Thu, 17 Aug, 2017
 
logo
 

৩’শ শয্যাকে মেডিকেল কলেজ করতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে সেলিম ওসমানের বৈঠক


লাইভ নারায়ণগঞ্জ: খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালকে আধুনিকায়ন ও মেডিকেল কলেজে রূপান্তরিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি হাসপাতালটি পরির্দশনে আসছেন।

সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের প্রস্তাবনার পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নির্দেশনায় ওই প্রতিনিধি দলটি যেকোন দিন হাসপাতালটি পরিদর্শনে আসতে পারেন। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন প্রতিনিধি দলটি।
গত মঙ্গলবার ১৫ নভেম্বর রাতে ঢাকায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সাথে তার বাসায় স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানে দীর্ঘ সময়ের আলোচনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এ কথা বলেছেন। ওই প্রতিনিধি দলের প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজে খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালটি পরিদর্শন করবেন এবং আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করতে হার্ট, কিডনি, বার্ণ ইউনিট, প্রসূতি ও শিশু বিভাগে উন্নত সেবা প্রদানে  দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহন করবেন। পাশাপাশি শহরের ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালটির প্রয়োজনীয় উন্নয়ন করা হবে।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার রাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সাথে খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালকে আধুনিকায়ন ও মেডিকেল কলেজে রূপান্তর করার লক্ষ্যে হাসপাতালের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘ সময় ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমার অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী জানিয়েছে যে কোন মুহুর্তে স্বাস্থ্যমন্ত্রনালয়ের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দল খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালটি পরিদর্শনে যাবেন। তাদের দেওয়ার প্রতিবেদন হাতে পেলে সরেজমিনে হাসপাতাল পরিদর্শনে আসবেন মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরে তিনি হাসপাতালটিকে প্রথম ধাপে আধুনিকায়ন ও উন্নত সেবা প্রদানে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন সহ মেডিকেল কলেজের পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া কাজ সম্পন্ন করবেন।

৩’শ শয্যাকে মেডিকেল কলেজ করতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে সেলিম ওসমানের বৈঠক
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সম্পর্কে সেলিম ওসমান আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জে যখন টেলিযোগাযোগের দুরাবস্থা ছিল তখন মোহাম্মদ নাসিম তৎকালীন সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী থাকাকালীন সময় নারায়ণগঞ্জের সমস্যা সমাধানে ১০ হাজার ডিজিটাল টেলিফোন লাইন স্থাপন করেছেন এবং তখন আমাদের ব্যবসায়ীদের পণ্য বেনাপোল বর্ডার দিয়ে আনা নেওয়া করা হতো। তাই নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ীদের সুবির্ধাথে আমার অনুরোধে বেনাপোল এলাকাতেও ডিজিটাল টেলিফোন লাইন স্থাপন করে দেন। এছাড়াও উনি স্বরাষ্টমন্ত্রী থাকাকালীন সময় নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রি ও বিকেএমইএ এর নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে ব্যবসা বাণিজ্যকে সন্ত্রাসীদের কবলমুক্ত করে ব্যবসা বান্ধন পরিবেশ ফিরিয়ে দেন এবং ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জ পুলিশকে দুটি পিকাপ ভ্যান প্রদান করা হয়। ফলে নারায়ণগঞ্জে ব্যবসায়ের কাজে ব্যবহৃত ট্রান্সপোর্ট রিকুজিশন বন্ধ হয়ে যায়।
সব থেকে বড় বিষয়টি হচ্ছে নারায়ণগঞ্জবাসীর দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে ও তৎকালীন সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের নেতৃত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সার্বিক সহযোগীতায় নারায়ণগঞ্জ থেকে ৪০০ বছরের কলংঙ্ক টানবাজার পতিতাপল্লী উচ্ছেদের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জকে কলংঙ্কমুক্ত করেছেন। উনার এমন কর্মকান্ডে স্পষ্ট প্রতিয়মান হয় যে নারায়ণগঞ্জের প্রতি উনি কতটা উদার। তাই খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল উনার ছোয়া পেলে খুব দ্রুত আধুনিক সেবা প্রদানের পাশাপাশি মেডিকেল কলেজের রূপ পাবে বলে আমি আশাবাদী।
আমি নারায়ণগঞ্জের সকল সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় সকল জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে হাসপাতালটি মেডিকেল কলেজে রূপান্তরিত করার কাজটি সম্পন্ন করতে চাই। তাই আমি সকলের সহযোগীতা কামনা করছি।
প্রসঙ্গত, খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের উন্নয়নে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান তার ব্যক্তিগত তহবিল এবং ব্যবসায়ীদের সহযোগীতায় ২টি নতুন অ্যাম্বুলেন্স, ৮৫টি বৈদ্যুতিক পাখা, সার্বিক নিরাপত্তায় ৬৩টি সিসি টিভি ক্যামেরা, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পেতে অচল জেনারেটর সচল, বিশুদ্ধ খাবার পানির নিজ ডিপটিউবওয়েল, সম্মেলন কক্ষ আধুনিকায়ন, ডাক্তারদের ডিজিটাল হাজিরা মেশিন সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড সম্পন্ন করেছেন।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম ২৪