Mon, 18 Dec, 2017
 
logo
 

নারায়ণগঞ্জ সর্ম্পকে বহিঃবিশ্বে প্রবাসীদের ভিন্ন ধারনা

হাবিবুর রহমান বাদল: উদ্বিগ্ন আর উৎকন্ঠার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে নারায়ণগঞ্জবাসী। গত কয়েকদিনের ছিনতাই, হত্যা, ছিনতাইকারীদের গুলিতে সহোদর দুইভাই আশংকাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর প্রহর গুনছে। বাড়ী থেকে বের হয়ে নিরাপদ ভাবে বাড়ীতে ফিরে যেতে পারবে কিনা তা নিয়েও সর্বদাই চিন্তিত হয়ে থাকে স্ব স্ব পরিবারের সদস্যরা। নারায়ণগঞ্জের কয়েকটি ঘটনায় আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতিতে যে আতংক এ বিষয়ে বলার অপেক্ষা থাকে না। নারায়ণগঞ্জে সেভেন মার্ডারের পর বর্তমান জেলা পুশিশ সুপার ডা.খন্দকার মহিদউদ্দিন যোগদান করার পর জেলার আইনশৃংখলা পরিস্থিতি কয়েকমাস স্বাভাবিক খাকলেও গত কয়েকমাসে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে অনেকটাই তিক্ত বিরক্ত জেলাবাসী।

 

অপরদিকে অপরাধীরা তাদের অপরাধ কর্মকান্ড করে সহজে পালিয়ে গেলেও জড়িতদের আইনের আওতায় আনাতো দূরের কথা মূল রহস্যই উদঘাটন করতে সম্পূনটাই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আসছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। অথচ জেলাবাসী বর্তমান পুলিশ সুপার ডা.খন্দকার মহিদউদ্দিন যেভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল তা প্রশংসার যোগ্য হলেও গত কয়েকদিনের আইনশৃংখলা চরম অবনতির কারনে নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে সে ব্যর্থ এসপি হিসেবেই বিবেচিত বলে আমি মনে করি। নারায়ণগঞ্জের প্রশাসন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের আস্থা থাকলেও বিগত দুইটি ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে যেভাবে নারায়ণগঞ্জকে উপস্থাপন করা হয়েছে এতে নারায়ণগঞ্জ সর্ম্পকে নেতিবাচক অবস্থান তৈরি করেছে। সেভেন মার্ডার ও সর্বশেষ ফাইভ মার্ডারের ঘটনা আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় এমনভাবে প্রচারিত হয়েছে দেশের বাইরের মানুষ মনে করে নারায়ণগঞ্জ মানেই একটি অস্থিতিশীল এলাকা। প্রকাশ্যে গুলি করে একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৯ লাখ টাকা ছিনতাই, ছিনতাইকারীদের গুলিতে সহোদর দুইভাই আশংকাজনক অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুর প্রহর গুনছে, শহরের বাবুরাইল এলাকায় একই পরিবারের ৫ জনকে জবাই করে হত্যা, মোট কথা নারায়ণগঞ্জে বর্তমানে অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে। আর আমার মতে এর মূল কারন হচ্ছে জেলা পুলিশ প্রশাসনের গাফলতি। জেলা প্রশাসনের গাফলতির কারনেই অপাধীরা অপরাধ সংগঠিত করে অতি সহজে পালিত যেতে সক্ষম হচ্ছে। অথচ ঘটনার সাথে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের আটক করতে পারছে না পুলিশ। আর যাদেরকেই আটক করছে অনেকটা চাপে পড়ে এলাকার তালিকাভ’ক্ত সন্ত্রাসীদের আটক করে জেলা প্রশাসন আইওয়া করে তাদের দায় দায়িত্ব শেষ করছে। ফলে অধরাই রয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা অন্ধকারেই থেকে যাচ্ছে ঘটনার মূল রহস্য।

 

আমি যে কয়েকবার দেশের বাইরে গিয়েছি, পরিচিত হয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলার অনেক লোকজনদের সাথেই। আমার পরিচয় জানতে চাইলে, যখন বলেছি আমি নারায়ণগঞ্জের সন্তান। এটা জানার পর পরই  অনেকে আগ্রহভরে প্রশ্ন করেছে আমরা কিভাবে থাকি? কোন অবস্থয় বসবাস করি? এদের অবস্থা শুনে আমার কাছে মনে হয়েছে আমরা যেন কোন ভিন্নগ্রহে বাস করি। সূর্য ডোবার সাথে সাথেই নারায়ণগঞ্জের মানুষ যেন ঘরের থেকে বের হয় না। এই অবস্থা আমাদের জন্য কোন অবস্থাতেই সুখকর নয়। নারায়ণগঞ্জের আ্ইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেভেন মার্ডারের তথ্য ইতিমধ্যেই উদঘাটন করেছে। মাত্র দুই দিন আগে ঘটা পাচঁ খুনের ঘটনাও পুলিশের কাছে পরিস্কার। এর পরও কেন আমাদের এই অবস্থা? বহিবিশ্বে আমাদের নারায়ণগঞ্জ সর্ম্পকে কেনই বা প্রবাসীদের ভিন্ন ধারনা। নারায়ণগঞ্জের সন্তান হিসেবে এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয় নয় বরং এটা আমাদের নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য লজ্জার। বাস্তবতা হলো নারায়ণগঞ্জের প্রশাসন কোন ব্যাপারেই কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে না।

 

আইন এখানে তার নিজস্ব গতিপথে চলছে বলে আমার মনে হয় না। তার প্রমাণ আইন যদি তার নিজস্ব গতিতে চলতো তাহলে যানজটের মতো একটি ঘটনা নিয়ে নারায়ণগঞ্জে তোলপাড় সৃষ্টি হতো না। একজন সাংসদকে তার দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ট্রাফিকের ভুমিকায় অবতীর্ণ হতে হতো না। এর কারণ যানজট নিরসন, ফুটপাত দখলমুক্ত আর পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলা যাদের দায়িত্ব এক্ষেত্রে সম্পূর্নভাবে ব্যর্থ বলা চলে। পাশাপাশি সাংসদ শামীম ওসমান মাদকের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করে একাধিক অনুষ্ঠানে বলছেন, যে পরিবারে একজন ছেলে কিংবা মেয়ে মাদকাসক্ত সেই বাড়িটি একটি দোযখে পরিণত হয়। এজন্য তিনি পকেটের পয়সা খরচ করে স্টিকার বানিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে দিয়েছেন। মাদক ব্যবসায়ী, ভূমি দস্যু আর সন্ত্রাসীদের চিহিৃত করা মাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করেছেন।

 

নারায়ণগঞ্জ মাদকে সয়লাব হয়ে গেছে। এখন স্কুল-কলেজের ছাত্রদের পাশাপাশি ছাত্রীরাও মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। শুধু তাই নয় অনেক গৃহবধু এই মাদকের কড়াল গ্রাসে আক্রান্ত। মাদক কারা বেচে, কোথায় বেচে, কিভাবে মাদক বেচাকেনা হচ্ছে এ তথ্য পুলিশের মাঠ পর্যায়ের কর্মী জানে না এ কথা বললে আমি তাদের সাথে দ্বিমত পোষণ করছি। আমরা একাধিকবার মাদক ব্যবসায়ীদের নাম-ঠিকানা, বিক্রয়ের স্টাইলসহ বিস্তারিত তুলে ধরে মাদক ব্যবসায়ীদের চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছি। এর পরও এ সমাজকে রক্ষার জন্য আমাদের যুবকরা যাতে বিপদগামী না হয় এজন্য ডান্ডিবার্তা ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। আমাদের কোন অভিভাবক নেই, নেই কোন লগ্নিকারক। যে কারণে পাঠকই আমাদের একমাত্র ভরসা। আমরা কারো ভরসায় কিংবা অর্থানুকুল্যে পত্রিকা প্রকাশ করি না বলেই যা সত্য যা কল্যানকর তাই লিখি। আমরা আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করি না। এই শ্লোগানকে উপরে রেখে সত্য বলতে চাই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি আল্লাহর কোরআন ছুয়ে শপথ করে মাদকের টাকা খাবো না, মাদক বিক্রি করতে দিবো না। আমার বিশ্বাস একমাসে নারায়ণগঞ্জের কোথাও মাদক খুজে পাওয়া যাবে না।

 

সেভেন মার্ডারের নায়ক নুর হোসেন একসময় নারায়ণগঞ্জের মাদক নিয়ন্ত্রন করতো এখন বন্দুক শাহীন সহ আঞ্চলিক ভিত্তিতে পাড়া-মহল্লায় মাদক বিক্রেতা গজিয়ে উঠেছে। মাদক বিক্রেতাদের অভিযোগ মাদক বিক্রি না করলে তারা পুলিশকে টাকা দিবে কিভাবে। আর টাকা না দিলে তাদের ধরে নিয়ে যাবে। সেই সাথে পুলিশের কথিত সোর্সরা মাদক বিক্রেতা সৃষ্টিতে সহায়ক ভুমিকা পালন করছে। আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করতে চাই মাদক বিক্রেতাদের পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। কিন্তু আসুন  না এই মিথ্যাকে মিথ্যা হিসাবে প্রমানের জন্য কড়িত কর্মা। পুলিশ সুপার ও তার উর্ধ্বতন সহকর্মীরা ওয়াদা করে একবার চেষ্টা করি মাদক বন্ধ হয় কিনা। নারায়ণগঞ্জে আরেক সমস্যা বলা চলে সংবাদপত্র। নারায়ণগঞ্জে কয়টি পত্রিকা প্রকাশিত হয় জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট তা সঠিক সংখ্যা বলতে পারবেন বলে আমার মনে হয় না। প্রেস এন্ড পাবলিকেশন এক্টকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যত্রতত্র পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে। এই সব পত্রিকায় প্রকাশের খরচ জোগায় কে তার হিসাব নিজেরাও জানে কিনা আমার সন্দেহ। আমার জানা মতে, নারায়ণগঞ্জ জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের অনুমোদন সাপেক্ষে নারায়ণগঞ্জ থেকে ডিকলারেশন প্রাপ্ত দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা ১৪টি। এর মধ্যে তিনটি বন্ধ, একটি অনিয়মিত। তারপরও সাংবাদিকদের সংখ্যা গুনে শেষ করা যাবে না। এব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ নিউজ পেপার ওনার্স এসোসিয়েশন বর্তমান জেলা প্রশাসকের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। এমনকি তার সম্মেলন কক্ষে প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আইন বহির্ভুত পত্রিকা প্রকাশের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়ার পরও প্রশাসন নিরব। এছাড়া ডান্ডা-বেরীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ শহরবাসী। পেশাদার সাংবাদিকরা নিজেদের পরিচয় আড়াল করে মান-সম্মান বজায় রেখে নিজ দুরত্বে অবস্থান করে চলেছে। এত কিছু বলার পিছনে যে বিষয়টি আমি বলতে চাই তা হলো, নারায়ণগঞ্জে জঙ্গীদের নিয়ে প্রশাসনের যেন কোন মাথা ব্যাথা নেই। একথা সত্য নারায়ণগঞ্জের জঙ্গীরা এখন অনেকটা নিরবই বলা চলে। কিন্তু আমার সাড়ে তিন দশকের অভিজ্ঞতা বলছে এই নিরবতা আগামী দিনের বড় ধরনের আঘাত হানার পরিকল্পনার পস্তুতি না তো? নারায়ণগঞ্জে জঙ্গীদের বিরুদ্ধে দেশীয় গণমাধ্যম শুধু নয় বিদেশী গণমাধ্যমও একাধিক সংবাদ প্রচার করেছে। নারায়ণগঞ্জের তিন জঙ্গী এখন ভারতের কারাগারে। জেএমবির শীর্ষ নেতা সালাউদ্দিনকে পুলিশ হত্যা করে কেড়ে নেয়া হয়েছে। বন্দরের সেই সালাউদ্দিন এখনো ধরা-ছোয়ার বাইরে। জেএমবির কর্মপদ্ধতি বিভিন্ন কায়দায় চলছে। কখনো শ্রমিক কখনো বা রিকশা চালক, আবার কখনো বা সাংবাদিক। এমনই পরিচয়ে তারা কাজ করে চলেছে। গত বছরে একাধিক নামধারী সাংবাদিক পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। তারা স্থানীয় পত্রিকায় কর্মরত বলে পরিচয়পত্র দেখিয়েছে। পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিতে জামাত-শিবিরকে আর্থিক ভাবে সহায়তা কারী এমন অনেকের নাম প্রকাশ করেছে। শুধু তাই নয় জামাত-শিবির তথা জঙ্গীদের অর্থে নারায়ণগঞ্জের বেশ কয়েকটি পত্রিকা প্রকাশিত হয় বলেও গ্রেফতারকৃতরা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। এত সবের পরও প্রশাসন কি করেছেন, গণমাধ্যম তার কিছুই জানে না। সম্প্রতি ময়মনসিংহের প্রাচীনতম পত্রিকা দৈনিক জাহানের ব্যবস্থাপনা সম্পাদককে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করেছে। গোয়েন্দা সংস্থা বলেছে, দৈনিক জাহানের সীমানা প্রাচীরের ভিতরেই উক্ত পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মেহেদী হাসানের বাড়ি। এই বাড়িতেই অস্ত্র তৈরির কারখানা ছিল। যেখানে গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধারসহ মেহেদীকে গ্রেফতার করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, জেএমবির সাথে যোগসাজশেই পত্রিকার অফিসের পাশে মেহেদী হাসানের বাড়িতে অস্ত্র তৈরির কারখানা গড়ে তোলে। যা জেএমবি ব্যবহার করতো। আমরা গত দুই বছরে একাধিক বার জেএমবির বিরুদ্ধে সত্য ও ব¯‘নিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে আতংকের মধ্যে পত্রিকা প্রকাশ করে চলেছি। কিন্তু রহস্যজনক কারণে প্রশাসনের এহেন নিরবতা জঙ্গীদের যেমন উতসাহিত করছে তেমনি নারায়ণগঞ্জে অপসাংবাদিকতার বিস্তার বাড়ছে। এব্যাপারে জনপ্রতিনিধিরা মাঝে-মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে খবর প্রকাশ হলে ক্ষোভ প্রকাশ করে শান্ত হয়ে যায়। আমরা চাই জাতির বিবেক হিসাবে পরিচিত দেশের চতুর্থ স্তম্ভ হিসাবে স্বীকৃত প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণে সংবাদপত্র প্রকাশিত হোক। কারো দয়ায় কিংবা আশির্বাদে নারায়ণগঞ্জে অপসাংবাদিকতা যেন বিস্তার না পায় এব্যাপারে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও বিবেকবান মানুষের প্রতি আমাদের সবিনয় নিবেদন এই শহরটা আমাদের, আপনাদের। আসুন নারায়ণগঞ্জকে মাদক মুক্ত, অস্ত্রমুক্ত, ভুমিদস্যু মুক্ত শহর সহ নারায়ণগঞ্জ বাসীকে একটি শান্তির শহর উপহার দেই। আর এ ক্ষেত্রে পেশাদার সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ ভুমিকা এইসময়ের জন্য সবচেয়ে বেশী জরুরী।

লেখক: হাবিবুর রহমান বাদল (সম্পাদক, ডান্ডিবার্তা)|

অসংখ্য শহীদের বধ্যভূমি প্রথম দেখা

স্বাধীনতার ৪৪বছর ঘুরে ফিরে বার বার আসে, শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস। মনে কোনায় উকিমারে সেই দেখা  সারি সারি অসংখ্য বিকৃত  শহীদের লাশ। মাঝে  মাঝে শিহরন উঠে কাপতে থাকে শরীর, কারণ শহীদ বুদ্ধিজীবিদের লাশ আমি প্রথম দেখি।

Read more...

তৈমূর আলম'র কলাম- বিজয়ের মাস : কেমন আছে দেশ বাসী

বিজয়ের মাস, সকলকে বিজয়ের রক্তিম শুভেচ্ছা। সকল শহীদ ও নির্যাতিতদের প্রতি শ্রদ্ধা, গাজীদের প্রতি সম্মান। রক্ত দিয়ে কেনা এই স্বাধীনতা। রক্তের ঋণ কতটুক পরিশোধ হয়েছে? বিজয়ের মাসেও ভাবতে হয় কেমন আছে দেশবাসী?

Read more...

এ কিসের আলামত- তৈমূর

এ্যাডঃ তৈমূর আলম খন্দকার: গোটা বিশ্বে ইসলাম বিরোধী শক্তিগুলি একত্রিত হচ্ছে- মুসলমানদের ধংসের উদ্দেশ্যে। বৌদ্ধরা খ্রিষ্টানদের বিরুদ্ধে বলে না, খ্রিষ্টানরা হিন্দুদের বিরুদ্ধে বলে না, হিন্দুরা বৌদ্ধদের বিরুদ্ধে বলে না। সবাই গোটা বিশ্বে অশান্তির জন্য ইসলামকেই দায়ী করছে।

Read more...

নারায়ণগঞ্জে শিবিরের ক্যাডাররা ছদ্দবেশে অবস্থান করছে

মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাসিঁর দন্ডে দন্ডিত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহ্সান মুজাহিদের অনুসারীরা গোঁপন তৎপরতা চালানোর লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্নস্থানে একাধিক বৈঠক করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

Read more...

দেশকে অস্থির করতে জঙ্গী তৎপর !

মন্তব্য প্রতিবেদন
হাবিবুর রহমান বাদল
একটি বিশেষ মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গী হামলা চালানোসহ বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

Read more...

কোন জায়গায় আইলাম রে মনু!

হোটেল কনরাড সিউলে'র রিসেপশনে এসে আয়োজকদের পাঠানো রুম-বুকিং-এর প্রমাণাদি দেয়ার পর, ওদের কাছে গেস্ট তালিকার সাথে মিলিয়ে শুভ সন্ধ্যার মেয়েটি মিষ্টি হাসল। তারপর বিনয়ের কোকিল হয়ে বলল — ‘ক্রেডিট কার্ড প্লিজ’। আমি বললাম— ‘কিসের কার্ড, আমি তো দাওয়াতি মেহমান। আমি কোন ক্রেডিট কার্ড ইউজ করি না।

Read more...

হাতির ঝিলে হাতিঃ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষতা!

বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
বাংলাদেশের মানুষ ভাগ্যমান বটে। কারণ তারা মহান মুক্তিযুদ্ধ দেখেছে। মুক্তি যুদ্দের গৌরব অর্জন করা সৌভাগ্য সব জাতির ভাগ্য জুটে না। পাশাপাশি সামরিক সরকার, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার, পার্লামেন্টারী সরকার, কোয়ালিশন সরকার, বেসামরিক সরকারের ব্যানারে সামরিক সরকার (যা ১/১১ সরকার নামে পরিচিত) সবই দেশের জনগণ দেখেছে।

Read more...

সা. কা. চৌ: ন্যায় বিচার সংবিধান - এ্যাডঃ তৈমূর আলম

মন্তব্য কলাম:  
“বিচার” অর্থই “ন্যায় বিচার”; যদি ব্যাপতায় ঘটে তবে তা প্রহশন। “ন্যায় ভিত্তিক আইন” বনাম “আইন ভিত্তিক ন্যায়” - এ নিয়ে সুক্ষ বিতর্ক থাকলেও বিচার প্রার্থীকে বিচার পাওয়ার সকল সূযোগ করে দেয়াটাই “ন্যায় বিচারের” পূর্বশর্ত।

Read more...

তৃণমূল কি কেন্দ্রের কর্মচারী?- তৈমূর

এ্যাডঃ তৈমূর আলম খন্দকার:  
(ক) পৃথিবীময় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের লুটপাট ও রাহাজানীর নির্বাচনের বিগত সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে ৫ই জানুয়ারী/২০১৪ ইং মোট ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টি আসনে ভোটার ও প্রার্থী বিহীন অর্থাৎ বিনা প্রতিদ্বন্ধীতায় নির্বাচিত ও বাকী আসনে আত্নস্বীকৃতী প্রহশনমূলক নির্বাচনে মহাজোট নামে এক অদ্ভুদ সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যার মধ্যে তথাকথিত বিরোধীদল জাতীয় সংসদ, মন্ত্রী পরিষদ, উপদেষ্টাসহ রাষ্ট্র পরিচালনায় ক্ষমতার অংশীদার। সরকারটি অদ্ভুদ এ জন্য যে- বৃটিশ, পাকিস্থান ও স্বাধীনতা পরবর্তী এমন পাঁচমিশালী সরকারের অভিজ্ঞতা দেশবাসী আর দেখে নাই। ফলে যা হবার তাই হচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে বিদ্যুতের মূল্য হ্রাস হলেও বাংলাদেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে; ফলশ্রুতিতে বাস ভাড়াসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সকল দব্য মূল্যের বৃদ্ধি উর্দ্ধগতি। সরকার যে হারে পরিবহণ ভাড়া বৃদ্ধি করেছে তার চেয়ে অধিকতর হারে ভাড়া আদায় হচ্ছে যা সরকারের নিয়ন্ত্রনে নাই। ফলে যাত্রী ভোগান্তি অতি মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। মামলা ও নির্যাতনের ভাড়ে রাজপথের জনগণের বিরোধী দল বিপদাপন্ন হলেও সংসদের বিরোধী দলের নিরব সমর্থনের ফলে বিরোধী দল কর্তৃক সংসদ বর্জন, জ্বালাময়ী বক্তব্য প্রভৃতির কথা জনগণ ভুলেই গেছে। “ঘরে থাকলে খুন বাহিরে গেলে গুম” এবং “সরকার দেশী বিদেশী কাহারো নিরাপত্তা দিতে পারছে না” মর্মে জাতীয় পার্টী প্রেসিডেন্ট এরশাদ বললেও কার্যতঃ সংসদে মিসেস এরশাদ নেতৃত্বধীন বিরোধী দলের কোন ভূমিকা নাই; একমাত্র এরশাদের “আমরা সরকার থেকে পদত্যাগ করবো” এ ধরনের লোক হাসানো বক্তব্য ছাড়া!
 
বর্তমান প্রজন্ম ১৯৭২ থেকে ১৯৭৪ এবং ১৯৭৫ পূর্ববর্তী বাকশাল দেখে নাই, উপলব্দি করতে পারছে কি না জানি না। তবে বাকশাল যে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা এবং মনে প্রাণে দেশবাসী তা গ্রহণ করে নাই তা অবশ্য সকলেই বুঝতে সক্ষম হয়েছে। দেশে এখন কি চলছে? কোন অন্যায় অবিচারের কি প্রতিবাদ আছে? ২২ হাজার মামলা মাথায় নিয়ে বিএনপি জেলখানায় আটক বা দিনের পর দিন কোর্টে হাজিরা দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। পুলিশ নির্যাতনে মানুষ বাড়ীতে না থাকতে পারায় দলে দলে কোর্টে আতœসমর্পন করে স্বেচ্ছায় কারাগারে চলে যাচ্ছে। আদালত চোর, ডাকাত, খুনীদের অকাতরে জামিন দেয় কিন্তু রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের জামিনের সময়ই হিসাব নিকাশ শুরু হয়ে যায়। বিএনপি মহাসচিবের জামিনের প্রশ্নে মহামান্য প্রধান বিচারপতি মন্তব্য এ মর্মে প্রভাববিস্তার করেছে মর্মে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন। কেহ মূখ খুললেই হয় দুদক বা পুলিশ বা র‌্যাব বা মানহানীর মামলায় নোটিশ এসে হাজির। এমতাবস্থায়, নিবীড়ে নিভৃতে চুপ থাকাটাই জাতি নিরাপদ মনে করছে যার ফলে জাতির বিবেকও মূখ থুবড়ে পড়ে আছে। অন্যদিকে “উন্নয়ন আগে গণতন্ত্র পরে” সরকারের এ উদ্দেশ্য প্রনোদীত শ্লোগানটি হজম করানোর জন্য সরকারী দালাল বুদ্দিজীবিরা উঠে পড়ে লেগেছে।  
 
এ উপর শুরু হয়েছে মরার উপর খাড়ার ঘা। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই এবং অংশ গ্রহণ কিছুটা হলেও জনগনের হাতের   নাগালে ছিল। কিন্তু আইন করে এখন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের হাতে নেয়া হচ্ছে। আইনটি পাশ হলে এখন দলীয় ব্যানারেই নির্বাচন হবে। ফলে প্রার্থী নির্ধারনের সকল ক্ষমতা তৃণমূল থেকে কেন্দ্রে চলে গেল। নমিনেশন এখন কেন্দ্র থেকে আনতে হবে অর্থাৎ ক্ষমতা এখন কেন্দ্রের নিকট কুক্ষিগত হলো। জনাব বিচারপতি এনায়েতুর রহিম ১৩/১০/২০১৫ ইং তারিখে প্রকাশ্যে আদালতে বলেছেন যে- “আমাদের এ্যাপিলেট ডিভিশন এতোই শক্তিশালী যে তারা একজন নারীকে পুরুষ এবং পুরুষকে নারী বানানো ছাড়া সবই করতে পারে” এবং এমন ক্ষমতা পার্লামেন্টেও আছে। নমিনেশন দেয়া এবং যে কোন সময় প্রত্যাহার ও বাতিল করার ক্ষমতা দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের রয়েছে। তারাও সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তৃণমূলকে কর্মচারীর মত মনে করে পুরুষকে নারী ও নারীকে পুরুষ বানানো ছাড়া যে কোন সিদ্ধান্ত যে কোন সময় (আর্মীর কমান্ডের মত) চাপিয়ে দিতে পারে। এতে লাভবান হবে তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের পরিবর্তে পারমিট শিকারীর মত নমিনেশন শিকারীরা। এ শিকারীরা তৃণমূলের রাজনীতিকে টটস্থ করে ফেলেছে। এ শিকারীদের একমাত্র কাজ দালালী এবং তোষামোদী। কারণ তারা জানে যে- যে ভাবেই হউক নমিনেশন শিকাড় করতে পারলেই তৃণমূলের নেতাকর্মীরা কর্মচারীর মত কাজ করবে এবং হচ্ছেও তাই।
 
সম্প্রতি কালের একটি উদাহারণ টেনে বলতে চাই যে- নারায়নগঞ্জ জেলাধীন বন্দর উপজেলা নির্বাচনে জেলা বিএনপি ও জেলা ২০ দল কর্তৃক চেয়ারম্যান পদে উপজেলা বিএনপি নির্বাচিত সভাপতি হাজী নুরউদ্দিন আহাম্মদ, ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে সাইফুল ইসলাম ও ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) পদে এ্যাডঃ মাহমুদাকে নমিনেশন দিয়েছিল।নমিনেশন পরিবর্তনের প্রশ্নে কেন্দ্র কি ভাবে তৃণমূলকে অবমুল্যায়ন করে উক্ত উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের মনোনয়ন এবং নাটকীয় পরিবর্তনের ইতিহাসকে টেষ্ট কেইস হিসাবে তুলে ধরা হলো। নির্বাচনের দুই দিন পূর্বে অর্থাৎ নির্বাচনী প্রচারনা শেষ দিনে জেলা বিএনপি’র সভাপতি,সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও উর্দ্ধগত দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দসহ ২০ দলীয় ঐক্যজোট জেলার নেতৃবৃন্দ নুরউদ্দিন হাজীর নির্বাচনী প্রচারনায় বক্তব্য রাখছিলেন তখন সভা চলাকালিন সময়েই ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে কেন্দ্রীয় বিএনপি বিবৃতি প্রদান করে নুরউদ্দিন হাজীকে দল থেকে বহিষ্কার সহ স্বঘোষিত বিএনপি সভাপতিকে বিএনপি’র প্রার্থী ঘোষণা করে। ফলে জেলা বি.এন.পি মনোনীত দুইজন ভাইস-চেয়ারম্যান পাশ করলেও জেলা বিএনপি ঘোষিত চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী পাস করে নাই। কেন্দ্্েরর বুঝা উচিৎ ছিল যে- আমাদের দেশে একটি নির্বাচন তুলতে লক্ষ/কোটি টাকা খরচ হয় এবং শত হাজার নেতাকর্মীর মাথায় ঘাম পায়ে ঝড়ে। কিন্তু তৃণমুলকে কর্মচারীর মত মনে করে বিধায়ই যে কোন বিবেচনা ছাড়াই কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত নির্বাচনের পূর্বমুহর্তে তৃণমুলের উপর চাপিয়ে দেয়। অথচ কেন্দ্র যাকে নমিনেশন দিল স্থানীয় সরকার দলীয় এম.পি’র বক্তব্য মতে সে (নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান) তাদের (এম.পি) নিকট “নাকে খত” দিয়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছে যা প্রকাশ্যে জনসভায় এম.পি মহোদয় প্রকাশ করেছেন। তাছাড়া    বিএনপি ভোটে পাশ করা এ চেয়ারম্যান জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে দেয়া অশালীন বক্তব্যের মিটিং এ বসে নিবীরে হাস্যজ্জল মূখে অংশ গ্রহণ করে আসছে। অন্যদিকে বহিষ্কারের পূর্বে শো-কজের বিধান থাকলেও তৃণমূলকে বহিষ্কার করতে কেন্দ্রের তা লাগে না। ফলে যারা বিএনপি’র নিবেদিত প্রাণ তাদের সাথে যদি কেন্দ্র তামাশা করে তবে কর্মীরা মনোবল হারাবে না কেন?
 
স্থানীয় সরকার নির্বাচন যদি দলীয় ব্যানারে হয় তবে চরম ভাবে লাভবান হবে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ যাদের সর্বোচ্চ হাই কমান্ডের চারপাশে ঘুর ঘুর করার সূযোগে রয়েছে। পার্লামেন্টের ৬০% আসন এখন ব্যবসায়ীদের দখলে। প্রশাসন ব্যবসায়ীদের দখলে। নির্বাচন আসলে প্রার্থী সিলেকসনের প্রশ্নে কর্তারাও বলে উমুক প্রার্থীর টাকা আছে, উমুক প্রার্থীর টাকা নাই। তবে কর্মী আর কর্মচারীর মধ্যে তফাৎ রইল কোথায়? আজকে একদিকে সরকার কর্তৃক রাজপথের কর্মীরা নিগৃতিত, অন্যদিক দলের কেন্দ্র থেকেও তারা বঞ্চিত। এমতাবস্থায়, ত্রীব থেকে ত্রীব্রতর আন্দোলন করার মানশিক রসদ তারা (তৃণমূল) পাবে কোথায়? ফলে রাজনীতির গুটি এখন সুবিধাবাদীদের কোর্টে দিনে দিনে চলে যাচ্ছে।  
         
দলীয় নমিনেশনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে হওয়ার কারণে এখন তৃণমূল নেতারাও তৃণমূল মূখী না হয়ে কেন্দ্র মূখী হবে। লাভবান হবে কেন্দ্র; বঞ্চিত হবে তৃণমূল ও ক্ষমতায় মসনদ পাকা পোক্ত হবে বর্তমান অনির্বাচিত সরকারের। এ সরকার অনির্বাচিত বিধায়ই ক্ষমতা তাদের হতের মূঠোয় বন্দী রাখার জন্য সরকার একের পর এক কূটকৌশল চালিয়ে যাচ্ছে যার পরিনতি জনস্বার্থের অনুকূলে হতে পারে না। তৃণমূলের উপর এটা মরার উপর খাড়ার ঘা ছাড়া আর কিছুই না।    
 
(খ) বিএনপি’কে নিয়ে সরকারের যতভাবনা। জাতীয়/স্থানীয় পত্রিকা, টক-শো, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা, রাজনীতিকদের মতামত সব মিলিয়ে সকলের নানা রকম চটকদার বক্তব্য তো আছেই; অধিকন্তু রয়েছে নেতাকর্মীদের হতাশা। লন্ডন থেকে ম্যাডাম কবে আসছেন? কি আসবেন না? বা তাকে আসতে দেয়া হবে কি? বা তিনি আসছেন না কেন? বা আসতে দেরী কেন? ইত্যাদি ইত্যাদি কোথাও হতাশা কোথাও টিপন্নী সব মিলিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে ধ্রমজাল সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমার প্রশ্ন ম্যাডাম (দেশনেত্রী খালেদা জিয়া) দেশে থাকতেই তাকে যখন অবরুদ্ধ রাখা হয়েছে তখন সুশীল সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন, বিচার বিভাগ, তথা দেশবাসী কি ভূমিকা রেখেছেন? তৃণমূল ছাড়া কোন জাতীয় নেতা রাস্তায় দাড়িয়ে পুলিশের পিটুনী খেয়ে গণতন্ত্রের জন্য ম্যাডামের পক্ষে দাড়িয়েছেন? সুশীল সমাজ, টক-শোর গণতন্ত্রকর্মী বুদ্ধিজীবিরা তখন কেথায় ছিল যখন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ম্যাডামের গাড়ীতে হামলা করা হয়?   
         
একজন মুক্তিযুদ্ধ সেকটর কমান্ডার, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী’র পুত্র তারেক রহমানকে রিমান্ডের নামে যখন পঙ্গু করে দেয়া হয় তখন এ দেশবাসীর জাগ্রত বিবেক কোথায় ছিল?
 
১/১১ সরকারের সময় তারেক রহমান দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান নাই। মানি লন্ডারিং মামলায় যে বিচারক তারেক রহমানকে খালাস দিল সে বিচারক এখন নির্যাতনের ভয়ে মালোয়শিয়া পালিয়ে গেছেন। এর পরেও ন্যায় বিচারের প্রাপ্তির আশা নিয়ে তিনি দেশে ফিরতে পারেন? তাই তারেকের দেশে ফিরা নিয়ে মন্ত্রীদের বক্তব্যের প্রতি “চুন কালি” মেরে দেয়া উচিৎ নয় কি?
 
কথায় চ্ছলে কথা অনেক বলা যায়। সমালোচনাও করা যায় অনেক। কিন্তু বাস্তবতায় নিরিখে যাচাই বাছাই করলে সমালোচকদের মূখে ফিরে আসা উচিৎ। কারণ- দেশের আইন দ্বিমূখী। প্রধানমন্ত্রীর জন্য আইন চলে এক গতিতে আর সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জন্য চলে উল্টো গতিতে এমতাবস্থায়, যারা আমাদের শেষ আশ্রয় তারা অর্থাৎ বিচার বিভাগ তারাই আমাদের কতটুকু নিরাপত্তা দিতে পেরেছেন?     
 
যিনি নেতা তিনি সব জায়গাতেই আমাদের নেতা। দেশের ভিতরে বাইরে এ নিয়ে হতাশা জন্ম দেয়া পক্ষান্তরে নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থার বহি প্রকাশ। অনেক নেতা বিদেশের মাটী বসেই দেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন- কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে- দেশনেন্ত্রী খালেদা জিয়া অনির্দিষ্ট কালের জন্য দেশ ছেড়েছেন। ১/১১ এর সময় সরকারের চাপে যখন তিনি দেশ ছাড়েন নাই তাই বিদেশে তার দীর্ঘবাসের আলোচনা একটি সমালোচনা ও অপপ্রচার মাত্র।
 
দৃষ্টিভঙ্গির উপর অনেক কিছু নির্ভর করে। “দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টান সব কিছু বদলে যাবে” এটা একটা শ্লোগানে পরিণত হয়েছে। দুর্বলের চেয়ে সবলের প্রতি সকলের সমর্থন থাকে এ দৃষ্টিভঙ্গি পূর্বেও পাল্টায় নাই ভবিষ্যতেও পাল্টাবে না; তবে কথার ফুলঝুড়িতে কেহ কারো চেয়ে কম যাচ্ছে না।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম