Wed, 26 Jul, 2017
 
logo
 

বাবা হলো বিশ্বের অদ্বিতীয় আলো

জাহাঙ্গীর ডালিম : আজ বিশ্ব বাবা দিবস। মাকে যেমন ভালবাসি বাবাকে ঠিক তাই। এই দু’জনের তুলনাতে অন্য কেউ নেই। বাবার আদর বাবার মতো অবিরত হাসি/ ভাবার øেহ যতœ পেয়ে অনেক ভালবাসি/ আকাশ যেমন তেমন বাবার উদার আকাশ মন/ এসব কথা ভাবতে থাকি একলা যতক্ষণ/ সেই বাবাকে মনের ঘরে যতœ করে রাখা / বাবার প্রতি অঢেল সম্মান প্রদর্শন করে এগিয়ে চলি প্রতিনিয়ত।

কেননা, বাবার জন্য এই পৃথিবী, এই দেশ, এই আকাশ এই নদী দেখার সৌভাগ্য হয়েছে আমাদের সকলের। আর সেই শ্রদ্ধাময় আগামী গড়ারজনক বাবার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে ভালবাসা জানিয়ে প্রতি বছরের জুন মাসের তৃতীয় রোববার পালিত হয় বাবা দিবস। এ বছর ১৮ জুন তাই এ দিবসটি পালিত হচ্ছে। কিন্তু কী এই দিবস, এর উৎস কী ? তাছাড়া বাবা শব্দটা পৃথিবীর অন্যত্র কীভাবে উচ্চারিত হয় ? এসব নিয়ে প্রশ্নের উত্তর নিয়ে এগিয়ে যাবে বাবার প্রতি বিনম্র ভালবাসা শ্রদ্ধা। “বাবা দিবস” পালন শুরু হয় গত শতাব্দীর প্রথম দিকে। সোনোরা লুইস ডডের মা সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে যখন মারা যান, তখন ডডের বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। বাবা উইলিয়াম জ্যাকসন সবে যুদ্ধ থেকে ফিরেছেন। তারপর থেকেই তিনি দেখেছেন তাঁর বাবা তাদের ছয় ভাই বোনকে মানুষ করার জন্য রাত দিন কী কঠিন পরিশ্রমেই না করেছেন। তারা তাদের মায়ের অভাব বুঝতেই পারেন নি বলতে গেলে বাবাই তাঁদের মা। বাবাই ছিল তাদের সব। ১৯০৯ সালে ডডের বয়স যখন ২৭, তখন তিনি অবাক হয়েই দেখলেন মায়ের প্রতি ভালবাসা প্রকাশের জন্য একটি দিন আছে যে দিনটি বিশ্বের প্রায় সবাই পালন করে অথচ বাবার প্রতি ভালবাসা প্রকাশের কোন দিন নেই, যেন বাবাকে কেউ ভালই বাসে না। ডড ভাবলেন, মা দিবসের মতো বাবা দিবস থাকলে কেমন হয়। কিন্তু তাঁর এ ভাবনা যখন অন্যরা শোনে তখন হেসেই বাঁচে না। এমনিক তাঁকে নিয়ে এ জন্য রঙ্গ রসিকতা করতে ও কেউ বাদ রাখেনি। কিন্তু ডড এতে ভীষন কষ্ট পেলেও দমলেন না একদম, বরং তাঁর মধ্যে জেদ আর প্রবল হয়ে উঠল। কারণ তিনি তাঁর বাবাকে প্রচন্ড ভালবাসেন। তাই তিনি আন্তরিক ভাবে বাবা দিবস পালনের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করতে লাগলেন। আন্তরিক প্রচেষ্টা আর কঠোর পরিশ্রম যে সফলতার মূল চাবিকাঠি সেটা আরেকবার প্রমানিত হলো। কারণ তাঁর পরের বছর ১৯১০ সালে ওয়াশিংটনের স্পোকান নামের ছোট্ট শহরে (ডডের নিজ শহর) কয়েকটি সংগঠনের উদ্যোগে পালিত হলো বাবা দিবস। তারপর ১৯১৬ সালে আমেরিকার তৎকালীণ প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন এদিবসকে সমর্থন করেন। এক সময় এটা জাতীয় পার্লামেন্টে ও স্বীকৃতি পায়। ১৯২৪ সালে তৎকালীন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কলিজবিলটি পূর্ণ সমর্থন দেন। অবশেষে ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিওন জনসন বাবা দিবসকে ছুটির দিন হিসেবে ঘোষনা করেন। বিশ্বের বেশির ভাস দেশে জুন মাসের তৃতীয় রোববার বাবা দিবস হিসেবে পালিত হয়। বাবা হচ্ছে পৃথিবীর অন্যন্য মাধুর্য মন্ডিত একটি শব্দ। সত্যি বলতে কি, পৃথিবীর সব আলো, সব আনন্দের অপরূপ প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে বাবার মুখে। হাসি আনন্দ, দুঃখ, বেদনা, শোক তাপ, মালিন্য-উচ্ছাস নিঃস্বার্থ সেবা মায়ের পর বাবা ছাড়া আর কে দিতে পারে। প্রকৃত পক্ষে বাবা হলো বিশ্বের অদ্বিতীয় আলো, যে আলোয় আলোকিত হয়ে আমাদের সারাজীবনের পথ চলা। বাবা দিবসে আমরা অর্থাৎ সন্তানেরা আমাদের অকৃত্রিম আন্তরিক ভালবাসা জানাই পৃথিবীর সব বাবাদের প্রতি। বিশ্বের সব আনন্দ অবিরাম ফল্গু ধারায় প্রবাহিত হোক আমাদের পিতৃবেদনায়।


(লেখক- সাংবাদিক)

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম ২৪