Sat, 23 Jun, 2018
 
logo
 

নবজাতকের চাঁদমুখ দেখতে না.গঞ্জবাসীর বছরে ব্যয় ১০ কোটি টাকা!

গোলাম রাব্বি, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ‘ছেলে মেয়ে হইলেই বুঝা যায় কতটাকা লাগে। এইবারের অপরেশনেই ২০ হাজার টাকার উপরে খরচ হইছে। আগে জানলে...!’

সোমবার (২৮ মে) সকালে একটি ক্লিনিকের বাহিরে দাড়িয়ে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন ৩২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। পাশেই দাড়িয়ে ছিলেন মধ্য বয়সী আরো একজন।
তাদের সাথে আলাপ করে জানা গেল, সোনারগা উপজেলার গৃহবধু আখি আক্তার কয়েক দিন আগে সিজারের মাধ্যমে তৃতীয় সন্তানের মা হয়েছেন।
তার স্বামী বিল্লাল হোসেন এ প্রতিবেদকের কাছে বলেন, ‘চাই ছিলো তো অনেকই, পরিচিত লোক দেইখা, কমাইয়া রাখছে। তারপরেও কম না, ওষুধ পানি ছাড়া খালি সিজারই ১২ হাজার।’
চাষাঢ়ার প্রাইম জেনারেল হাসপাতালের এক সেবিকা রোকেয়া জানান, নরমাল ভাবে সিজার করলেও ওষুধ ছাড়াই ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকায় চুক্তি নেওয়া হয়। উন্নত মানের সিজারের ক্ষেত্রে আরো বেশি নেয়া হয়।
নারায়ণগঞ্জের একটি সরকারি হাসপাতালের গাইনি বিভাগের চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শুধু যে অতিরিক্ত টাকাই ব্যয় হচ্ছে এমনটা নয়, পাশাপাশি মা ও শিশু উভয়েই থাকছে স্বাস্থ ঝুঁকিতে।
তার দাবি, সিজারিয়ান অপারেশনে মাকে অস্ত্রোপচারের জন্য যেসব অ্যানেসথেটিক ওষুধ প্রয়োগ করা হয়, তা নবজাতক শিশুর উপর প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া সারা জীবন মানতে হয় বিভিন্ন বিধিনিষেধ। পাশাপাশি স্লিসেকশনে জন্ম নেওয়া শিশু অণুজীবাণু পায় হাসপাতালের পরিবেশ থেকে ও সিজারিয়ান শিশুতে ব্লাড ইনফেকশন হার বেশি। শিশুর জন্ডিস দেখা দেওয়ার পাল্লাটা খানিক হেলানো থাকে।

অনুসন্ধনে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে নারায়ণগঞ্জের ৫ টি উপজেলায় মোট জন্ম হয়েছে ১৭ হাজার ৭‘শ ৩৫ টি নবজাতকের । ওই বছর শুধু ক্লিনিকে জন্ম হয়েছে ১৩ হাজার ৮‘শ ৭ জন। সিজারের সংখ্যায় ৯ হাজার ৮‘শ ৫৮টি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, ১৫ শতাংশ শিশু সিজার প্রক্রিয়ায় জন্ম নেওয়া স্বাভাবিক। সেখানে নারায়ণগঞ্জের ক্লিনিকে জন্ম নেওয়া শিশুর ৭১ শতাংশই সিজারিয়ান।
এদিকে, বিল্লাল হোসেন ও সেবিকা রোকেয়ার দেওয়া তথ্য বৃত্তিতে হিসেব করলে, ক্লিনিকে প্রতিটি সিজারে ১২ হাজার করে টাকা নিলেও, শুধু ২০১৭ সালে হাতিয়ে নিয়েছে ১০ কোটি টাকারও বেশি।
বিষয়টি স্বীকার করে বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক এন্ড ডায়গনষ্টিক সেন্টার ওনাস এসোসিয়েশন নারায়ণগঞ্জের সভাপতি ডা. শাহনেওয়াজ চৌধুরী বলেন, ‘আগে যাদের সিজার হয়েছে, তাদের ২য়-৩য় সন্তানের জন্য বাধ্যতামূলক ভাবেই, সিজার করতে হয়। আবার রোগীর ব্যথার কথা চিন্তা করে অনেক সময়, রোগীর স্বজনরাও সিজারের জন্য বলেন। তখন কিছু অর্থলোভি চিকিৎসক তাদের (স্বজনদের) না বুঝিয়ে সিজার করান। তাই সিজারের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। ’

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম