Tue, 24 Apr, 2018
 
logo
 

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কি আসন্ন?

এ্যাডঃ তৈমূর আলম খন্দকার: বিস্মিল্লাহির রাহ্মানির রাহিম। যুক্তরাষ্ট্র অর্থাৎ আমেরিকা পৃথিবীর শক্তিমান রাষ্ট্র যার ইচ্ছা অনিচ্ছার উপর অনেক রাষ্ট্রের নীতির পরিবর্তন ঘটে।
আমাদের দেশের নীতি নির্ধারকরাও আমেরিকা বা আমেরিকার আন্ডার সেক্রেটারী দেখলেও জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। বিগত কয়েক বৎসরের কার্যকলাপে মনে হয়েছে আমেরিকাই আমাদের ভাগ্য বিধাতা। বাংলাদেশের দুই বড় প্রতিদ্দন্ধী দলের দুতিয়ালী করে আমেরিকার কর্মচারীরা। সাদা চামড়া দেখলেই আমরা তাদের সম্মান না করলে যেন ভ্রদ্রতা আর থাকে না। অথচ আমেরিকার মত বর্বর জাতি পৃথিবীতে আর দেখা যায় না। মুক্তিযুদ্ধের সময় বর্বর পাকিস্তানীরা যখন নির্বিচারে বাঙ্গালীদের হত্যা করে তখন আমেরিকা বাংলাদেশের গণহত্যার প্রতিবাদতো দূরের কথা বরং পাকিস্তানকে সমর্থন দিয়েছে। পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টির মূল কারিগর আমেরিকা। ইহুদী প্রভান্বিত আমেরিকা আফগান দখল করেছে। ইরাককে ধ্বংস করেছে আমেরিকা। মুসলমানদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পিছনে তাদের ভূমিকাই অগ্রন্য। অথচ আমেরিকার প্রতি মুসলিম রাষ্ট্র প্রধানদের প্রতি খুবই দু:ক্ষজনক। যে সৌদী আরব ইহুদীদের বিরুদ্ধে বিশ্ব মুসলিমকে নেতৃত্ব দেয়ার কথা ছিল মুর্থতার কারণে তারাও আজ ইহুদী তথা আমেরিকা প্রতিতে ব্যস্ত। তারা এখন আমেরিকান সংস্কৃতির দিকে ঝুকছে। সৌদীদের ব্যাংক একাউন্ট ও নিরাপত্তাতে আমেরিকান প্রভাব। আই.এস. সৃষ্টি এবং পরকান্তরে জঙ্গী বানিয়ে মুসলমানদের বিশ্ব দরবারে জঙ্গী হিসাবে প্রতিষ্ঠার পিছনে একমাত্র কারিগর আমেরিকা। আমেরিকার সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী হেনরী কিসিঞ্জার বলেছেন যে, আই.এস. আমেরিকার সৃষ্টি। মুসলমানদের প্রকাশ্যে শক্র ইহুদী। পরম করুনাময় আল্লাহপাক পবিত্র কোরআন শরীফে ২২টি আয়াতে ইহুদিদের সম্পর্কে সাবধান করেছেন।  
 
মুসলমান নেতৃত্ব যদিও আমেরিকাকে তোয়াজ করে চলে, গোটা মুসলিম সমাজ কিন্তু তাদের ঈমানী পরীক্ষা দিচ্ছে। মুসলমানদের অধ্যাতিক রাজধানী ও প্রথম কেবলা বাইতুল মোকাদ্দেশ অধ্যুষিত জেরুজালেমকে ইজরাইলের রাজধানী ঘোষনা করায় পৃথিবীব্যাপী গোটা মুসলিম সমাজ যে যেখানে আছে সেখান থেকেই প্রতিবাদ করছে। এখনো মুসলমানদের ঈমান আছে এখনো তারা প্রতিবাদ করতে জানে। ইরাকে গণহত্যা চালানোর প্রতিবাদে আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে (তার বিদায়ী সফরকালে) ইরাকের আল বাগদাদিয়া টেলিভিশনের সাংবাদিক মুনতাজের আল জাইদি প্রকাশ্যে জুতা মেরে প্রমাণ করে ছিল যে, মুসলিম নেতৃত্বের অধপতন হতে পারে, কিন্তু সাধারণ মুসলমানদের ঈমান এখনো নষ্ট হয়ে যায় নাই। ইরাকের দখলদার প্রধানমন্ত্রী (আমেরিকার তাবেদার) নুরি আল মালিকির নিয়ন্ত্রনাধীন ইরাকী ক্যাঙ্গারু আদালত ঈমানী পরীক্ষায় পরিক্ষিত সাংবাদিক মুনতাজের আল জাইদিকে ২০০৯ সালে তিন বৎসর জেল দিয়েছিল। রায় শুনে প্রকাশ্যে আদালতে জাইদির বোন রোকেইয়া চিৎকার করে বলে ছিল যে, “আমেরিকার চর ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মালিকি নিপাত যাক”। জাইদীর বোন তার ঈমানী দায়িত্ব থেকেই আদালতে চিৎকার করে আমেরিকান দালালদের বিরুদ্ধে স্বোচ্চার হতে পেরেছিলেন। তবে ট্রাম্পকে ঈমানদার মুসলমানদের হাতে “জুতা” খেতে হবে এবং পায়ের জুতাই তার একমাত্র প্রাপ্য।  
 
পৃথিবীতে প্রায় ৬০০ কোটি মানুষের মধ্যেই অর্ধেকই মুসলমান। ৫৬টি মুসলিম রাষ্ট্র রয়েছে যারা অর্থ বিত্তে শক্তিশালী। অথচ তাদের অনৈক্যের কারণে মুসলিম বিশ্ব আজ অসহায়। ট্রাম্প একজন মুসলিম বিদ্বেষী হওয়ার কারণেই একজন পাগল জেনেও ইহুদী আমেরিকানরা তাকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছে। মুসলমান যতদিন (আল্লাহ বিধান মতে) তাদের শক্র ও বন্ধু চিহ্নিত করতে পারবে না ততদিন পর্যন্ত বিশ্বে প্রকৃত মুসলিম নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। ট্রাম্পের বক্তব্যো সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। মুসলিম বিরোধী শক্তির উপরে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার জন্যই ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইজরাইলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এটা শুধু বাতকে বাত কথা নয় বরং গোটা মুসলিমদের প্রতি একটি চ্যালেঞ্জ। সাংবাদিক জাইদীর মত শ্রদ্ধা জানাই প্রেসিডেন্ট এবদোগানকে যিনি এ ঘটনার জোড়ালো প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এখনই সময় গোটা মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য। রোহিঙ্গা ইস্যু যেমন মুসলমানদের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র, অনুরূপ জেরুজালেম সস্পর্কে কুখ্যাত ট্রাম্পের বক্তব্য একটি ষড়যন্ত্রের অংশ মাত্র। মুসলিম বিশ্বকে ধ্বংস করার জন্য মুসলিম বিদ্ধেষীরা আজ ঐক্যবদ্ধ এবং তারা সে দিকেই এগুচ্ছে যার জন্য তাদের প্রয়োজন একটি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ।
 
লেখক
কলামিষ্ট ও বিএনপি’র চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা 
মোবাঃ ০১৭১১-৫৬১৪৫৬
E-mail: This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম