Sat, 17 Nov, 2018
 
logo
 

অবশেষে বাস্তবায়ন হলো না.গঞ্জ মহিলা কলেজের মিশন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: জীবিকা নির্বাহের তাগিদে সেলাই মেশিনকে বেছে নিয়েছেন নবীগঞ্জের স্বামী হারা হেলেনা বেগম। কষ্টের মাঝে স্বপ্ন দেখেন ‘মেয়েকে প্রতিষ্ঠিত করা’র। তাই লেখাপড়ার খরচ জোগাতে রাত-দিন একই মনে হয় এই নারীর।

শনিবার (৩০ জুন) দুপুরে মেয়েকে ভর্তি করতে এসে নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে এ কথা গুলো জানান তিনি। হেলেনা বেগমের ভাষ্য মতে, ‘আমার পক্ষে ভর্তির টাকাই অধিক মনে হয়, তার উপর ড্রেস ও জুতার জন্য একত্রে সাড়ে ৪ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। হাতে টাকা ছিল না বলে জোগাড় করে শেষ দিনে এসেছি।’

অবশেষে বাস্তবায়ন হলো না.গঞ্জ মহিলা কলেজের মিশন

বন্দর আমিন পাড়া থেকে আসা অভিভাবক সিদ্দিকুর রহমান স্বপন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কি করার আছে? সন্তানকে পাড়ালেখা করাতে হলে, তাদের (কলেজ কর্তৃপক্ষ) দেওয়া নিয়ম অনিচ্ছুক হলেও মানতে হবে। তাছাড়া তো কোন উপায় দেখছি না।

জানা গেছে, এ বছর নারায়ণগঞ্জ মহিলা কলেজে ২ হাজার ৮‘শ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকেই ভর্তি ফি ছাড়াও শিওরক্যাশের চার্জ বাবদ ৩০ টাকা ও নির্ধারিত ড্রেস এবং বাটার নীল কেড্স বাবদ আরো ১ হাজার ৭ ‘শ ৫০ অতিরিক্ত টাকা অনেকটা প্রকাশ্যেই নিয়েছে। দিয়েছেন অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার রশিদও। এসময় ড্রেসের নির্ধারিত টাকা না দিলে ভর্তি নেয়নি কলেজ কর্তৃপক্ষ।

অবশেষে বাস্তবায়ন হলো না.গঞ্জ মহিলা কলেজের মিশন

গত ২৭ জুন নারায়ণগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম লাইভ নারায়ণগঞ্জকে জানান, কোন প্রতিষ্ঠান যদি চায় তাহলে ড্রেস এবং কেড্স‘র রঙ নির্দিষ্ট করতে পারে। তাই বলে ওই প্রতিষ্ঠান থেকেই ড্রেস নিতে হবে এমনটা করা উচিৎ নয়। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে এমন কোন প্রজ্ঞাপন কিংবা নীতিমালাও নেই।

অভিভাবকদের অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জ মহিলা কলেজ কর্তৃপক্ষ জরুরী বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ড্রেস ও কেড্সের টাকার নিয়েছে। এছাড়া টাকা নিয়ে রশিদও দিয়েছে। এবিষয় গুলো নিয়ে জেলা প্রশাসন জানলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি। নিরবতাই প্রমাণ করে কলেজ কর্তৃপক্ষের এ ধরণের সিধান্তকে সমর্থন করছে জেলা প্রশাসন।

তবে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রেজাউল বারী বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। তারা আমাকে জানিয়েছেন, ‘বাহির থেকে ড্রেস বানালে এক এক জনের ড্রেস এক এক রকম হয়। তাছাড়া বাহির থেকে বানালেও একই টাকা লাগবে। অতিরিক্ত টাকা নিলে আমরা (কর্তৃপক্ষ) ধরতে পারতাম।’

প্রসঙ্গত, এবছর ৩০ জুন ভর্তির শেষ দিন পর্যন্ত নির্ধারিত ড্রেস এবং বাটার নীল কেড্স বাবদ ১ হাজার ৭ ‘শ ৫০ টাকা করে ২ হাজার ৮‘শ শিক্ষার্থীর থেকে প্রায় ৪৯ লাখ টাকা অতিরিক্ত নিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম