Wed, 13 Dec, 2017
 
logo
 

মুক্তি জেনারেল হাসপাতালের উদ্যোগে প্রথম বিনামূল্যে ঠোঁট কাটা ও তালুকাটা অপারেশনের উদ্বোধন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ নগরীর মুক্তি জেনারেল হাসপাতালের উদ্যোগে প্রথম বিনামূল্যে ঠোঁট কাটা ও তালুকাটা অপারেশনের উদ্বোধন করা হয়েছে।

সোমবার সকালে নগরীর মুক্তি জেনারেল হাসপাতালে এই অপারেশনের উদ্বোধন করা হয়। এই অপারেশন কার্যক্রমের আর্থিক সহযোগিতায় রয়েছেন স্মাইল ট্রেন ইউএসএ।
মুক্তি জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক এস এম আরিফ মিহিরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব লায়ন মো: মোজাম্মেল হক ভুইয়া।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, মুক্তি জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মোহাম্মদ শাহানশাহ ভূঞা, কালার সাইনের চেয়ারম্যান ও সমাজসেবক মো: মিজানুর রহমান টুলু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে লায়ন মো: মোজাম্মেল হক বলেন, ঠোঁট কাটা ও তালুকাটা একটি মারাত্বক ব্যাধি। যারা এসব রোগে আক্রান্ত থাকে তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকে। তাদের মধ্যে সবসময় হীনমন্যতা কাজ করে। সমাজ তাদেরকে গ্রহণ করতে চাই না। তাই তাদের সহযোগিতা করা আমাদের সকলেরই উচিত।
তিনি আরো বলেন, আমি হাসপাতালকে কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই, তাদের উদ্যোগে একটি মহৎ কাজ সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। আমি সবসময় তাদের পাশে থাকবো। আমরা সবাই যার যার অবস্থান থেকে মানব সেবা করে যাবো।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন মুক্তি জেনারেল হাসপাতাল লিমিটেড এর পরিচালক ডাঃ শরিফুল ইসলাম সুজন, পরিচালক মো: কবির হোসেন, পরিচালক মোঃ তোফাজ্জল হোসেন। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন সংগঠক প্রদীপ কুমার দাস।
বিশেষ অতিথি বক্তব্যে মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, আমি এ এলাকার মানুষ। আমি সবসময় এলাকাবাসীর পাশে থাকতে চাই। এই রকম একটি মহৎ কাজে সম্পৃক্ত হতে পেরে আমি নিজেকে গর্বিত মনে করছি। আপনাদের জন্য আমার দরজা সবসময় খোলা থাকবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই মহৎ উদ্যোগে আমি নিজেও অনুপ্রাণিত হয়েছি।
জানা যায়, বিনামূল্যে ঠোঁট কাটা ও তালুকাটা অপারেশন উপলক্ষে ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা করা হয়েছে। আজকে এই অপারেশন শুরু হয়েছে এবং অনির্দিষ্টকাল সময় পর্যন্ত এই অপারেশন চালু থাকবে।
অপারেশন সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয় আমেনার কাছে। তার স্বামী মোস্তফা অটোচালক। তিনি তার ছেলে সৌরভকে নিয়ে এসেছেন অপারেশন করানোর জন্য। তিনি বলেন, এটা খুবই ভাল উদ্যোগ। কারণ কোন বাবা-মা চান না তার সন্তান এসব রোগে আক্রান্ত থাকেন।
কথা হয় পপির সাথে। তিনি তার ছেলে তায়িফকে ইঞ্জিনিয়ার বানাতে চান। তিনি বলেন, আমাদের সন্তানরা হচ্ছে দেশের ভবিষ্যত। তারা যদি এসব রোগে আক্রান্ত থাকে তাহলে আমার দেশের জন্য অকল্যাণকর। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই এই রকম একটি মহৎ উদ্যোগ হাতে নেওয়ার জন্য।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম