Tue, 11 Dec, 2018
 
logo
 

তালিকা নেই কর্তৃপক্ষের কাছে: প্রাইভেট ও কোচিং সেন্টার মোড়ে মোড়ে!

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: আনাচে-কানাচে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে প্রাইভেট ও কোচিং সেন্টার। প্রাইভেট পড়ানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও হাইস্কুল ও কলেজের শিক্ষকরা তাদের আয়ের অন্যতম উৎস হিসেবে বেছে নিয়েছেন এ কোচিং বাণিজ্যকে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নগরীর বিভিন্ন এলাকাসহ উপজেলার অলি-গলির মোড়ে মোড়ে গড়ে উঠেছে শত শত কোচিং এবং প্রাইভেট সেন্টার। বাসাবাড়ি, ফ্ল্যাট কিংবা রাস্তার পাশের একটি ছোট কক্ষ ভাড়া নিয়ে উপরে সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে চালু করা হয়েছে কোচিং সেন্টার। ছোট ছোট কক্ষে কয়েকটি বেঞ্চ বসিয়ে ২৫-৩০ জন ছাত্র-ছাত্রীকে একত্রে পাঠদান করা হচ্ছে।


প্লে-গ্রুপ থেকে জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি, ডিগ্রি, অনার্সসহ উচ্চতর শিক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কোচিংয়ের নামে চলছে রমরমা ব্যবসা। অনেক কোচিং সেন্টার ৮০% থেকে ১০০% নম্বর বা এ+ পাওয়ার গ্যারান্টি দিয়ে দেদারসে এ ব্যবসা চালাচ্ছে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কলেজ ছাত্র জানান, অনেকটা বাধ্য হয়েই তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট পড়তে হয়। কারণ স্যারদের কাছে প্রাইভেট পড়ার ফলে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়। যারা স্যারদের কাছে প্রাইভেট পড়ে না তারা এ বিশেষ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়।


একাধিক অভিভাবক জানান, সন্তানদের প্রাইভেট পড়ানোর ইচ্ছে না থাকলেও অনেকটা বাধ্য হয়েই প্রাইভেট বা কোচিং সেন্টারে পাঠাতে হয়। কারণ প্রাইভেট সেন্টারে পাঠালে সন্তানরা একটু বাড়তি যত্ন পায়। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণি কক্ষেই যদি শিক্ষকরা দায়িত্বসহকারে শিক্ষাদান করতেন তাহলে সন্তানদের প্রাইভেট বা কোচিং সেন্টারে পাঠানোর দরকার হতো না।


বেশ কিছু অভিভাবক অভিযোগ করেন, অনেক শিক্ষক সঠিক সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে না এসে নিজস্ব কোচিং সেন্টারে ক্লাস করিয়ে থাকেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক স্কুল কলেজের শিক্ষকদের প্রাইভেট পড়ানো নিষিদ্ধ করা হলেও এ জেলায় তার বাস্তবায়ন নেই।


এ বিষয়ে জানতে জেলা শিক্ষা অফিসারকে লাইভ নারায়ণগঞ্জের পক্ষ থেকে বেশ কয়েক বার ফোন দিলেও তিনি তা রিসিভ করেন নি।


অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ বলেন, আমরা নগরীর কোচিং সেন্টার গুলোর তালিকা খুব দ্রুত করবো। তার পরেই ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে এগুলো ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


তবে, জেলার শিক্ষা অফিসার কিংবা শিক্ষা প্রশাসন, কারো কাছেই নেই কোচিং এবং প্রাইভেট সেন্টারের মোট তালিকা।


অনুসন্ধ্যানে জানা গেছে, টিপু স্যার পরিচালনা করছেন একাউন্টিং পয়েন্ট কোচিং সেন্টার, হারুন স্যার ইংলিশ ল্যাব, তাজরিয়ান স্যার বাংলা ভূবন একাডেমি, সজিব স্যার সজিব’স একাউন্টিং, জুয়েল স্যার উইন্ডো, মেহেদী স্যার অথনেটিক, চিস্তী স্যার চিস্তী একাউন্টিং হোম, মামুন স্যার খান এর ইংরেজি একাডেমি, দিপু স্যার ইংরেজি, প্রতীম চক্রবর্তী আইসিটি ও একাউন্টিং হোম, নিলয় স্যার এনইও, ইমরান স্যার নেপচুন বিজ্ঞান ও বাণিজ্য,নুরুজ্জামান স্যার জামান লার্নিং পয়েন্ট, নাহিদুল স্যার ওভারহুল টিউটোরিয়াল, রুবেল স্যার অর্থনীতি, মামুন স্যার নেপচুন, হারুন অর রশিদ স্যার অরবিট টিচিং হোম, নাঈম স্যার নিরুরন একাডেমি কোচিং, রবিউল স্যার ইউনিক টিউটোরিয়াল হোম মোর্শেদ আলম স্যার ব্রাইট ফিউচার, আজাহার স্যার স্কলার্স কানাডা , মাহবুব আলম স্যার স্কলার কোচিং হোম, ইব্রাহীম স্যার প্রাইম টিচিং হোম, আল মামুন স্যার স্টার কোচিং সেন্টার, আশিক স্যার ব্রাইট ফিউচার টিউটোরিয়াল, আলাউদ্দিন স্যার (সাইফুল) আইডিয়াল টাচ্ কোচিং, সমীর স্যার রিডিকশন কোচিং, মাহফুজ স্যার ব্রাইট ফিউচার, রাজু স্যার (চিন্টু) ব্রাইট ফিউচার, টুটুর স্যার টুটুল’স একাউন্টিং, মাহমুদ স্যার ওরাকল, মোস্তাফিজুর স্যার ইম্প্রমেন্ট , বিপুল স্যার অর্থনীতি, করিম স্যার পাঠশালা, শাহীন স্যার লিয়েনস ইংলিশ কেয়ার, আসিফ স্যার অরবিট একাউন্টিং, তানজিদ স্যার অন্বেষা কোচিং একাডেমি, আবির স্যার আবির’স একাউন্টিং, মামুন স্যার ইঝঅ, রাসেল স্যার আইডিয়াল কোচিং, শরীফ স্যার নিউরন একাডেমিক কোচিং, বাহালুল স্যার নিউরন একাডেমিক কোচিং, নির্মল স্যার নিউ হোপ স্টাডি কেয়ার, মাসুদ স্যার নিউ হোপ স্টাডি কেয়ার, জমির স্যার মায়া কানন শিক্ষা পরিবার, রমজান স্যার লার্নিং পয়েন্ট, সজীব স্যার সায়েন্স স্কয়ার, সবুজ স্যার জ্ঞানের আলো কোচিং, মুকুল স্যার মোমিতা কোচিং একাডেমি, ওয়াহিদ স্যার নিটা নারায়ণগঞ্জ, খোকন স্যার জিনিয়াস কোচিং সেন্টার, সিদ্দিক স্যার ই.হক কোচিং সেন্টার, আরিফ স্যার গ্লোরিয়াস কোচিং, মনিরুল স্যার ইউনিটি কোচিং সেন্টার, আলী স্যার আলী এর ইংরেজি ও আইসিটি কোচিং, আরমান স্যার আরমানের হিসাব, আনন্দ স্যার আপডেট একাউন্টিং, খোরশেদ স্যার বর্ণমালা কোচিং, পলাশ স্যার ই.হক কোচিং জালকুড়ি।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম