Thu, 23 Feb, 2017
 
logo
 

আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীদের ন্মিমানের খাবার সরবরাহর অভিযোগ উঠেছে

আড়াইহাজার করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমল্পেক্রায়ে রোগীদের মধ্যে সরবরাহ করা খাবারের মান ও পরিমাণ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। ফলে রোগীরা পাচ্ছেন না নিয়মমাফিক খাবার।

একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পর পর ৭ বছর ধরে খাবার সরবরাহ করে আসছে। এর আগে আরও কয়েকবার একই হাসপাতালে তিনি খাবার সরবরাহের কাজ পেয়েছিলেন।
জানা গেছে, রোগীপ্রতি খাবারের মূল্য বর্তমানে এসে দাঁড়িয়েছে ১২৫ টাকায়। স¦াধীনতান পর থেকে কয়েক দফা অর্থ বরাদ্দ বাড়লেও খাবারের মান ও পরিমাণ বাড়েনি বলে মনে করেন সচেতন মহল। নিয়মানুযায়ী প্রতিদিন পূর্ণবয়স্ক সাধারণ একজন রোগীর জন্য বরাদ্দ চাল (মিনিকেট) ৩৫০ গ্রাম, ডাল (মশুরি) ২৫ গ্রাম, তৈল ১০ গ্রাম, গোল আলু ১৫০ গ্রাম, তরকারি ১৫০ গ্রাম, হলুদ ২০ গ্রাম, মরিচ ২০ গ্রাম, পেঁয়াজ ২৫ গ্রাম, রসুন ২০ গ্রাম, লবণ ৩৩ গ্রাম, মসলা ১ গ্রাম, মাছ প্রকারভেদে ১১০ গ্রাম থেকে ১৪০ গ্রাম ( রুই,ও পাঙ্গাশ মাছ), মাংস (মুরগি)বয়লার ১০০ গ্রাম, ৭০ গ্রাম, পাউরুটি ১৪০ গ্রাম, কলা ১টি (সবরি-সাগর), ডিম ১টি (ফার্ম)। গাভীর দুধ,১.৫ লিটার, চিনি ১৪০ গ্রাম। এছাড়া বিশেষ দিবসে উন্নত খাবার বিতরণ করার নিয়ম ।

আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীদের ন্মিমানের খাবার সরবরাহর অভিযোগ উঠেছে

কাগজে কলমে এসব হিসাব-নিকাশ ঠিক থাকলেও বাস্তবে মানা হচ্ছে না কিছুই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রোগী অভিযোগ করেন, হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করা খাবার তারা অনেকেই খেতে পারেন না। নির্ধারিত মাছের বদলে দেয়া হয় শুধু পাঙ্গাশ মাছ। প্রায় প্রতিদিনই একই ধরনের সবজি ও র্ফামের মুরগী ও মাংস দেওয়া হয়। একাধিক রোগীদের অভিযোগে ও নমুনা সংগ্রহ করে দেখা গেছে, রান্না করা ডিম প্রায়ই থাকে নষ্ট। ভালো করে মাছ না ধোয়ায় আঁশ থেকে যায়। গন্ধযুক্ত রুটি ও ভাত থেকে খারাপ গন্ধ বের হয়ে আসে।নাম প্রকাশে ইচ্ছুক না, হাসপাতালে কর্মরত একজন ডাঃ বলেন,  সরবরাহ করা এসব খাবার রোগীদের অপুষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১২টা থেকে ১টার সময়ের মধ্যে রোগীদের খাবার তিরণের নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। প্রতিদিন এসব মনিটরিং করার কথা কিন্তু সেখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মনিটরিং করছে সপ্তাহে মাত্র একবার। ঠিকাদার জাকির হোসেন অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি সিডিউল অনুসারেই খাবারের মালামাল সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেই। একাধীক বার খাবার বিতরণ, কোন প্রতিষ্ঠানের নামে টেন্ডার পেয়েছেন উঃ প্রতিষ্ঠানের নাম না বলে এড়িয়ে জান। বলেন, দরপত্র দাখিলের ক্ষেত্রে বরাবরই প্রতিযোগিতায় অন্যান্য অংশগ্রহণকারীরা তার চেয়ে পিছিয়ে থাকায় কর্তৃপক্ষ তাকে মনোনীত করে। তাই নিয়ম মাফিক পেয়ে থাকি। আপনার কোন সমস্যা থাকলে আমার সাথে দেখা করেন।
 সরেজমিনে দেখা যায়,একাধীক রোগী বাহির থেকে খাবার কিনে এনে খাচ্ছেন। এছাড়া হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধ না থাকায় বাইরের দোকান থেকে বেশিরভাগ ওষুধ কিনতে হয় রোগীদের। হাসপাতালেরএক্ররে মেশিন প্রায়২ বছর যাবৎ নষ্ট অবস্থায় পরে আছে। ব্যবস্থাপনার অভাবে প্রায়ই নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থাকে সব সময়। উপজেলার সিন্দী গ্রামের আঃ লতিফ বলেন, এখানে যে ওষুধ দেয় তাতে কিছুই হয় না, প্রায়ই সব ওষুধ বাহিরের দোকান থেকে কিন্না আনতে হয়। কাহান্দী গ্রামের মনছুর বলেন, হাসপাতালের বিতরণ করা খাবার খাইনা বাড়ি থেকে এনে খাই। এমনেই অসুস্থ্য হাসপাতালের খাবার খাইলে আরও অসুস্থ্য হইয়া জামু। যত তারা তারি বাড়ি জামু ততই ভালো।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমল্পেক্রয়ের আবাসিক মেডিকেল অফিসার হাবিব ইসমাইল ভ’ইয়া জানান, খাবার নিয়ে অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরবরাহের চেয়ে রোগীর সংখ্যা বেশি। আড়াইহাজারের ২টি পৌরসভাসহ ১০টি ইউনিয়নের প্রায় ৫ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার ভরসাস্থল আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্স। হাসপাতালের লোকবলের অভাবে কিছুটা ব্যহত হচ্ছে। ঔষধ সরকার যা দিচ্ছে আমরা তাই বিতরন করচ্ছি, সরকারী তালিকার বাহিরে যদি রোগীদের ঔষধ লাগে সেটাতো বাহির থেকেই কিনতে হবে।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম ২৪