Mon, 26 Jun, 2017
 
logo
 

আন্তর্জাতিক মন্দাতেও শ্রমিকরা অর্থনৈতিক চাকা সচল রেখেছে- জিএম ফারুক

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি (অর্থ) জিএম ফারুক বলেন, যক্ষ্মায় আক্রান্ত রোগীর হার তেমন বেশি নয়৷ কিন্তু আমরা রোগীদের খবর না জানলে তারা অন্যদেরও সংক্রমিত করতে পারেন৷

আমরা সচেতন হলে অতি সহজেই যক্ষ্মা থেকে প্রতিকার পেতে পারি। বিকেএমইএ’র যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম প্রকল্পে গার্মেন্টসের মিডলেভেল ম্যানেজমেন্ট কর্মকর্তাদের যক্ষ্মা বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি মূলক কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের বিসিক শিল্পাঞ্চল এলাকার বিকেএমইএ’র হেলথ কেয়ার সেন্টারে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

যক্ষ্মায় আক্রান্ত শ্রমিকদের দূরে ঠেলে না দিয়ে তাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জিএম ফারুক আরো বলেন, শ্রমিকদের রোগ প্রতিরোধে সচেতন করবেন। যে ভাবে আপনাদের ভাই-বোনদের সেবা যত্ন করেন সেই ভাবে তাদের প্রতি সচেতন হবে। এতে তাদেরও আন্তরিকতা বাড়বে। আর আমাদের শিল্পও এগিয়ে যাবে।

কর্মশালায় যক্ষা বিষয়ে বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন জেলা সিভিল সার্জন ডা: আশুতোষ দাস, এছাড়াও এসময় উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএ’র যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প এর প্রজেক্ট ম্যানেজার মো: রেজাউল করিম, মেডিক্যাল অফিসার এক্সরোট্রে গ্রুপ ডা: ফারহানা হক, ব্র্যাকের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন অ্যাকাউন্ট এন্ড ফিন্যান্সের উপ-পরিচালক সামসুল আরোফিন প্রমুখ।

জিএম ফারুক আরো বলেন, আমাদের শিল্পকে ধ্বংস করতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র চলছে। আমরা শ্রমিক ভাইদের মুর্খ বলি। কিন্তু একটু চিন্তা করি না ঐ মুর্খ শ্রমিকরাই একটি কাগজের ডিজাইন দেখে নিজের মেধা দিয়ে বিদেশী ক্রেতাদের নির্ভূল ভাবে পোষাক তৈরি করে থাকে। এ থেকে আমাদের আয় হয় প্রচুর পরিমানে বৈদেশী মূদ্রা। আন্তর্জাতিক মন্দাতেও আমাদের অর্থনৈতিক চাকা সচল রেখেছে। বিশ্বে পোশাক শিল্প বাংলাদেশ দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। শ্রমিকরা দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে কিন্তু তারা জীবন ধারণের জন্য সুস্থ্য পরিবেশ পায় না। তাদের এই অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে আমাদের আজকের পোশাক শিল্পের এ অবস্থান। তাদের পাশে দাঁড়াতেই বিকেএমইএ’র এ প্রয়াস। আগামীতে শ্রমিক ভাই বোনদের উন্নত চিকিৎসার জন্য এ হেলথ কেয়ারটিকে পূর্ণাঙ্গ যক্ষা হাসপাতালে রূপান্তর করা হবে বলে আশা প্রকাশ করছি।
 
বিকেএমইএ’র হেলথকেয়ার মানব কল্যাণে কাজ করছে উল্লেখ করে বিশেষ অতিথি জেলা সিভিল সার্জন ডা: আশুতোষ দাস বলেন,  এখান এসে অসংখ্য গার্মেন্টস শ্রমিকরা এই যক্ষ্মা রোগ থেকে মুক্তি পাবে। বিনা খরচে এই রোগের চিকিৎসা করা হয়। যক্ষ্মা হলে বা তার লক্ষণ দেখা দিলে সাথে সাথে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
 
বিকেএমইএ, বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ব্র্যাকের সহযোগিতায় কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন গার্মেন্টের মালিক ও প্রতিনিধিবৃন্দ।
 
প্রসঙ্গত, বিকেএমইএ’র পক্ষ হতে ৫’শ ৬০টি প্রতিষ্ঠানের মিডলেভেল ম্যানেজমেন্ট কর্মকর্তাসহ ৬২ হাজার ৩’শ ১৪জন শ্রমিককে এ প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। যাদের মধ্যে ১ হাজার ৬শ  ৯৩ জনের কফ পরীক্ষা করে ২’শ ১৩জনের যক্ষ্মা সনাক্ত করা হয়। এদের মধ্যে ২জনের মৃত্যু ও ৮৮ জনের চিৎকিসা চলছে। ১৪১ জন সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছে।
 
কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও অ্যাকাউন্ট অফিসার পাভেজ ইকবাল। যক্ষা বিষয়ে বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন উপস্থিত ডাক্তারগণ।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম ২৪