Mon, 16 Jul, 2018
 
logo
 

টার্গেট ৩‘শ শয্যার রোগী: অর্ধ কিলোমিটারে ২৫ স্বাস্থ্য সেবার প্রতিষ্ঠান

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: খানপুর ৩‘শ শয্যা সরকারি হাসপাতালের ৩০ গজ সামনেই একটি ৫ তলা ভবনের রয়েছে ২ টি বেসরকারি হাসপাতাল। ভবনের নিচ তলায় ইউনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও দ্বিতীয় তলায় সেন্ট্রাল জেনারেল হসপিটাল। শুধু তা-ই নয়, পাশের ভবনেই রয়েছে ন্যাশনাল হোমিও মেডিকেল ও ফ্যামিলি ডেন্টাল কেয়ারও রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব বেরসকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে চিকিৎসা ব্যয়বহুল হলেও সেবা নিম্নমানের। তাছাড়া তাদের অধিকাংশেরই পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নেই উন্নতমানের যন্ত্রপাতি।

টার্গেট ৩‘শ শয্যার রোগী: অর্ধ কিলোমিটারে ২৫ স্বাস্থ্য সেবার প্রতিষ্ঠান
১৯৮২ সালের দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্সে উল্লেখ আছে, সরকারি হাসপাতালের ৩০০ গজের মধ্যে কোনো বেসরকারি হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিক থাকতে পারবে না। ১০ শয্যার প্রতিটি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে রোগীপ্রতি ফ্লোরস্পেস থাকতে হবে ন্যূনতম ৮০ বর্গফুট। জরুরি বিভাগ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঝুঁকিমুক্ত অপারেশন থিয়েটার, চিকিৎসার জন্য যন্ত্রপাতি, ওষুধ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরি থাকতে হবে। শর্তানুযায়ী তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ডিপ্লোমাধারী দুজন সেবিকা, তিনজন সুইপার ও ৮০০ বর্গফুট জায়গা থাকা বাধ্যতামূলক।

টার্গেট ৩‘শ শয্যার রোগী: অর্ধ কিলোমিটারে ২৫ স্বাস্থ্য সেবার প্রতিষ্ঠান
অথচ সরেজমিনে দেখা গেছে, খানপুর ৩‘শ শয্যার হাসপাতালের পাশে মেডিপ্লাস, আমিনা জেনারেল হাসপাতাল, হলি ডায়াগনষ্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টার, আশ্শিফা ডায়াগস্টিক এন্ড জেনারেল হসপিটাল, মাতৃ সেবা জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, জাহান ক্লিনিক, নিউ সেবা মেডিকেল সার্ভিসেস, স¤্রাট জেনারেল হাসপাতাল, আল্ট্রামেড স্টোর, নোভা ডায়াগনষ্টিক কমপ্লেক্স, মর্ডান মেডিকেল সার্ভিস, মেডিনূর ক্লিনিক, গ্যাস্ট্রোলিভ ডায়াগনষ্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টারসহ ১৫টি বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সব ভবনই পাশাপাশি। এসব বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের বড় একটি অংশ কর্তৃপক্ষে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই গড়ে উঠেছে।

টার্গেট ৩‘শ শয্যার রোগী: অর্ধ কিলোমিটারে ২৫ স্বাস্থ্য সেবার প্রতিষ্ঠান
এছাড়া নবাব সলিমুল্লাহ রোডের চাষাড়া থেকে মেট্টো হল পর্যন্ত মাত্র অর্ধকিলোমিটার সড়কের মেডিস্টার জেনারেল হসপিটাল, নারায়ণগঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতি সিটি সেন্টার, মেডিহোপ হাসপাতাল, নারায়ণগঞ্জ চক্ষু হাসপাতাল, পপুলার মেডিকেল সার্ভিসেস, আল-মাদিনা জেনারেল হাসপাতাল ও ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার, সেন্টাল ডায়াবেটিক সেন্টার, প্রাইম জেনারেল হাসপিটাল ও সিটি ডায়াগনষ্টিক সেন্টার নামের মোট ১০টির স্বাস্থ্য সেবার প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

টার্গেট ৩‘শ শয্যার রোগী: অর্ধ কিলোমিটারে ২৫ স্বাস্থ্য সেবার প্রতিষ্ঠান
জানা গেছে, খানপুর ৩‘শ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আসা রোগীদের টার্গেট করেই মূলত হাসপাতালের যথাসম্ভব কাছাকাছি সারিবদ্ধভাবে গড়ে উঠেছে বেসরকারি এসব হাসপাতাল ও ক্লিনিক। সরকারি হাসপাতালে এসে দালালের খপ্পরে পড়ে এসব নিম্নমানের প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছেন শহর ও শহরতলীর মানুষ। প্রায়ই চিকিৎসার নামে প্রতারিত হওয়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালের ব্যবহার অনুপযোগী অপারেশন থিয়েটার। ১৫০-২০০ বর্গফুটের একেকটি কক্ষকে ওয়ার্ডে রূপান্তর করা হয়েছে। রোগী ও স্বজনরা গাদাগাদি করে থাকছেন। সরঞ্জাম ছড়ানো-ছিটানো। কোনো চিকিৎসকেরও দেখা মেলেনি। অথচ একাধিক চিকিৎসকের নাম দিয়ে সাইনবোর্ড ঝোলানো রয়েছে হাসপাতাল গুলোতে। একজন কর্মচারী জানান, প্রয়োজনের সময় অনকলে চিকিৎসককে ডেকে আনা হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এসব হাসপাতাল গড়ে তোলার পেছনে রয়েছেন বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বেশ কয়েকটি হসপিটাল ও ক্লিনিকের মালিক হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক ও কর্মকর্তা।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম