Mon, 27 Mar, 2017
 
logo
 

ভুল চিকিৎসায় বাক ও স্মৃতি শক্তি হারাল কলেজ ছাত্র সাকিব


বন্দর করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের সরকারী তোলারাম বিশ^বিদ্যালয়ের ২য় বর্ষের ছাত্র সাকিব হোসেন। তিন মাস আগেও যে ছিল সুস্থ সবল এক কিশোর। যার ভেতরে ছিল কৈশোরের দুরন্তপনা। চলতে ফিরতে আর কথা বলতে পারত অত্যান্ত সাবলিলভাবে।

কোন জড়তা ছিলনা। সেই সাকিবের মুখে আজ কোন রা শব্দ নেই। নেই সেই দুরন্তপনা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের ডি ব্লকের ১৩ তলার নিউরোলজি বিভাগের ৬ নং বেডে শুয়ে অজানা বিপদ আশংকায় এখন প্রহর গুণছে সে। নারায়ণগঞ্জে এক ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় বাক ও স্মৃতি শক্তি হারিয়েছে ১৭ বছরের এই কিশোর। কিছু জিজ্ঞেস করলে ফ্যাল ফ্যাল করে শুধু তাকিয়ে থাকে। কোন জবাব দিতে পারেনা। ৩ জুলাই নাকে অপারেশনের পর থেকে তার এই করুণ দশা বলে বলে জানান সাকিবের পরিবার।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ^বিদ্যালয়ের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভুল ট্রিটমেন্টের কারণে কিশোর বয়সেই সাকিবের  ব্রেন ক্ষয়ে বৃদ্ধের মত হয়ে গেছে। কথা বলার শক্তিও হারিয়েছে সে। ভুল চিকিৎসার শিকার সাকিব নারায়ণগঞ্জের বন্দরের চৌরাপাড়া এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে। আনোয়ার হোসেন একজন স্বল্পবেতনভুক টেক্সটাইল মিল শ্রমিক বলে জানা গেছে। দরিদ্র হয়েও ছেলের চিকিৎসায় এ যাবত ব্যয় করেছেন লক্ষাধিক টাকা। কিন্তু সন্তানের রোগ নিরাময়ের কোন লক্ষণ না দেখে ভেঙ্গে পড়েছেন তিনি।
সাকিবের বাবা আনোয়ার হোসেন জানান, প্রায় তিন মাস আগে সাকিবের সর্দি জ¦র হয়। তিনি  সাকিবকে মেডিপ্লাস ক্লিনিকের ডাক্তার এস এম ইয়ারই মাহবুবের কাছে নিয়ে যান। তিনি পরীক্ষা নিরীক্ষার পর নাকের সমস্যার কথা জানিয়ে অপারেশনের পরামর্শ দেন। তার পরামর্শে  গত ১ জুলাই ছেলে সাকিব হোসেনকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নাক কান বিশেষজ্ঞ ডা. ডি জি এম আকাইদুজ্জামানের স্মরণাপন্ন হন। আকাইদুজ্জামান সাকিবকে দেখে কয়েকটি টেস্ট(পরীক্ষা) দেন। টেস্টের পর সাকিবের নাকের মাংস বেড়েছে বলে  জানান তিনি।
মেডিস্টার নামে একটি ক্লিনিকে ভর্তি এবং সেখানে নাকের অপারেশনের পরামর্শ দেন তিনি। ৩ জুলাই মেডিস্টার ক্লিনিকে সাকিবকে ভর্তি করা হয়। এরপর আকাইদুজ্জামানের নিজেই নাকের অপারেশন করেন। অপারেশনের পর তড়িঘড়ি করে সাকিবকে রিলিজ দিয়ে দেন। বাড়ি নিয়ে আসার পর শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে সাকিবকে আবারও আকাইদুজ্জামানের কাছে নেয়া হয়। তিনি ভিটামিনসহ কিছু ওষুধ দেন । ১০ দিন পর নাকের ব্যান্ডেজ খুলে দেয়া হয়। এরপর পর থেকেই কথা বলা বন্ধ হয়ে যায় সাকিবের।  দিনে দিনে মানসিক ভারসাম্য হারাতে শুরু করে সে। এরপর আরও দুই বার আকাইদুজ্জামানের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সুস্থ তার চিকিৎসায় না হয়ে অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। পরে যাত্রা বাড়ি এলাকার নাক কান বিশেষজ্ঞ ডা. কে ফয়সালকে দেখানো হয়। এরপর যাত্রাবাড়ি এলাকার ¯œায়ুরোগের চিকিৎসক ডা. মোঃ কবিরুজ্জামানকে দেখানো হয়। তার পরামর্শে সাকিবকে ভর্তি করা হয বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের নিউরোলজি বিভাগে। বর্তমানে সাকিব নিউরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এম এ হান্নানের তত্ত্বাবথানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সাকিবের বাবা জানান, অধ্যাপক ডা. এম এ হান্নান তাকে বলেছেন যে, ভুল অপারেশনের কারণে সাকিবের ব্রেন ক্ষয়ে গেছে। একই কারণে সে বাকশক্তি হারাতে বসেছে। তিনি তাকে কসাই ডাক্তারের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়ার  কথা জানান।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের  উিউটি ডাক্তার আরিফ জানান , সাকিবের নাকের অপারেশনটি ভুল ছিল। ভুল চিকিৎসার কারণে  ভাইরাল ইনফেকশন হয়েছে। ইনফেকশনের ফলে তার ব্রেন একজন বয়স্ক মানুষের মত হয়ে গেছে। ব্রেনটি ক্ষয়প্রাপ্ত। ভবিষ্যৎ আনপ্রেডিকটেবল।আরোগ্য লাভের ব্যাপারে এ মুহুর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না বলে তিনি জানান। তবে  সময়ই বলে দেবে রোগী কতটুকু ইমপ্রুভ (উন্নতি)  করতে পারবে।  এমআরআই করা হয়েছে। সমস্যা চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। ব্রেনের সঙ্গে নাকের একটা কানেকশন আছে। ভুল অপারেশনের ফলে কানেকশন বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে ডাক্তার ডি জি এম আকাইদুজ্জামান মোবাইল ফোনে  বলেন, সাকিবের অপারেশন তিনিই করেছেন। মানসিক সমস্যা হয়ে থাকলে মানসিক রোগ ডিপার্টমেন্টে দেখাতে হবে। তিনি পুনরায় রোগীসহ কাগজপত্র নিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে বলেন।
অপারেশনের পর রোগীকে আরও তিনবার তাকে দেখানো হয়েছে  বললে তিনি কোন
কথা না বলে ফোন রেখে দেন।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম ২৪