Wed, 20 Sep, 2017
 
logo
 

“তোমাদের শহরে আমি এক অযাচিত মেহমান”

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ‘তোমাদের শহরে আমি এক অযাচিত মেহমান’ যিনি নিজ শহরেই নিজেকে অযাচিত মেহমান হিসেবে ভাবেন, যিনি তার স্বপ্নকে

দু'হাতে সরিয়ে গলা উচিয়ে উর্ধ্বমুখী হয়ে নিজের পরিচয় খুঁজছেন তিনি হলেন সানজিদা আফরিন, আমাদের নারায়ণগঞ্জের সব্যসাচীদের একজন, নিজেকে একজন সাহিত্যি, লেখক ও সাংবাদিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সফলতার শিখড়ে থেকেও তিনি আজো নিজেকে অংকুর ভাবেন। তাইতো তিনি একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র, মহিময় লেখিকা নারায়নগঞ্জ জেলার গর্ব। স্বল্প সময়েই তিনি অর্জন করেন, মানব কল্যাণ পরিষদ সম্মাননা পদক - ২০১২, স্বদেশ সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশন " বিশ্ব শান্তি দিবস ২০১৩ " উপলক্ষ্যে  "বিশ্ব শান্তি পদক ও লোকছড়া ফাউন্ডেশন কর্তৃক ছড়া সাহিত্যের জন্য সম্মাননা ২০১৩ পদক । “তোমাদের শহরে আমি এক অযাচিত মেহমান” পাক্ষিক বিবর্তন কর্তৃক "ভালোবাসা সংখ্যা ২০১৩ " সেরা লেখক হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। ছোট বেলা থেকেই লেখালেখি করতেন তিনি,  লেখালেখির প্রতি তার আগ্রহ ও ছিলো অনেক। ৪র্থ শ্রেণীতে অধ্যয়ণ কালেই ইসলাম ফ্রান্ড নামে এক পত্রিকার সবুজ পাতায় তার লেখা প্রথম কবিতা ছাপানো হয়। এরপর থেকে আর থেমে থাকতে হয়নি বিভিন্ন পত্রপত্রিকা, সাহিত্য ম্যাগাজিন, নারীপাতায় তার অগনিত লেখা প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে নারায়নগঞ্জ খবর, খবরের পাতা, দৈনিক আল মৌজাদ্দেদ, জনকন্ঠ ও ইনকিলাব পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে  তার লেখা ও কবিতা প্রকাশিত হয়। এছাড়াও তিনি তথ্যপত্র পত্রিকার বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

“তোমাদের শহরে আমি এক অযাচিত মেহমান” ১৯৮৩ সালে ১৯ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলার পশ্চিম দেওভোগ মাদ্রাসা রোড এলাকায় এক মধ্যবৃত্ত পরিবারে জম্ম  গ্রহন করেন সানজিদা আফরিন । তার বাবা মোঃ আবদুল লতিফ ও তার মাতার  নাম জুলফা খাতুন (রাহিমা বেগম) । ৫ ভাই ও ৩ বোনদের  মাঝে তিনি ৬ষ্ঠ তম।  
১৯৯৯ সালে গণবিদ্যা নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়  থেকে বার্নিজ্য বিভাগ এসএসসি পাশ করেন এবং ২০০১ সালে তোলারাম কলেজে মানবিক বিভাগ থেকে এইচ এসসি, ২০০৯  সালে ¯œাতক ও ২০১৪ সালে ¯œাকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি সাহিত্য সংগঠন কাব্য কথা সাহিত্য পরিষদের নারায়নগঞ্জ জেলা শাখার সহ সভাপতি’র দায়িত্বে রয়েছেন।  তার  ২ টি উপন্যাস , ১ টি ছড়ার বই প্রকাশিত হয়েছে । তার্য প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস হচ্ছে" শেষ মিলনের শুভবার্তা । সাহিত্য প্রেমিক হলেও নিজ প্রেমেও তিনি পিছিয়ে ছিলেন না। দশম শ্রেনীতে অধ্যয়ণরত কালেই নিজের যোগ্যতম একান্ত প্রিয়জনের সাথে পরিবারের সম্মতি নিয়ে ১৯৯৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর কিশোরী থেকে কিশোরী বধু, অতঃপর গৃহবধু সর্বশেষ একজন সফল নারী হিসেবে একজন মা’ এর আসনেও নিজের স্থান করে নেন তিনি।  সাহিত্যিকতা ও সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি ২ মেয়ে ও এক ছেলের মা হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতে বেশ স্বাচ্ছন্যবোধ করেন। তাঁর বড় মেয়ে দশম শ্রেনীতে , একমাত্র ছেলে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে অধ্যয়ণরত। অপর ছোট মেয়ে  ৩বছরের মায়ের আদুরী হয়ে এখনও মায়ের কোল জুড়েই রয়েছে। তিনি খাবারের মধ্যে চাইনিজ ও থাই স্যুপটা খুব পছন্দ করেন। এছাড়াও  শর্মা, পুডিং, লাচ্ছি তো আছেই।  তার প্রিয় ফুল রজণী গন্ধা ও গোলাপ এবং প্রিয় রং তার সাদা, কালো,নীল ও লাল।  অবসর সময় তিনি বই পড়তে ও লেখা-লেখি করতে পছন্দ করেন। সানজিদা আরফিনের প্রিয় ব্যক্তিত্ব হচ্ছেন তার বাবা ও মা।“তোমাদের শহরে আমি এক অযাচিত মেহমান”
লাইভ নারায়ণগঞ্জের সাথে একান্ত আলাপকালে তিনি সাংবাদিকতা ও সাহিত্যের বিষয়ে বলেন, সাহিত্য মানুষের মনের খোরাক যোগায় কিন্তু সাংবাদিকতা হচ্ছে ভিন্ন এক পেশা। এতে প্রতিটি রিপোর্টারের সঠিক নৈতিকতার প্রয়োজন। একটি সংবাদ সমাজকে বদলে দিতে পারে। একজন রিপোর্টারের সঠিক সংবাদ পরিবেশনের উপর সমাজের উন্নয়ণ, বিভিন্ন অপরাধ দমন ও দূর্ণীতি রোধ করা সম্ভব। বর্তমানে সাংবাদিক সমাজের উপর ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করতে দেখা যায়। তাই সকল সাংবাদিক ভাইদের প্রতি অনুরোধ নিজের, সমাজের ও দেশের স্বার্থে আসুন আমরা এগিয়ে আসি। আমাদের সমাজ ও দেশকে সকল অপরাধমুক্ত করতে নিজেকে নিয়োজিত করি। দেশকে উন্নয়ণের শিখড়ে নিয়ে যাই। যাতে আর কারো নিজের এলাকায়  অযাচিত মেহমান হতে না হয়।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম ২৪