Tue, 23 Oct, 2018
 
logo
 

প্রয়োজন ৪৭১, আছে ২৫৫

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: পর্যাপ্ত সংখ্যক নার্সের অভাবে স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জবাসী। বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় নার্সের সংখ্যা খুবই অপ্রতুল। চাহিদার মাত্র ৫৪ শতাংশ দিয়ে চলছে এ জেলার রোগীদের সেবার কার্যক্রম।

নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্র বলছে, জেলায় ২টি সরকারি, ৯০টি বেসরকারি হাসপাতাল, ৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ৫৬ প্যাথলজিসহ সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে ১‘শ ৫২টি। যার তুলনায় নারায়ণগঞ্জ জেলায় হাসপাতালে দক্ষ নার্সের সংখ্যা খুব নগণ্য।

সরকারি খানপুর ৩শ শয্যা হাসপাতালে নার্স থাকার প্রয়োজন ৩শ জন, ১শ শয্যা হলে ১শ জন, আর বেসরকারি হাসপাতালে ৬জন রোগির জন্য ১জন নার্স প্রয়োজন। কিন্তু সেখানে ৩শ শয্যা হাসপাতালের নার্স রয়েছে ১শ ৩৩জন। জেনারেল হাসপাতাল ৮৬ জন, সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১১জন, রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৮জন , বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আছে ২০ জন ও আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাত্র ১০জন নার্স রয়েছে।

তথ্য অনুসন্ধ্যানে জানা গেছে, খানপুর ৩শ শয্যা হাসপাতালের নার্সের শূন্য পদ ১৫০ টি, নারায়ণগঞ্জ ১শ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল, সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শূন্য পদ খালি রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নারায়ণগঞ্জ জেলায় স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার মানসম্পন্ন করার কাজ এখনো বহু দূরে রয়েছে। দক্ষ নার্স তৈরিতে মিডওয়াইফারি শিক্ষার জন্য সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিপ্লোমা, বিএসসি এবং মাস্টার্স কোর্স চালু করা হলেও, এখনো নানা সংকটে জর্জরিত এ বিশেষায়িত শিক্ষা ব্যবস্থা।

সিভিল সার্জন ও খানপুর ৩শ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তথ্যমতে, পাবলিক সার্ভিস কমিশন ২০১৬ সালে ৬৪ জন নার্স নিয়োগ দেওয়ার পরেও চাহিদার ৪৭ ভাগ নার্স দিয়ে চলছে জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। নারায়ণগঞ্জ জেলায় যেখানে ৪৭১ জন নার্স প্রয়োজন, সেখানে নার্স আছে মাত্র ২৫৫ জন।

যার ফলে নারায়ণগঞ্জে চিকিৎসার সেবাটা অনেক দূরে রয়েছে। ভালো চিকিৎসার সেবা পাওয়ার জন্য আমাদের যেতে হয় ঢাকা না হয় বাহিরের দেশে। নারায়ণগঞ্জ জেলায় যদি সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোন নার্সিং ইনস্টিটিউট হয় তবে নারায়ণগঞ্জবাসীর আর ভালো বা মানসম্পূর্ণ সেবা পেতে ঢাকা বা অন্য দেশে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. এহসানুল হক মুকুলের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেনি।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম