Wed, 26 Jul, 2017
 
logo
 

কুতুবপুরে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট প্রদানের আয়োজন নিশ্চিত করুন

কামাল উদ্দিন সুমন: কে  জিতবে আর কে জিতবে না সেটা ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারণ হবে কিন্তু কুতুবপুরের শান্তি প্রিয় মানুষ চায় আগামী ২৩ এপ্রিল নির্বাচনে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট দেয়ার সুযোগ।

মাননীয় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং নির্বাচন কর্মকর্তা আপনাদের নিকট কুতুবপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের পক্ষ থেকে সবিনয় অনুরোধ রাখছি নির্বাচনটা যেন সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ হয়। মানুষ যাতে নিরাপদে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারে। এবং তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে। প্রশাসনের  কাছে এ আবদার এবং বিনীত অনুরোধ করছেন কুতুবপুরের মানুষ।

 

কুতুবপুরের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সাথে আমি কথা বলেছি, বিভিন্ন এলাকায় গিয়েছি।  ভোটারদের সাথে কথা বলে জেনেছি তাদের মনে একটা ভয়, শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেকে প্রশ্ন রেখে বলেছেন নিরাপদে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারবো তো? আমরা আমাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে চাই। আমার চাই একজন শান্তিপ্রিয় জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে। যিনি কুতুবপুরের উন্নয়ন কি করবেন তা তার দায় দায়িত্ব কিন্তু মানুষ শান্তিতে বসাবাস করতে পারবে, বাড়ি ঘর নির্মাণ করলে চাঁদা দিতে হবে না, গভীর রাতে কুমারী নারীকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে যাবে না, সকাল বেলায় কারোর খুনের খবর জেনে ঘুম ভাংবে না, ডোবা কিংবা কচুরীর পানার ভেতরে জোড়া লাশ পাওয়া যাবে না। হাত পা কাটা লাশ রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখবে না। পিটিয়ে নির্দয়ভাবে কাউকে খুন করা হয়েছে কিংবা হাত কেটে চোখ উপড়ে ফেলে উল্লাস করার  খবরও শুনবে না।  এমন একজন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করাতে চাই।


কুতুবপুরের সাধারণ মানুষ বলছে, মাননীয় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং নির্বাচন অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একটি মহতি উদ্যোগই যথেষ্ঠ আগামী ২৩ এপ্রিল শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের সহায়তা চাইলে মানুষ স্বত:স্ফুর্তভাবে আপনাদের সহায়তা করার জন্য এগিয়ে আসবে তবু ও তারা চায় একটা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের সব ধরণে চেষ্টা করা হবে বলে প্রত্যাশা মানুষের।


মাননীয় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার আপনারা এই জেলার অভিভাবক। মানুষের নিরাপত্তা দেয়া এবং সুখ দু:খ দেখার বিষয়টা আপনাদের উপর বর্তায়। আপনাদের জানা রয়েছে তবুও বলছি, কুতুবপুর নারায়নগঞ্জ জেলার অন্যতম ইউনিয়ন। রাজধানী নিকটবর্তী হওয়ায় বিভিন্ন জেলা থেকে শতকরা ৮০ভাগ মানুষ এখানে এসে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছে। জীবনের একমাত্র উপার্জন দিয়ে কেউ দুই কাঠ কেউ তিন চার কাঠা জমি কিনে বাড়ি ঘর করছেন। অনেকেরই কোন অভিভাবক নেই। প্রশাসনের কর্তাব্যাক্তি হিসেবে এসব মানুষের অভিভাবক আপনারা। এসব মানুষ আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে। কোন সমস্যা হলে দৌড়ে গিয়ে আইনের আশ্রয় নিচ্ছে। নিরীহ প্রকৃতির এসব মানুষ কোন জঞ্জাল ঝামেলা পছন্ন করেনা। নিজে দুই বেলা খাবার রোজগার করে খায়। সহজ সরল এসব মানুষ চায় কুতুবপুরে শান্তিতে বসবাস করতে। রাতে নিরাপদে নিজ বাসায় ঘুমাতে। এই জন্য এমন একজন জনপ্রতিনিধি বেছে নিতে চায় যিনি কুতুবপুরে  সন্ত্রাস হতে দেবে না, মাদকের সয়লাব হতে দিবে না, চুরি ছিনতাই চাঁদাবাজি ডাকাতি হতে দিবে, মা বোনের সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দিবে না। ভোটের মাধম্যে তারা তাদের জনপ্রতিনিধি বেছে নিয়ে চায়। প্রশাসনে সর্বোচ্চ কর্মকর্তা হিসেবে মানুষের আবেদন আপনারা আগামী ২৩ এপ্রিল সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আয়োজন করে দিন।

 

সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে আমার প্রস্তাব:
প্রতিটি কেন্দ্রের ৫’শ গজের মধ্যে সাদা পোষাকে নিরাপত্তা বাহিনী থাকার ব্যবস্থা করা যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের তাৎক্ষনিক গ্রেফতার করতে পারে।

ভোট কেন্দ্রের ভেতর বহিরাগত প্রবেশ রুখতে কড়াকড়ি ব্যবস্থা করা ।

ভোটারদের লাইন যাতে দীর্ঘ না হয় সে জন্য বুথে দ্রুত ভোট নেয়ার ব্যবস্থা করা। ভোট দেয়ার পর ভোট কেন্দ্রে কিংবা আশ্বে পাশ্বে কেন্দ্রের কাছাকাছি যাতে মানুষ বড় ধরনের ভীড় না করতে পারে সে ব্যবস্থা করা। ভোট প্রদানকারীদের বুঝিয়ে বলা ভোট দানের পর নিজ নিজ বাসায় যাতে চলে যায়।

প্রত্যেক প্রার্থীর এজেন্টদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, কোন প্রার্থীর এজেন্ট  ভীত হয়ে কিংবা চাপের কারণে কেন্দ্র ছাড়তে চাইলে তাকে সবধরণের সহায়তা দিয়ে ভোট গণণা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রে থাকা নিশ্চিত করা।  

ভোট গণণা শুরু এবং ফলাফল ঘোষনা পর্যন্ত কেন্দ্র ও আশ্বে পাশ্বে সর্বোচ্চ সর্তকর্তা নিশ্চিত করা।

প্রত্যেক কেন্দ্রে মেম্বার প্রার্থী এবং চেয়ারম্যান প্রার্থীর প্রতিনিধির উপস্থিতে ভোট গণণা এবং ফলাফল ঘোষণা করা।

 

লেখক: ফতুল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সহ সভাপতি ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য কামাল উদ্দিন সুমন।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম ২৪