Sat, 18 Aug, 2018
 
logo
 

বিয়ের আগে বাধ্যতামূলক রক্তপরীক্ষার দাবী

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ৮ মে বিশ্ব থ্যালাসিমিয়া দিবস। এ উপলক্ষ্যে বিয়ের আগে রক্তপরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবী জানিয়ে সোমবার(৭ মে) রাজধানীর সিরডাপ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে একটি সেমিনার আয়োজন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ থ্যালাসিমিয়া ফাউন্ডেশন। এবারের বিশ্ব থ্যালাসিমিয়া দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয়- “বিয়ের আগে পরীক্ষা করলে রক্ত, সন্তান থাকবে থ্যালাসিমিয়া মুক্ত”।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, জনাব জাতিদ মালিক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আকতারী মমতাজ, সচিব, বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন সচিবালয় এবং ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, সভাপতি, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন। অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ থ্যালাসিমিয়া ফাউন্ডেশনের মহাসচিব ডা. মো. আবদুর রহিম।

 

থ্যালাসিমিয়া একটি বংশগত রক্তের রোগ। থ্যালাসিমিয়া আক্রান্ত রোগীদের শরীরে রক্তের পর্যাপ্ত পরিমাণে হিমোগ্লোবিন তৈরি হয় না। ফলে এদের মারাত্মক রক্তশুন্যতা দেখা দেয়। সাধারণত জন্মের ১-২ বছরের মধ্যে শিশুদের থ্যালাসিমিয়া রোগ ধরা পড়ে। থ্যালাসিমিয়া রোগীদের বেঁচে থাকার জন্য প্রতি মাসে ১-২ ব্যাগ রক্ত গ্রহণ করতে হয়। চিকিৎসা না করা হলে থ্যালাসিমিয়া রোগী ১০-১৫ বছরের মধ্যে মারা যায়।

 

বাংলাদেশে থ্যালাসিমিয়া একটি নীরব মহামারী। দেশের জনসংখ্যার ৭% থ্যালাসিমিয়া রোগের বাহক। অর্থাৎ, ১ কোট ১০ লাখেরও বেশী লোক থ্যালাসিমিয়া জিন বহন করছে। প্রতি বছর বাংলাদেশে ৭০০০ শিশু থ্যালাসিমিয়া নিয়ে জন্মগ্রণ করে। এ রোগে আক্রান্ত মারাত্মক রোগীর সংখ্যা প্রায় ৬০,০০০।

 

সকাল ১০ টায় থ্যালাসিমিয়া রোগী, অভিভাবকদের অংশগ্রহণে জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে সিরডাপ পর্যন্ত একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালী দিয়ে অনুষ্ঠান সূচনা করা হয়।

মূলপ্রবন্ধ আলোচনায় ডা. মো. আবদুর রহিম বলেন, “থ্যালাসিমিয়া একটি বংশগত রোগ। স্বামী-স্ত্রী দুজনই থ্যালাসিমিয়া বাহক হলে সন্তানদের এই রোগ হতে পারে। কিন্তু, যদি স্বামী-স্ত্রী দুজনের একজন বাহক হন এবং অন্যজন সুস্থ হন, তাহলে তাদের সন্তানদের থ্যালাসিমিয়া হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই”।

 

তিনি আরো বলেন, “বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১৭ লক্ষ বিয়ে হয়। বিয়ের আগে বাধ্যতামূলক রক্ত পরীক্ষা করা হলে ঝুঁকিপূর্ণ দম্পতি নির্ণয় করা সম্ভব এবং এই সব পরিবারকে থ্যালাসিমিয়ার প্রকোপ থেকে বাঁচানো সম্ভব।” আকতারী মমতাজ, সচিব, বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন সচিবালয় বলেন, “থ্যালাসিমিয়া রোগ মোকাবিলা করার জন্য সরকারের একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন”। তিনি জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেন।


ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন সংসদ সদস্য ও সভাপতি, বাংলাদেশ মেডিকেল এ্যাসোসিয়েশন বলেন, থ্যালাসিমিয়া প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা রয়েছে। সন্তান গ্রহণের ইচ্ছুক সব দম্পতিদের থ্যালাসিমিয়া স্ক্রিনিং করতে পরামর্শ দিতে হবে। তিনি স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞগণকে এ বিষয়ে সক্রিয় হওয়ার অনুরোধ জানান।

 

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, জনাব জাহিদ মালিক বলেন, “থ্যালাসিমিয়া প্রতিরোধের জন্য আমাদের বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। এ বিষয়ে সরকারীভাবে ব্যাপক প্রচারণা করতে হবে। সচেতনতা বাড়লে ধীরে ধীরে মানুষ বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা মেনে নিবে। বিয়ের আগে বাধ্যতামূলক রক্ত পরীক্ষার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ নিতে হবে। তিনি সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা করে থ্যালাসিমিয়া রোগীদের প্রয়োজনীয় ্ঔষধে ভর্তুকি প্রদানের আশ্বাস দেন।”

 

সভাপতির বক্তব্যে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, থ্যালাসিমিয়া প্রতিরোধে সরকার ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। ১০ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে ২০২৮ সালের মধ্যে দেশ থেকে থ্যালাসিমিয়া প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি জাতীয় কর্মসূচী ঘোষনা করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম