Thu, 22 Jun, 2017
 
logo
 

আপত্তিকর ভিডিও প্রদর্শন : প্রতিবাদ করলে ধমকানো হতো ছাত্রীদের, অধ্যক্ষের দাবী ‘ভিত্তিহীন’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জ মহিলা কলেজে আপত্তিকর ভিডিও প্রদর্শন নিয়ে জেলাজুড়েই চলছে নানা সমালোচনা। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবক মহল।


এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে বলে অনেক শিক্ষার্থীর দাবী। এসব নিয়ে প্রতিবাদ করলে নানা ভাবে হুমকি প্রদর্শন করা হতো বলে অভিযোগ উঠেছে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে। তবে, কলে অধ্যক্ষ এমন অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবী করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মহিলা কলেজের এক শিক্ষার্থী জানায়, “আমরা প্রতিবাদ করলেও লাভ হয় না। দেখা যায় বলতে গেলেও আমাদের ব্যবহারিক নাম্বার কেটে দেয়। তখন বলার কিছু থাকে না। তাছাড়া বকাঝকা তো আছেই”।

নারায়ণগঞ্জ মহিলা কলেজের অনেক শিক্ষার্থী জানায়, “আমরা প্রতিবাদ করলে আমাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন শিক্ষকরা। পাশাপাশি বলেন, ‘তোমাদের ব্যবহারিক নাম্বার দিব না”।

শিক্ষার্থীরা আরও জানায়, “এইটা নতুন কিছু না, এরকম প্রায় সময় ঘটে। আমরা আগের অধ্যক্ষকে বলেছিলাম। তিনি আমাদের কাছ থেকে উল্টো মোবাইল কেড়ে নিতেন এবং অভিভাবক ডেকে অপমান করতেন”।

শিক্ষার্থীদের নাম্বার কেটে দেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবী করে নারায়ণগঞ্জ মহিলা কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুল ওয়াহাব চৌধুরী বলেন, “আমাদের কলেজে কোন ব্যবহারিক পরিক্ষা হয় না, অন্য কলেজে হয়”।

অধ্যক্ষ রাগান্বিত ভঙ্গিতে আরো বলেন, “যে মেয়েরা আপনার কাছে বলছে তাদেরকে আমার সামনে নিয়ে আসেন’। একই সেই সাথে তিনি দাবী করেন, ‘কোন ছাত্রী বলতে পারবে না আমি তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করি”।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী দাবী করেন, “আমি ২০১৬ সালে এইচএসসি আইসিটি ব্যবহারিক পরীক্ষা দিয়েছি আমার কলেজেই। এখানে ব্যবহারিক পরীক্ষা ২৫ নম্বারের আর ৭৫ নম্বারের পরীক্ষা হয় অন্য কলেজে। এই ছাত্রী আরো জানায়, এ ঘটনা নতুন নয়, এমন অনেক বার হয়েছিল আমাদের ক্লাসে”।

অপর এক শিক্ষার্থী জানায়, “উপাধ্যক্ষ শাহিন সুলতানা ম্যাডামকে বললে তিনি আরও উল্টা পাল্টা কথা বলেন। ওনার ব্যবহার খুবই খারাপ ওনার সাথে কথা বলা-ই যায় না”।

এক অভিভাবক জানান, “মেয়েকে মহিলা কলেজে ভর্তি করিয়েছি কোন ছেলে নাই। ছেলেদের সাথে ঘুরে বেড়াবে না। বাজে কোন কাজ করবে না। এখন তো দেখা যাচ্ছে ঘরের মধ্যে সাপ। কলেজের ভেতরে অশ্লীল ভিডিও দেখায় আর শিক্ষকরা বলেন যদি এটা অশ্লীল না, তবে তিনি অশ্লীল বলতে কি বুঝাচ্ছেন? তাহলে কি তিনি এর ‘চে গভীরে কিছু ভাবছেন”?

“কলেজের ভেতর যদি এমন অশ্লীল ভিডিও প্রদর্শন করে, তবে আর কি না হয়। শিক্ষকরাই তো ছাত্রীদের খারাপ করছে। এতে করে ছাত্রীরা কি শিখবে আর স্যারাই কি শিক্ষা দিবে”? এমন প্রশ্নও তোলেন অনেক অভিভাবক।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (৫ই জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় ব্যবসা শিক্ষা বিভাগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ক প্র্যাকটিক্যাল ক্লাশ শুরুর আগে ক্লাসরুমে বড় পর্দায় প্রজেক্টর চালু করে আইসিটি বিভাগের ডিপার্টমেন্ট সহকারী হাবিবুর রহমান রাজু। তিনি ক্লাসরুম ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভেসে উঠে হিন্দি একটি ছবি যেখানে অশ্লীলতা ও আপত্তিকর দৃশ্য ভরপুর।

ওই ভিডিওটিও ১৮ বছরের বেশিদের জন্য প্রযোজ্য, সেটাও শর্ত সাপেক্ষ। প্রদর্শিত ছবিতে এক নারী কোনো এক মুহূর্তে প্রকাশ্যে ধূমপান করছেন। আরেক চিত্রে দেখা যায় খুবই ঘনিষ্ঠ অবস্থায় নরনারীর অবস্থান। ৩টা থেকে ৩টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ছবিটি প্রদর্শন হয়। এ ঘটনা প্রকাশ হলেও নারায়ণগঞ্জ সহ পুরো দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠে।

এ ঘটনায় সমাজকর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ওয়াজেদ কামালকে আহ্বায়ক করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। এ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শারওয়াত বিলকিছ জাহা, সমাজকর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।

আগামী ১২ জানুয়ারি মধ্যে এ কমিটিকে তদন্ত শেষে করে কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুল ওয়াহাব চৌধুরীর কাছে প্রতিবেদন আকারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম ২৪