Mon, 10 Dec, 2018
 
logo
 

বিধি মোতাবেক প্রতিবাদের আহবান সেলিম ওসমানের

শহরের খানপুরে শতবছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ বার একাডেমী উচ্চ বিদ্যালয়ে সংগঠিত দুনীর্তি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় প্রতিবাদকারী ও স্থানীয়দের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান।

বার একাডেমী উচ্চ বিদ্যালয়ের মত শহরের অন্যান্য স্কুল গুলোর মধ্যে যে গুলোতে অনিয়ম ও দুর্নীতি রয়েছে সেখানেও এমন প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছেন তিনি। তবে ওই প্রতিবাদ যেন অবশ্যই বিধি ও আইনগহত ভাবে বৈধ থাকে। কারণ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ তাই কোন অবস্থায় যেন প্রতিবাদ করতে গিয়ে বিধি বা আইন ভঙ্গ না হয় সেই ব্যাপারে সর্তক থাকতে সকলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে এক প্রেস বিবৃতিতে সেলিম ওসমান বলেন, স্থানীয় বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে খানপুরের বার একাডেমী স্কুলের ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারি। আমি নিজে বার একাডেমী স্কুলের ছাত্র ছিলাম। এছাড়াও সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ন পদে কর্মরত রয়েছেন ঐতিহ্যবাহী এই স্কুলের সাবেক অনেক শিক্ষার্থী। এটা সত্য স্কুলটিতে দীর্ঘদিন যাবত অনিয়ম ও দুনীর্তি প্রবেশ করেছিল যার মধ্যে কিছু কতিপয় কিছু ব্যক্তি জড়িত ছিল। সোমবার এলাকার কিছু সচেতন মানুষ ওই সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে প্রতিরোধ গড়ে তুলে। তবে বিষয়টি বিধি সম্মত হয়নি। যারা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন তারা আমাকে ওই এলাকার সংসদ সদস্য মনে না করা ছাড়াও ওই স্কুলের একজন সাবেক ছাত্র হিসেবে আমার সাথে আলোচনা করতে পারতেন। আমার সাথে আলোচনা করলে হয়তো আরো সুষ্ঠু বিধি মোতাবেক বিষয়টি সমাধান করা সম্ভব হতো। তারপরেও আমি তাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি কারণ তারা হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই প্রতিবাদ করেছেন।
খানপুরে বার একাডেমী ও আমলাপাড়া এলাকায় নারায়ণগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় দুটি সম্পর্কে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ স্থানীয় পত্রিকায় বহুবার প্রকাশিত হয়েছে। দুটি স্কুলে অধ্যয়নরত হাজার হাজার শিক্ষার্থীর উজ্জল ভবিষ্যতের জন্য স্কুল দুটির সার্বিক মানোন্নয়নে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অনয়িমের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিচালনা কমিটি গঠনে বিধি মোতাবেক নির্বাচন সম্পন্ন করে নতুন কমিটির কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জেলা প্রশাসক, শিক্ষা কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি বিশেষ ভাবে অনুরোধ করছি। প্রয়োজনে স্কুল পরিচালনা কমিটিতে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের অর্ন্তভুক্ত করে কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে আমার পক্ষ থেকে যতটুকু সহযোগীতা করার প্রয়োজন তার সবটুকুই আমি করবো। এছাড়াও স্কুল দুটির উন্নয়নে সর্বাত্মক সহযোগীতা করার জন্য ওই সকল এলাকাবাসী সকলের প্রতি বিনীতি অনুরোধ রাখছি।
পাশাপাশি শহরবাসীর প্রতি আহবান থাকবে যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উজ্জল ভবিষ্যত গড়ার পথে অন্তরায় তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবেন, দুনীর্তিবাজদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। তবে অনুরোধ থাকবে সেই প্রতিরোধ যাতে কোন অবস্থায় আইন লংঘন না করে।
উল্লেখ্য ঐতিহ্যবাহী নারায়ণগঞ্জ বার একাডেমী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামানের অপসারণের দাবিতে সোমবার দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে অভিভাবকেরা। সোমবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে জেলা শিক্ষা অফিসারের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত টিম স্কুলটি পরিদর্শনে গেলে তাদের সামনেই বিক্ষোভ করে তারা। পরে তদন্ত কমিটির কাছে প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম দুর্নীতি ও সেচ্ছাচারিতার নানা দিক তুলে ধরে তার অপসারণের দাবিতে তদন্ত কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন বিক্ষুব্দরা। অনিয়মের মাধ্যমে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের বিষয়টিও তুলে ধরেন তারা। এছাড়া নির্বাচনের মাধ্যমে ম্যানেজিং কমিটি গঠনেরও দাবি জানানো হয়। পরে দুপুরে প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান মনিরকে স্কুল থেকে টেনে হিচড়ে বের করেন দেন বিক্ষুদ্ধরা।
জানা গেছে, ১৯০৬ সালে স্থাপিত ঐতিহ্যবাহী বার স্কুলটি স্থানীয়ভাবে বেশ সমাদৃত ছিল। নারায়ণগঞ্জের অনেক এমপি ও বর্তমানে সরকারের শীর্ষ স্থানীয় পদে কর্মরতদের অনেকেই এ স্কুলের ছাত্র। ৯০ দশক এ স্কুলে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করা এনায়েত হোসেনের মৃত্যুর পর থেকেই তিন দশক ধরেই স্কুলের ব্যবস্থাপনা পরিষদ মূলত স্কুলটি নিয়ন্ত্রন করে আসছিল। ওই সময়ে স্কুলটির নিয়ন্ত্রক ছিলেন খানপুর এলাকার মিজানুর রহমান বাচ্চু, সামসুজ্জামান খান ভাষানী সহ অনেকে। নির্বাচন ছাড়াই সিলেকশন কমিটির মাধ্যমে এসব কমিটি হওয়ায় স্কুলের ছিল না কোন তদারকী। ফলে ইচ্ছেমত শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষকদের মধ্যে বিভক্তি যেমন ছিল তেমনি পরিস্থিতি ছিল ‘ওলট পালট করে দে মা লুটে পুটে খাই’। তবে ২০০৪ সালের শেষের দিকে স্কুলের ওই ম্যানেজিং কমিটিতে আমূল পরিবর্তন আসতে থাকে। যুক্ত হন খানপুর এলাকার ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান সরদার, মাহাবুব সহ আরো কয়েকজন। তারা বেশ কয়েকবছর স্কুল পরিচালনার পর কয়েক বছর আগে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব হিসেবে থাকা শামীম চৌধুরীকে স্কুলের ব্যবস্থাপনা পরিষদের সভাপতি করা হয়।

শামীম চৌধুরী শুরুতে স্কুলের উন্নয়নে কাজ করতে গেলেও প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয় স্থানীয়দের অনেকের। আর এসব নিয়ে দেখা দেয় উত্তেজনা। এক পর্যায়ে শামীম চৌধুরী ঠিকমত খোঁজ খবর না নেওয়ায় সুযোগ পেয়ে প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান সরকার নানা ধরনের দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে। এতে করে স্কুলের ভাবমূর্তি ক্রমশ নষ্ট হতে থাকে। এর মধ্যে স্কুলের ব্যবস্থানা পরিষদের নির্বাচন দাবী করতে থাকে স্থানীয় লোকজন ও অভিভাবকেরা। গত ২০ আগস্ট মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস তফসিল ঘোষণা করলেও মনিরুজ্জামান পুরো বিষয়টি গোপন রাখে। তিনি আবারও শামীম চৌধুরীকে প্রধান রেখে একটি কমিটি জমা করে সেটাকে অনুমোদন আনার চেষ্টা করেন। এর মধ্যে গত ২১ আগষ্ট প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান মনিরের বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরে তাকে বরখাস্তের দাবিতে জেলা প্রশাসকের বরাবরে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের কয়েকজন ক্ষোভে ফুঁসে উঠতে থাকে। তারা এ ব্যাপারে কয়েকদিন ধরেই আন্দোলন করার প্রস্তুতি নেয়। এর অংশ হিসেবে সোমবার সকালে সেখানকার কয়েকজন মিলে স্কুলের গেটের বাইরে ও পরে প্রধান শিক্ষকের রুমে প্রবেশ করে বিক্ষোভ দেখায়।

 

পূর্বের নিউজ পড়তে ক্লিক করুন:

শিক্ষা বাণিজ্যের অভিযোগে বার একাডেমিতে অভিভাবকদের বিক্ষোভ

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম