Sat, 16 Dec, 2017
 
logo
 

বৃহস্পতিবার কোজাগরী পূণির্মা ঐশ্বর্যময়ী লক্ষ্মী পূজা

রনজিৎ মোদক : আজ কোজাগরী পূনির্মা লক্ষ্মী পূজা। শ্রীশ্রী লক্ষ্মী ধন সম্পদের দেবী । শ্রী শব্দের সুন্দর। আর লক্ষ্মী হচ্ছে সেই সুন্দরের সুন্দরতম দেবী। সনাতন ধর্মের গৃহবধূরা নিত্য লক্ষ্মী পূজা করে থাকেন।


এছাড়াও প্রতি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা বেলায়, আলপনা এঁেক লক্ষ্মী পূজা করে । এসময় তারা লক্ষ্মীর পাঁচালী পড়ে গৃহ স্বামীর মঙ্গল কামনায় লক্ষ্মীর অঞ্জলী দিয়ে থাকেন। মঙ্গলময়ী লক্ষ্মীদেবীর প্রসাদ বিতরনের মধ্যে দিয়ে লক্ষ্মী পূজা সম্পন্ন করেন। আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষে পূর্নিমা তিথীতে প্রতিমা নির্মান করে ,ঘটা করে লক্ষ্মী পূজা করা হয় । আশ্বিন মাসের এই পূর্নিমাকে কেউ কেউ লক্ষ্মী পূর্নিমা বলে থাকেন । শাস্ত্র কারেরা বলেন কোজাগরী পূর্নিমা।গৃহবধূ সারাদিন উপবাস থেকে নানা ধরনের আলপনা একেঁ ঘটে-পটে মূর্তি দিয়ে পূজা করেন । আবার কেউ কেউ মাটির পাত্রে ধানের ছড়া,হলুদ, কচু ও কলাগাছের ভার সাজিয়ে লক্ষ্মী পূজা করেন। লক্ষ্মী সয়ং নারায়ণ এর স্ত্রী । সুন্দর ও রূপবতী এবং ঐশর্যময়ী দেবীর বাহন পেঁচা। শ্রীশ্রী লক্ষ¥ীর বর সবার ভাগ্যে জুটে না । শ্রীশ্রী লক্ষ্মীর বহু ঘটনা ও রটনা শাস্ত্রীয় উপাখ্যানে রয়েছে। স্বর্গের রাজা ইন্দ্র হাতিতে চড়ে যাচ্ছেন। পথের মধ্যে দুর্বাসা মনি রাজার গলায় পারিজাতের মালা দান করেন। পারিজাত মানে স্বর্গীয় ফুল ।

রাজা সেই ফুলের মালাকে হাতির মাথায় রাখেন। হাতি ফুলের গন্ধ সহ্য করতে না পেয়ে তার শূড় দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। ফেরার পথে দুর্বাসা মনি তার দেয়া মালা মাটিতে দেখে ইন্দ্রকে অভিশাপ দান করে। ইন্দ্র লক্ষ্মী ভ্রষ্ঠ হন । লক্ষ্মী সমুদ্রের অতলে মহা পাতলে অবস্থান করেন। ইন্দ্র তার স্বর্গরাজ্য হারিয়ে নীপিড়িত হন। স্বর্গের দেবতারও দারুন কষ্টে দিনাতিপাত করেন।পরবর্তীতে সমুদ্র মন্থনে লক্ষ্মীকে উদ্ধার করা হয় ।

অপরদিকে, রাম অবতারে লক্ষ্মী ভ্রষ্ঠ হন এবং তার সীতাকে রাবন অপহরণ করে।
মহাভারতে শ্রীবৎস ও চিন্তার উপাখ্যানে লক্ষ্মী দেবীর কৃপার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে ধনকূপ জগতশেটের মা কর্তৃক লক্ষ্মী পূজার কথা উল্লেখ রয়েছে। ধনের সাথে জ্ঞানের সংমিশ্রণ হলে দেশ ও জাতির কল্যাণ সাধিত হয়। ধনের গর্বে গর্বিত জনেরা জ্ঞানীর মূল্য না দেয়াতে সমাজে ব্যবিচার,অনাচার,অবিচার পরিলক্ষিত হয়। লক্ষ্মীর বাহন পেঁচা সু তিঘœ দৃষ্টির অধিকারী। লক্ষ্মীর সাধনা যারা করে তাদেরকে সু-তিঘ্ন দৃষ্টির অধিকারী হতে  হয়। লক্ষ্মী বড় চঞ্চলা । এই চঞ্চলা লক্ষ্মীর চাঞ্চল্যতা অনেকেই সহ্য করতে পারেন না। ধনের ভার সহ্য করতে হলে অনেক জ্ঞান সাধনা করতে হয়।

লক্ষ্মী এবং স্বরসতীর মিলন হলেই অন্তর আত্মার জাগ্রত হয়্ । আজ কোজাগরির পূর্ণ তিথীতে গৃহ বধুদেরর কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে প্রার্থনা জানাই ,“ ওঁ বিশ্ব রূপস্য ভার্যাসি পদ্মে- পদ্মালয় শুভে । সর্বতঃ পাহি মাং দেবী মহা লক্ষ্মী নমস্তুতে ঃ” ।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম