Sat, 18 Nov, 2017
 
logo
 

পাঠ্যপুস্তকে বানান ভুল : হুমকির মুখে না.গঞ্জের শিক্ষা ব্যবস্থা, উদ্বিগ্ন অভিভাবক মহল

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ : বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে ভুলে ভরা বই তুলে দেয়াকে কেন্দ্র করে পুরো দেশজুড়েই চলছে নানা সমালোচনা। সেই সমালোচনার রেশ পড়েছে নারায়ণগঞ্জ শহর ও শহরতলীতে।

জেলার অভিভাবক মহল তাদের সন্তানদের চলমনা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন। ভুল সংশোধনে দ্রুত প্রতিকার চেয়েছেন অভিভাবক মহল সহ বিশিষ্টজনরা।  

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অধীনে জেলার ৫টি উপজেলায় ৪২৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১৩২টি রেজিস্টার্ড, কমিউনিটি, আনরেজিস্টার্ড, অনুমতিপ্রাপ্ত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। বিদ্যালয়গুলোতে ৪ লাখ ২০ হাজার ৩৮৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ১৭ লাখ নতুন বই বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি মাধ্যমিক স্তরের বইতে রয়েছে ব্যাপক ভুল।

এদিকে বিতরন করা বইয়ের মধ্যে বানান ভুলের ছাড়াছড়ি, কবিতার বিকৃতি ও লিঙ্গবৈষম্য প্রকাশক আলামত রয়েছে। এ নিয়ে চলছে তুমুল বিতর্ক। নারায়ণগঞ্জসহ দেশ জুড়ে চলছে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়। শুধু যে বানান ভুল তাই নয়, প্যারাগ্যারাপগুলো ঠিক মত সন্নিবেশিত হয়নি, বিভিন্ন ধরনের ত্রুটিপূর্ণ ব্যতিক্রম, প্রবন্ধ ভ্রান্তি সহ নানা ধরনের ভুল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের দিশেহারা করে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বিপুল পরিমাণ বই ফেরত নিয়ে সংশোধিত বই ফের শিক্ষার্থীদের হাতে সরবরাহ করা যথেষ্ট সময় ও ব্যয়সাপেক্ষ ব্যাপার।

অন্যদিকে, জেলার কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের অভিবাবকরা তাদের সন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন রয়েছেন।

জানা গেছে, সরকার বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিতে কোটি কোটি টাকা খরচ করেছে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তাদের আনন্দ অনেকটা ম্লান করে দিয়েছে ভুল বানানের অসংখ্য পাতা ভরা পাঠ্যবিষয়গুলো। ইংরেজি বানানের ভুল থাকায় শব্দের অর্থ যেমন পাল্টে যাচ্ছে এবং বাংলা বানান রীতি আধুনিক হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না সঠিক বানান কি হবে। শিক্ষক ও অভিভাবকরাও এসব ভুলে ভরা পাঠ্য বই যতটা সম্ভব সংশোধন করে দিতে গলদঘর্ম হয়ে উঠছেন। এমন অনেক শিক্ষার্থী আছে যাদের এধরনের সংশোধন করে দেওয়ার মত কেউ নেই, সেসব শিক্ষার্থী পড়েছে বিপাকে। কচিমনে এসব শিক্ষার্থী ভুল বানান ও অর্থ শিখছে তাদের পাঠ্যবই থেকে।

এ বিষয়ে চতুর্থ শ্রেনীতে অধ্যয়ণরত এক শিক্ষার্থীর অভিবাবক আব্দুল করিম বলেন, কোমলমতি শিশুদের শিক্ষাগ্রহনের শুরুতেই পাঠ্য বইতে ভুল থাকা শিশুর ভবিষ্যত শিক্ষা জীবনের জন্য প্রতিবন্ধকতা। তাই যতœ সহকারে ও দক্ষহাতে পাঠ্যবইগুলো প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করা একান্ত জরুরী। তাহলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন নিয়ে কোনো সংশয় তৈরী হতোনা।

তিনি মনে করেন, দেশের শিক্ষা মেরুদন্ড ভঙ্গুর করতে এটি একটি মহলে সুক্ষ চক্রান্ত। এ বিষয়ে সরকারের সুদৃষ্টি দেয়া শতভাগ প্রয়োজন।

নাগরিক কমিটির জেলা সাধারন সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, ভুলে ভরা পাঠ্য বই কোনো ছাত্রের জীবন মানকে উন্নত করতে পারেনা। এ কারনে শিক্ষার্থীদের পড়াশুনায় ব্যঘাত ঘটবে।

তবে তিনি মনে করেন, শিক্ষা মন্ত্রী নুরুল ইসলামের উদাসিনতার কারনে এ রকম ঘটনার পূনারবৃত্তি ঘটছে। এছাড়া ভুল বইগুলো তুলে নিয়ে সংশোধন করে নতুন বই দ্রুত শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়ারও দাবি জানান তিনি।

এবিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) সরোয়ার বলেন, ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি এনসিটিবিকে এগুলো দ্রুত সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছেন।

এই মুহুর্তে জেলার শিক্ষার্থীদের কিভাবে পাঠদান করা হবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত তিনি কোন নির্দেশনা পাননি। নির্দেশনা পেলে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, এনসিটিবি’তে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও পরগাছারা কোনঠাসা করে রেখেছে। অন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের মত বোর্ডেও দক্ষ ব্যক্তিরা কাজ করতে পারছেন না। প্রভাবশালীরা তাদের উদ্দেশ্য সাধন করতে সমর্থ হয়েছে এবং তারই ছাপ আমরা দেখতে পাচ্ছি পাঠ্য বইতে।

এদিকে পাঠ্যবইয়ে ভুল ও মুদ্রণত্রুটির ব্যাপারে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, সারাদেশে সময়মতো পাঠ্যবই মুদ্রণ করে সরবরাহ করা অনেক বড় সাফল্য। এর মধ্যে কিছু ভুল ত্রুটি হতেই পারে। শিক্ষকরা এগুলো সংশোধন করে ব্যবস্থা নেবেন। তবে পাঠ্যবইয়ে বড় ধরনের ত্রুটি কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এসময় তিনি গণমাধ্যমে আলোচিত তিনটি ভুলের কথা স্বীকার করে আরো বলেন, দুটি বড় ভুল চিহ্নিত করে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) দুই কর্মকর্তাকে ওসডি করা হয়েছে। এনসিটিবিও ভুলত্রুটি খুঁজে বের করতে কমিটি গঠন করেছে।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম