Tue, 11 Dec, 2018
 
logo
 

এসব ডাক্তার থেকে সতর্ক থাকুন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: এমবিবিএস ডাক্তার! পরিচয় রয়েছে- সিএমইউ (সার্টিফিকেট এন মেডিকেল আল্ট্রাসাউন্ড) এবং সনোলজিস্ট ডিগ্রিধারী হিসেবেও। প্রতিদিনে অসংখ্য রোগী দেখেন তিনি। দেন ব্যবস্থাপত্র। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করান নিজেই। পাশাপাশি রোগীর অপারেশনও করেন নিজ হাতে।

বহুমুখী চিকিৎসা সেবা দেয়া এই ডাক্তারের নাম মাহবুব আলম ভূঁইয়া। নামের সঙ্গে ডাক্তারি পেশা সংক্রান্ত বিভিন্ন ডিগ্রি উল্লেখ থাকলেও আসলে তিনি এসএসসি পাস। এমবিবিএস দূরের কথা পা পড়েনি কলেজ আঙিনায়ও। অথচ ডাক্তার সংক্রান্ত কোনো ডিগ্রি না থাকলেও মাত্র ২৪ বছর বয়সেই রপ্ত করে ফেলেছেন প্রতারণার নানা কৌশল। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।

গত ২০১৭ সালের ১১ মে মাহবুব আলমকে বন্দর উপজেলার একতা সুপার মার্কেটের ‘মা হসপিটালস অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ থেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) আটক করে। কিন্তু তারপরেও স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নে পরিবর্তন আনতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা।

শুধু মাহবুব আলম ভূঁইয়া নয়, গত ২০১৫ সালে ২০ মে চলতি বছরের ১৪ মার্চ পর্যন্ত শহরে ৬ ভূয়া চিকিৎসক’কে আটক করেছে। তারা সকলেই নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার অভিজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

জানা গেছে, ২০১৫ সালে ২০ মে শহরের খাঁনপুর এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত মেডিপ্যাথ মেডিকেল সার্ভিসে অভিযান চালিয়ে ভুয়া ডাক্তার আটক করে প্রশাসন। ২০১৬ সালের ১০ অক্টোবর ন্যাশনাল মেডিক্যাল সেন্টারে অভিযানে ভুয়া ডাক্তার গৌরি চাঁদ পন্ডিত ওরফে সুবীর (৪০) আটক করা হয়। একই বছরের ৮ জুন গোদনাইল চৌধুরীবাড়ি বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত জনস্বাস্থ্য জেনারেল হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে মোবারক ইসলাম (৪০) নামে এক ‘ভুয়া’ ডাক্তারকে কারাদন্ড দেন ভ্রাম্যমান আদালত। ২০১৭ সালের ১১ মে ভুয়া এমবিবিএস ডাক্তার মাহবুব আলমকে বন্দর থানাধীন একতা সুপার মার্কেটের ‘মা হসপিটালস অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ থেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) আটক করে। ওই বছরের ৫ ডিসেম্বর মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় অবস্থিত জামান ফার্মেসি থেকে জানে আলম নামের এক ভুয়া ডাক্তারকে আটক করে জরিমানা করে ভ্রাম্যমান আদালত।

সর্বশেষ চলতি বছরের ১৪ মার্চ শহরের খানপুরে অবস্থিত ইউনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে সনদ না থাকায় এস এম জালাল নামের ভুয়া ডাক্তারকে আটক করা হয়। তিনি ডাক্তার না হয়েও এমবিবিএস পরিচয় দিয়ে রোগীদের আল্টাসনোগ্রাম করাচ্ছিলেন।

শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা আখিঁ আক্তার নামের এক রোগী বলেন, কে ভূয়া চিকিৎসক। কে এমবিবিএস ডাক্তার তা আমাদের মতো সাধারণ মানুষ বুঝার ক্ষমতা রাখে না। তাই প্রতারিত হতে হয়। তাই আমি মনে করি, এগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগে দেখা উচিৎ।

এবিষয়ে (বিএমএ) এর নেতা ডা. শাহ নেওয়াজ লাইভ নারায়ণগঞ্জ’কে বলেন, আমরা এ বেপারে সতর্ক রয়েছি। এবিষয় গুলো দেখার দায়িত্ব স্বাস্থ্য প্রশাসনের। তারা যেকোন ধরণের সহযোগীতা চাইলেই, আমরা বিএমএ’র পক্ষ থেকে সহযোগীতা করে থাকি। এধরণের ঘটনায় কখনো কোন ছাড় দেই নি, আর দিবো না।

এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন এহসানুল হকের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্ঠা করে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম