Tue, 17 Jan, 2017
 
logo
 

তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেই জেলার ফার্মেসিগুলোতে: ঔষুধ সেবনের পর রোগী সুস্থ না হয়ে উল্টো ক্ষতির আশঙ্কা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ : জেলার ঔষধের ফার্মেসির অধিকাংশগুলোতেই তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রনের কোন ব্যবস্থা নেই। ঔষধ বিক্রি হচ্ছে অনিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রা পরিবেশে। এতে ঔষধের সঠিক গুনাগুন মান থাকছেনা।

এসব ঔষধ সেবনে রোগীর সুস্থতার বদলে উল্টো ক্ষতির আংশকা থেকে যাচ্ছে। ঔষধের গুনাগুন সঠিক রাখতে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রনের ব্যবস্থা বাধ্যতামুলক থাকলেও দোকানীরা এর সু ব্যবস্থা করছেনা। অন্যদিকে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারী না থাকায় ঔষধ বিক্রেতারা এ বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে না। আবার অনেকে ব্যবসায়ী তার ঔষধের দোকানে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রন করতে এ বিষয়ে জানেনই না।

ঔষধ বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত তিন ধরনের তাপমাত্রায় ঔষধ সংরক্ষণের নিয়ম রয়েছে। বায়োলজিক্যাল বা ভ্যাকসিন-জাতীয় ওষুধ ৪-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখতে হয়। আর অ্যান্টিবায়োটিক-জাতীয় ওষুধ রাখতে হয় ১২-২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়।  তবে কিছু ওষুধ স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখা যায়। স্বাভাবিক তাপমাত্রা বলতে ২৫ ডিগ্রি থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে বোঝায়। এর ব্যতিক্রম হলে এসব ওষুধ সেবনের পর রোগী সুস্থ হবেই না, উল্টো অসুস্থ হয়ে নীরবে ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়।

তাদের মতে, কারখানায় মানসম্পন্ন ঔষুধ উৎপাদন হলেও তাপমাত্রা অনিয়ন্ত্রিত ফার্মেসি থেকে এসব ওষুধ সংগ্রহ করে রোগীরা মান সম্পন্ন ঔষুধ গ্রহণ করতে পারছেন না। ফলে রোগী সুচিকিৎসা পাচ্ছে কি-না, তা নিয়ে গভীর সন্দেহ থেকেই যায়।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকার কিছু ফার্মেসির বিক্রেতাদের সঙ্গে ক্রেতা সেজে কথা বললে খানপুরে অবস্থিত দ্বীপ্ত ড্রাগ হাউজের ঔষধ বিক্রেতা জানান, প্যাকেটের গায়ে লেখা থাকে আলো থেকে দূরে রাখুন, শুষ্ক স্থানে রাখুন এসবই মানা হয়। আর কি, আর তো কিছু করা লাগে না। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে উত্তর আসে- কিছু ওষুধ ফ্রিজে রাখা দরকার হয়, সেগুলাই রাখি। বাকিগুলো শীত হোক, গরম হোক, সেলফেই থাকে।
হৃদয় মেডিকেল হলের এক দোকানির কাছে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি উল্টো প্রশ্ন করেন- এ নিয়ম কোথায় পেলেন, এতো বছর ধরে ওষুধ বেচি, কিন্ত জীবনেও শুনিনি। শোনেন, সব ওষুধ তো ফ্রিজে ঢোকানো সম্ভব না।

এ বিষয়ে বিএমএ’র সভাপতি ডা: শাহ নেওয়াজ বলেন, সুচিকিৎসার কথা যদি বলতেই হয়, নিশ্চিত যদি করতেই হয়, তবে ফার্মাসিউটিক্যাল কেয়ার নিশ্চিত করতেই হবে। ডাক্তার রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করবেন, নার্স চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী সেবা-যতœ নেবেন, আর ফার্মাসিস্ট ওষুধ সম্পর্কিত কার্যাবলি সম্পন্ন করবেন। যেটা চিকিৎসক, নার্সের পক্ষে করা সম্ভব হবে না। মেডিকেল কেয়ার, নার্সিং কেয়ার, ফার্মাসিউটিক্যাল কেয়ারকে ত্রিকোণ করা হয়। আর এর মধ্যে যদি রোগীকে রাখা হয়। সে রোগীই সুচিকিৎসা পাবে। তিন প্রফেশনকে এক ছাতার নিচে আনা উচিৎ। যতই সুচিকিৎসার কথা বলা হোক, ওষুধ ছাড়া তো সম্ভব না। প্রতিটি ঔষধ সংরক্ষনে ঔষধের নির্দেশিত তাপমাত্রায় রাখা না হলে সেসবের গুণগত মান নষ্ট হতে থাকবে। এতে মেয়াদের উত্তীর্ণের তারিখে কিছু যাবে আসবে না।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাস নির্ধারিত তাপমাত্রার মধ্যে ঔষধ সংরক্ষন না করলে এর গুনগুত মান বিনষ্ট হতে পারে বলে জানান। তিনি আরো বলেন এর প্রতিরোধে রুটিন মাফিক প্রতিমাসে ২/৩ বার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম ২৪