্যুটা আসলেই আমাদের সংগীত পরিবারের জন্য শোকের বিষয়।

শহুরে গায়েন এর সংগীত শিল্পী রনক ইব্রাহিম বলেন, আমার মনে হয় বাচ্চু ভাইয়ের স্মরণে একটা বড় ধরনের কনসার্ট‘র আয়োজন করা উচিৎ যাতে শ্রতারা তার গান গুলোর মাধ্যমে বাচ্চু ভাইকে স্মরণ করতে পারে। আমরা যখন স্কুলে পড়াশুনা করতাম,তার গান শুনতাম। তার গান আমাদের অনুভূতির সঙ্গে মিশে আছে। তাই সত্যি খারাপ লাগছে তিনি আমাদের মাঝে নেই। তবে তিনি চিরদিন আমাদের মনের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সব সময় থাকবে।

একজন বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী ও শিক্ষক মুক্তিযোদ্ধ খোকন বলেছেন, আইয়ুব বাচ্চু আমাদের সময়ের একজন ছিলেন । আমাদের পুরাণো সাংস্কৃতি থেকে আমাদের সাংস্কৃতি অঙ্গনটাকে মোটামুটি সরিয়ে আনলো যারা, তার জন্য তার একটা বিরাট অবদান ছিলো। এখনো তার বিভিন্ন কনসার্ট এ ৫০ কি ৬০ হাজার বা লাখ খানিক মানুষ হইতো। এতোটা জনপ্রিয়তা তার ছিলো, আমি মনে করি যে তার মৃত্যুটা একটা অসময়ের মৃত্যু হলো। সে যদি আরো সময় পেতো তাহলে ভালো হতো। যদিও সবাইকে একদিন মরতে হবে। তার গান যুবক সমাজ এবং তার এমন কিছু জনপ্রিয় গান ছিলো যা আমাদের মতো বৃদ্ধরাও শুনে অনুপ্রাণীত হয়েছে। তো ওনার সেই অভাবটা পূরণ হওয়াতো সম্ভব না। আজকাল সময়ে কিছু যুবকরা হাতে একটা গিটার নিয়ে গান বাজনা করে, কিন্তু আইয়ুব বাচ্চু কিন্তু তা না, তার গানে ছিলো আধুনিকতা এবং গান সম্পর্কে তিনি অনেক জ্ঞাত ছিলেন। সব ধরনের গান সম্পর্কে তার ধারনা ছিলো। তবুও তার জনপ্রিয়তা শুধু দেশেই নয় বিদেশে যেমনঃ লন্ডন,অ্যামেরিকা, ভারতেও তার ব্যাপকতা ছিলো। আমরা তার বিদায়ী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। আমরা দোয়া করছি তার জন্য , অনেক মানুষ তার জন্য দোয়া করছে এবং আমি সবাইকে অনুরোধ করবো সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।

এই সম্পর্কে মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ব্যান্ড ৫২‘র কর্ণধার শাহ নিজাম বলেন, বাচ্চু ভাইয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিলো অনেক দিনের, সেই ১৯৮৮ থেকে। আমাদের ব্যান্ড ছিলো তো বাচ্চু ভাই খুব ভালো ইংরেজ গান গাইতো। বাচ্চু, নাসির আলি, তপন চৌধুরী এক সঙ্গে ছিলেন। পরবর্তিতে তো বাচ্চু ভাই আবার নতুন করে একটা গ্রুপ করছে “এল আর বি”। তো সংগীত জগতে উনি অত্যান্ত একজন ভালো মানুষ ছিলেন। সংগীত শিল্পীদের মধ্যে এতো ভালো মানুষ খুজে পাওয়াটা কঠিন। তিনি এতো বড় মাপের শিল্পী ছিলেন, কিন্তু ওনার আচার-আচরণ বা ওনার ব্যাবহার দেখলে মনে হতো না যে তিনি এতো বড় মাপের শিল্পী। তিনি এতো বড় মাপের একজন ব্যাক্তি ছিলেন তবুও সেই ১৯৮৮ হতে তার সঙ্গে ‘আমার ওয়েক আপ’ ব্যান্ড ছিলো এবং তার গান শুনার সুযোগ হয়েছে আমার। আর্মি স্টেডিয়াম, ঢাকা ইউনিভার্সিটিসহ আরো অনেক জায়গায় অনেক পোগ্রাম আমরা একসঙ্গে করেছিলাম। আমি হঠাৎ যখন খবরটা সকালে পাই আমি খুব ব্যাথিত হয়েছি। দেশের একটা উজ্জল নক্ষত্র এ দেশ হারিয়েছে।আমি তার রুহের মাগফিরাত কামনা করি।তিনি দেশকে অনেক কিছু দিয়ে গেছেন তা ভুলবার নয়।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম